ভগবদ্গীতা ৭.৩০ | অধিভূত, অধিদৈব ও অধিযজ্ঞ তত্ত্বসহ পরমেশ্বরের উপলব্ধি
সাধিভূতাধিদৈবং মাং সাধিযজ্ঞং চ যে বিদুঃ।
প্রয়াণকালেহপি চ মাং তে বিদুর্যুক্তচেতসঃ।।৩০।।
অনুবাদঃ যাঁরা অধিভূত-তত্ত্ব, অধিদৈব-তত্ত্ব ও অধিযজ্ঞ-তত্ত্ব সহ আমাকে পরমেশ্বর ভগবান বলে অবগত হন, তাঁরা আমাতে আসক্তচিত্ত, এমন কি মরণকালেও আমাকে জানতে পারেন।
ভগবদ্গীতার অষ্টম অধ্যায়ের ত্রিশতম শ্লোকটি মানুষের জীবন, জগৎ, ঈশ্বর, কর্ম এবং মৃত্যুকে এক গভীর আধ্যাত্মিক ঐক্যের মধ্যে দেখতে শেখায়। শ্রীকৃষ্ণ বলেন, যারা তাঁকে অধিভূত, অধিদৈব এবং অধিযজ্ঞসহ তত্ত্বত জানে, সেই যুক্তচিত্ত মানুষ প্রয়াণকালেও তাঁকে জানতে পারে। এই সংক্ষিপ্ত শ্লোকের মধ্যে তাই শুধু মৃত্যুর সময় ঈশ্বরকে স্মরণ করার শিক্ষা নেই, বরং এমন এক জীবনদর্শন রয়েছে যেখানে মানুষের দেহ, জগতের পরিবর্তনশীল রূপ, মহাজাগতিক চেতনা, কর্ম এবং আত্মসমর্পণ সবকিছু পরম সত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।
শ্লোকটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদ সাধিভূতাধিদৈবং। সংস্কৃত স শব্দের অর্থ সহ বা সমেত। অধিভূত শব্দটি অধি এবং ভূত এই দুটি অংশে গঠিত। অধি অর্থ সম্পর্কিত, উপরস্থিত বা কোনো কিছুর প্রসঙ্গে এবং ভূত অর্থ যা অস্তিত্ব লাভ করেছে, সৃষ্ট সত্তা বা জগতের প্রকাশিত রূপ। গীতার অষ্টম অধ্যায়ে অধিভূত বলতে মূলত পরিবর্তনশীল এবং ক্ষয়শীল ভৌতিক অস্তিত্বকে বোঝানো হয়েছে। অন্যদিকে অধিদৈব শব্দটি অধি এবং দৈব থেকে গঠিত। দৈব অর্থ দেবতাত্মক বা মহাজাগতিক দৈব শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মাধ্যমে অস্তিত্বের সেই সূক্ষ্ম ও মহাজাগতিক স্তরকে বোঝানো হয়, যা দৃশ্যমান জগতের অন্তর্নিহিত নিয়ামক চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে সাধিভূতাধিদৈবং মাং অর্থ দাঁড়ায় অধিভূত এবং অধিদৈবসহ আমাকে জানা। এখানে কৃষ্ণ নিজেকে এমন এক পরম সত্য হিসেবে প্রকাশ করছেন, যার সঙ্গে জগতের স্থূল প্রকাশ এবং তার অন্তর্নিহিত দৈব মাত্রা উভয়ই সম্পর্কিত।
এরপর এসেছে সাধিযজ্ঞং। এই শব্দটি স এবং অধিযজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত। যজ্ঞ শব্দের মূল অর্থ উৎসর্গ, নিবেদন, উপাসনা এবং বৃহত্তর কল্যাণের উদ্দেশ্যে নিজের কর্মকে সমর্পণ করা। অধিযজ্ঞ বলতে যজ্ঞের অন্তর্নিহিত অধিষ্ঠাতা বা সেই পরম তত্ত্বকে বোঝায়, যার উদ্দেশ্যে যজ্ঞ সম্পাদিত হয়। গীতার অষ্টম অধ্যায়ের চতুর্থ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ নিজেকেই অধিযজ্ঞ বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাই এখানে একটি অত্যন্ত গভীর দার্শনিক সত্য প্রকাশিত হয়েছে। মানুষের সমস্ত কর্ম, কর্তব্য, উপাসনা এবং আত্মনিবেদনের অন্তরে যে পরম সত্তা অবস্থান করেন, তিনিই কৃষ্ণ। অর্থাৎ যজ্ঞ শুধু বাহ্যিক আচার নয়, জীবনের প্রতিটি কর্মকে পরম সত্যের উদ্দেশ্যে নিবেদন করার একটি আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি।
