ভগবদ্গীতা ৮.১৭ | ব্রহ্মার দিন-রাত্রি, সহস্র যুগ ও মহাকালতত্ত্বের গভীর দর্শন
সহস্রযুগপর্যন্তমহর্যদ্ ব্রহ্মণো বিদুঃ।
রাত্রিং যুগসহস্রান্তং তেহহোরাত্রবিদো জনাঃ।।১৭।।
অনুবাদঃ মনুষ্য মানের সহস্র চতুর্যুগে ব্রহ্মার একদিন হয় এবং সহস্র চতুর্যুগে তাঁর এক রাত্রি হয়। এভাবেই যাঁরা জানেন, তাঁরা দিবা-রাত্রির তত্ত্ববেত্তা।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অষ্টম অধ্যায়ের সপ্তদশ শ্লোকটি ভারতীয় দর্শনের মহাকালতত্ত্বের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। শ্লোকটি হলো “সহস্রযুগপর্যন্তমহর্যদ্ ব্রহ্মণো বিদুঃ। রাত্রিং যুগসহস্রান্তাং তেহোরাত্রবিদো জনাঃ।” এই শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বোঝাচ্ছেন যে যাঁরা দিন ও রাত্রির প্রকৃত তত্ত্ব জানেন, তাঁরা জানেন যে ব্রহ্মার এক দিন সহস্র যুগব্যাপী এবং তাঁর রাত্রিও সহস্র যুগব্যাপী। বাহ্যিকভাবে এই শ্লোকটি ব্রহ্মার দিন ও রাত্রির সময়কাল সম্পর্কে একটি মহাজাগতিক ধারণা প্রদান করে। কিন্তু গভীরভাবে বিচার করলে দেখা যায়, এর মধ্যে সময়ের প্রকৃতি, সৃষ্টির চক্র, জগতের নশ্বরতা, মানুষের সীমাবদ্ধতা এবং পরম সত্যের অনুসন্ধান সম্পর্কে এক গভীর দার্শনিক শিক্ষা নিহিত রয়েছে।
“সহস্রযুগপর্যন্তম্” শব্দটির মধ্যে সহস্র, যুগ এবং পর্যন্ত এই তিনটি ধারণা একত্রিত হয়েছে। সহস্র অর্থ এক হাজার। যুগ অর্থ একটি বিশেষ কালপর্ব বা সময়চক্র। ভারতীয় ঐতিহ্যে যুগ বলতে সত্যযুগ, ত্রেতাযুগ, দ্বাপরযুগ এবং কলিযুগকে বোঝানো হয়। এই চার যুগের সমষ্টিকে চতুর্যুগ বা মহাযুগ বলা হয়। প্রচলিত পুরাণসম্মত গণনায় একটি মহাযুগের দৈর্ঘ্য চার দশমিক বত্রিশ মিলিয়ন মানববর্ষ। সেই হিসাবে এক হাজার মহাযুগের সমষ্টি চার দশমিক বত্রিশ বিলিয়ন মানববর্ষ। এই বিশাল সময়কালই এখানে ব্রহ্মার এক দিনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। “পর্যন্ত” শব্দের অর্থ শেষসীমা বা পর্যন্ত। ফলে “সহস্রযুগপর্যন্তম্” বলতে বোঝায় এমন এক দিন যার বিস্তার সহস্র যুগ পর্যন্ত।
এই শ্লোকে “অহর্” শব্দটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সংস্কৃত “অহস্” শব্দ থেকে এর উৎপত্তি এবং এর সাধারণ অর্থ দিন বা দিবস। কিন্তু এখানে দিন বলতে মানুষের পরিচিত একটি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের সময়কে বোঝানো হয়নি। এখানে “অহর্” হলো ব্রহ্মার এক মহাজাগতিক দিন। এই দিন হলো সৃষ্টির প্রকাশের একটি বিশাল পর্যায়। এর বিপরীতে “রাত্রি” শব্দটি সাধারণ রাতের অর্থে ব্যবহৃত হলেও এই প্রসঙ্গে তা ব্রহ্মার মহাজাগতিক রাত্রিকে বোঝায়। ব্রহ্মার রাত্রি এমন একটি দীর্ঘ কালপর্ব যার শেষে পুনরায় প্রকাশের পর্যায় আসে। এইভাবে দিন ও রাত্রি এখানে কেবল আলো ও অন্ধকারের পরিবর্তন নয়, বরং প্রকাশ ও অপ্রকাশের মহাজাগতিক চক্রের প্রতীক।
“ব্রহ্মণো” শব্দটি “ব্রহ্মণঃ” এর সন্ধিরূপ এবং এর অর্থ ব্রহ্মার। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। সংস্কৃতের ব্রহ্মা এবং ব্রহ্ম শব্দ দুটি দর্শনের ক্ষেত্রে এক নয়। ব্রহ্মা হলেন সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত দেবতা, আর ব্রহ্ম হল পরম সত্য বা সর্বব্যাপী চৈতন্যের ধারণা। এই শ্লোকে ব্রহ্মণো বলতে ব্রহ্মার কথাই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ব্রহ্মার দিন ও রাত্রির মহাকালিক ব্যাপ্তির কথা এখানে বলা হচ্ছে।