মাং শব্দের অর্থ আমাকে। এই ছোট্ট সর্বনামটিই সমগ্র শ্লোকের কেন্দ্রবিন্দু। কৃষ্ণ এখানে কোনো নিরাকার তাত্ত্বিক ধারণার কথা মাত্র বলছেন না। তিনি নিজেকে এমন এক পরম সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছেন, যাঁর মধ্যে অধিভূত, অধিদৈব এবং অধিযজ্ঞের বিভিন্ন স্তর একত্রিত হয়। জগতের দৃশ্যমান রূপ, তার অন্তর্নিহিত মহাজাগতিক চেতনা এবং মানুষের কর্ম ও আত্মনিবেদন যখন এক পরম কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখন বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে ঐক্যের উপলব্ধি জন্ম নেয়।
যে বিদুঃ কথাটির মধ্যেও গভীর অর্থ রয়েছে। বিদুঃ শব্দটি সংস্কৃত বিদ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ জানা বা উপলব্ধি করা। তবে গীতার আধ্যাত্মিক পরিসরে এই জানা শুধু তথ্যগত জ্ঞান নয়। ঈশ্বর সম্পর্কে বই পড়ে জানা এক বিষয়, আর নিজের অস্তিত্বের গভীরে ঈশ্বরের সত্যকে উপলব্ধি করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এখানে বিদুঃ এমন এক জ্ঞানের দিকে ইঙ্গিত করে যা বুদ্ধি, হৃদয় এবং জীবনের আচরণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। যে মানুষ সত্যকে জানে, তার জীবনেও সেই জ্ঞানের প্রতিফলন দেখা যায়।
শ্লোকের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রয়াণকালেহপি চ মাং। প্রয়াণ শব্দের অর্থ প্রস্থান বা চলে যাওয়া। প্র এবং ই ধাতুর সমন্বয়ে এর মধ্যে অগ্রসর হয়ে চলে যাওয়ার ধারণা নিহিত রয়েছে। গীতার প্রসঙ্গে প্রয়াণকাল বলতে মূলত দেহত্যাগের সময় বা মৃত্যুকাল বোঝানো হয়েছে। কিন্তু এর তাৎপর্য শুধু শারীরিক মৃত্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রয়াণ হলো জীবনের পরিচিত অবস্থা থেকে অজানা অবস্থার দিকে যাত্রা। এটি মানুষের অস্তিত্বের সবচেয়ে গভীর সীমান্ত মুহূর্ত, যখন দেহ, পরিচয়, সম্পর্ক এবং পার্থিব সমস্ত নির্ভরতার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক পরিবর্তিত হতে থাকে।
এখানে অপি শব্দটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এর অর্থ এমনকি বা সেই অবস্থাতেও। অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, শুধু স্বাভাবিক জীবনে নয়, এমনকি প্রয়াণের মতো চরম মুহূর্তেও যে মানুষ তাঁকে জানে, তার ঈশ্বরস্মৃতি অটুট থাকে। এই বক্তব্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক শিক্ষা রয়েছে। মৃত্যুর সময় ঈশ্বরকে স্মরণ করা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। জীবনের প্রতিদিনের চিন্তা, কর্ম, অভ্যাস, মূল্যবোধ এবং সাধনার মধ্য দিয়েই চেতনার একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা তৈরি হয়। যে মানুষ সারাজীবন ঈশ্বরস্মরণ, আত্মসংযম, কর্তব্য এবং আত্মনিবেদনের মধ্যে জীবন কাটায়, তার চেতনা প্রয়াণকালেও সেই দিকেই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
এই কারণেই শ্লোকের শেষ শব্দ যুক্তচেতসঃ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্ত শব্দটি যুজ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ যুক্ত করা, সংযোগ স্থাপন করা বা একত্র করা। চেতস শব্দের অর্থ চিত্ত, মন বা অন্তরের সচেতনতা। যুক্তচেতসঃ অর্থ তাই যুক্তচিত্ত বা যার চেতনা একটি পরম সত্যের সঙ্গে সংযুক্ত। গীতার ভাষায় যোগ শুধু শরীরের কোনো বিশেষ অনুশীলন নয়। যোগ হলো চেতনার পুনঃসংযোগ। মানুষের মন সাধারণত নানা আকাঙ্ক্ষা, ভয়, স্মৃতি, আসক্তি এবং ভবিষ্যতের চিন্তায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে। যোগ সেই বিচ্ছিন্নতাকে অতিক্রম করে চেতনাকে একটি কেন্দ্রে স্থাপন করে। এই শ্লোকে সেই কেন্দ্র হলেন কৃষ্ণ।
দার্শনিক দৃষ্টিতে শ্লোকটি অত্যন্ত বিস্তৃত অর্থ বহন করে। অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে জগতের বহুরূপের অন্তরে এক পরম চৈতন্য বিরাজমান। সেই দৃষ্টিতে অধিভূত, অধিদৈব এবং অধিযজ্ঞকে পরম বাস্তবতার বিভিন্ন প্রকাশ বা উপলব্ধির স্তর হিসেবে দেখা যায়। বিশিষ্টাদ্বৈত ভাবনায় জগত, জীব এবং ঈশ্বরের মধ্যে গভীর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। সেই দৃষ্টিতে কৃষ্ণকে জানা মানে সমগ্র অস্তিত্বকে ঈশ্বরনির্ভর ঐক্যের মধ্যে উপলব্ধি করা। ভক্তির দৃষ্টিতে আবার এই জ্ঞান আরও অন্তরঙ্গ হয়ে ওঠে। এখানে পরম সত্য কেবল একটি বিমূর্ত দর্শন নয়, তিনি প্রিয়তম ঈশ্বর। মানুষ তার দেহ, মন, কর্ম এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর কাছে নিজেকে নিবেদন করে।
এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থও গভীর। অধিভূতকে মানুষের দেহ এবং দৃশ্যমান জগতের প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। অধিদৈবকে দেখা যায় সেই মহাজাগতিক চেতনার প্রতীক হিসেবে, যার মধ্যে ব্যক্তিমানুষ বৃহত্তর অস্তিত্বের অংশ হয়ে ওঠে। অধিযজ্ঞ মানুষের কর্ম ও আত্মসমর্পণের প্রতীক। আর কৃষ্ণ হলেন এই তিন স্তরের ঐক্যের কেন্দ্র। অর্থাৎ দেহ, জগত এবং কর্মকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে তাদের অন্তর্নিহিত ঐক্যকে উপলব্ধি করাই এই শ্লোকের অন্যতম গভীর শিক্ষা।
মানবজীবনের ক্ষেত্রেও এর ব্যবহারিক তাৎপর্য অপরিসীম। একজন মানুষ যদি নিজের কর্মকে শুধু ব্যক্তিগত লাভের উপায় হিসেবে দেখে, তবে তার কর্মের কেন্দ্র হয়ে ওঠে নিজের স্বার্থ। কিন্তু যদি সে নিজের কাজকে কর্তব্য, সেবা এবং বৃহত্তর সত্যের উদ্দেশ্যে নিবেদন করতে শেখে, তবে একই কাজের আধ্যাত্মিক অর্থ সম্পূর্ণ বদলে যায়। তখন কর্ম আর শুধু জীবিকা নয়, যজ্ঞ হয়ে ওঠে। একজন শিক্ষক যখন শিক্ষাদানকে শুধু পেশা হিসেবে না দেখে মানুষের জীবন গঠনের একটি সেবা হিসেবে গ্রহণ করেন, একজন চিকিৎসক যখন রোগীর সেবাকে মানবকল্যাণের অংশ হিসেবে দেখেন, অথবা একজন সাধারণ মানুষ যখন নিজের দৈনন্দিন কর্তব্যকে সততা ও আত্মনিবেদনের সঙ্গে পালন করেন, তখন জীবনের সাধারণ কর্মও আধ্যাত্মিক সাধনার রূপ নিতে পারে।
শ্লোকটির আরেকটি গভীর শিক্ষা হলো মৃত্যুর প্রস্তুতি আসলে জীবনের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। যে ব্যক্তি সারাজীবন কেবল ভোগ, সম্পদ, অহংকার এবং আসক্তির মধ্যে নিজের চেতনা গড়ে তোলে, তার কাছে মৃত্যুর মুহূর্ত ভয়াবহ বিচ্ছেদের মতো অনুভূত হতে পারে। কিন্তু যে ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে নিজের অস্তিত্বকে একটি বৃহত্তর সত্যের সঙ্গে যুক্ত করতে শেখে, তার কাছে মৃত্যু সম্পূর্ণ বিলুপ্তি নয়, বরং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় প্রয়াণের মতো হয়ে উঠতে পারে। এই অর্থে প্রয়াণকাল কেবল মৃত্যুর সময় নয়, মানুষের সমস্ত বিচ্ছেদ এবং পরিবর্তনের প্রতীক।
একটি সহজ উপমা দিয়ে বিষয়টি বোঝা যায়। যে মানুষ সারাজীবন একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলে, পথের শেষপ্রান্তে পৌঁছালে তাকে নতুন করে দিক নির্ণয় করতে হয় না। তার পথচলা আগেই তার দিক নির্ধারণ করে দিয়েছে। একইভাবে জীবনের প্রতিদিনের চিন্তা ও সাধনা মানুষের চেতনার দিক তৈরি করে। যদি প্রতিদিনের জীবন ঈশ্বরস্মরণ, সত্য, কর্তব্য, আত্মসংযম এবং আত্মনিবেদনের দিকে পরিচালিত হয়, তবে প্রয়াণের মুহূর্তেও সেই চেতনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে। এই কারণেই গীতার শিক্ষা মৃত্যুশয্যার শেষ মুহূর্তের কোনো বিচ্ছিন্ন অনুশীলন নয়, বরং সমগ্র জীবনকে একটি আধ্যাত্মিক সাধনায় পরিণত করার আহ্বান।
সাহিত্যিক দৃষ্টিতেও শ্লোকটির গঠন অসাধারণ। প্রথমে জগতের স্থূল স্তর অধিভূত, তারপর মহাজাগতিক স্তর অধিদৈব, এরপর মানুষের কর্ম ও আত্মনিবেদনের স্তর অধিযজ্ঞ এবং সবশেষে এই সবকিছুর কেন্দ্র হিসেবে কৃষ্ণের উপস্থিতি। তারপর হঠাৎ দৃষ্টি চলে যায় প্রয়াণকালের দিকে। যেন সমগ্র বিশ্বজগতের আলোচনা শেষ পর্যন্ত এসে মানুষের ব্যক্তিগত মৃত্যুর মুহূর্তে মিলিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটি গভীর সত্য প্রকাশিত হয়। মানুষ যত বড় জগতের কথাই ভাবুক, শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের চেতনার মুখোমুখি হতে হয়। আর সেই চেতনার প্রকৃতি নির্ধারিত হয় সে জীবনে কীকে নিজের সর্বোচ্চ সত্য হিসেবে গ্রহণ করেছে তার দ্বারা।
সুতরাং সাধিভূতাধিদৈবং মাং সাধিযজ্ঞং চ যে বিদুঃ এই শ্লোকটি শুধু একটি ধর্মীয় বাণী নয়, এটি মানুষের অস্তিত্ব সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন। এখানে জগতকে অস্বীকার করা হয়নি, বরং জগতের অন্তরে ঈশ্বরকে দেখতে শেখানো হয়েছে। কর্মকে ত্যাগ করতে বলা হয়নি, বরং কর্মকে যজ্ঞে রূপান্তরিত করতে বলা হয়েছে। মৃত্যুকে কেবল সমাপ্তি হিসেবে দেখা হয়নি, বরং প্রয়াণ হিসেবে দেখা হয়েছে। আর জ্ঞানকে শুধু বুদ্ধির বিষয় না রেখে চেতনার রূপান্তর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত এই শ্লোকের সারকথা হলো, মানুষ যদি জগতের পরিবর্তনশীল রূপের মধ্যে, মহাজাগতিক চেতনার মধ্যে এবং নিজের প্রতিটি কর্ম ও আত্মনিবেদনের মধ্যে পরম সত্যকে উপলব্ধি করতে শেখে এবং নিজের চেতনাকে সেই সত্যের সঙ্গে যুক্ত রাখে, তবে জীবনের কোনো অবস্থাই তার কাছে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে না। তখন জন্ম, জীবন, কর্ম, পরিবর্তন এবং মৃত্যুর মধ্যেও একটি গভীর ঐক্য অনুভূত হয়। কৃষ্ণের এই শিক্ষা তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মৃত্যুর মুহূর্তে ঈশ্বরকে স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ প্রস্তুতি হলো জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে ঈশ্বরস্মরণে পূর্ণ করা। যে চেতনা জীবনের প্রতিটি স্তরকে পরম সত্যের সঙ্গে যুক্ত করতে শেখে, সেই চেতনা প্রয়াণের অন্ধকার মুহূর্তেও নিজের চূড়ান্ত আশ্রয়কে চিনতে পারে।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!