“বিদুঃ” শব্দটি এসেছে সংস্কৃত “বিদ্” ধাতু থেকে। “বিদ্” অর্থ জানা বা জ্ঞান লাভ করা। কিন্তু এই শ্লোকে জানা বলতে কেবল কোনো তথ্য মুখস্থ করাকে বোঝানো হয়নি। এখানে জানা বলতে তত্ত্বতঃ জানা বা প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করাকে বোঝানো হয়েছে। যাঁরা অহোরাত্রের প্রকৃত তত্ত্ব জানেন, তাঁরা বোঝেন যে প্রকাশিত জগত স্থায়ী নয় এবং সৃষ্টির প্রকাশ ও অপ্রকাশ একটি বৃহৎ কালচক্রের অংশ। তাই এই জ্ঞান কেবল সংখ্যার জ্ঞান নয়, বরং মহাবিশ্বের প্রকৃতি সম্পর্কে একটি গভীর উপলব্ধি।
“রাত্রিং যুগসহস্রান্তাম্” অংশটিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। “রাত্রি” অর্থ রাত এবং “অন্ত” অর্থ শেষ বা সমাপ্তি। “যুগসহস্রান্তাম্” বলতে বোঝায় যার অন্ত সহস্র যুগে বা যা সহস্র যুগ শেষে সমাপ্ত হয়। অর্থাৎ ব্রহ্মার দিন যত দীর্ঘ, তাঁর রাত্রিও তত দীর্ঘ। প্রচলিত মহাকাল গণনা অনুসারে ব্রহ্মার এক দিন চার দশমিক বত্রিশ বিলিয়ন মানববর্ষ এবং তাঁর এক রাত্রিও চার দশমিক বত্রিশ বিলিয়ন মানববর্ষ। ফলে একটি পূর্ণ দিন ও রাত্রির সমষ্টি আট দশমিক চৌষট্টি বিলিয়ন মানববর্ষের সমান বলে গণনা করা হয়।
শ্লোকের শেষাংশে “অহোরাত্রবিদো জনাঃ” বলা হয়েছে। “অহঃ” অর্থ দিন এবং “রাত্রি” অর্থ রাত। এই দুটি শব্দ মিলে “অহোরাত্র” অর্থাৎ দিন ও রাত্রি। “বিদ” আবার জ্ঞানী বা যিনি জানেন এই অর্থ প্রকাশ করে। “জনাঃ” অর্থ মানুষ বা ব্যক্তিবর্গ। ফলে “অহোরাত্রবিদো জনাঃ” বলতে সেই সকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যাঁরা দিন ও রাত্রির প্রকৃত তত্ত্ব জানেন। এখানে জ্ঞান বলতে মহাজাগতিক সময়ের বিশালতা এবং সৃষ্টি ও লয়ের চক্রাকার প্রকৃতি উপলব্ধি করার জ্ঞান বোঝানো হয়েছে।
এই শ্লোকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক বিষয় হলো কাল বা সময়। মানুষের কাছে সময় সাধারণত ঘণ্টা, দিন, মাস ও বছরের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। মানুষের জীবনকালও সাধারণত কয়েক দশকের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু গীতা মানুষের সেই ক্ষুদ্র সময়বোধকে হঠাৎ এক মহাজাগতিক পরিসরের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। মানুষের কয়েক দশকের জীবন যেখানে অত্যন্ত দীর্ঘ বলে মনে হতে পারে, সেখানে ব্রহ্মার এক দিনই বিলিয়ন বিলিয়ন বছরের সমান। এর মাধ্যমে মানুষের কাছে একটি গভীর সত্য প্রকাশিত হয়। মানুষের সময়বোধ অত্যন্ত সীমিত এবং নিজের জীবনের পরিসরকে সমগ্র অস্তিত্বের মাপকাঠি মনে করা একটি ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি।
ভারতীয় দর্শনের মহাকালতত্ত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর চক্রাকার প্রকৃতি। এখানে সৃষ্টি কোনো একবারের ঘটনা নয়। প্রকাশের পর অপ্রকাশ আসে এবং অপ্রকাশের পর আবার প্রকাশ ঘটে। ব্রহ্মার দিনকে সৃষ্টির প্রকাশের সঙ্গে এবং ব্রহ্মার রাত্রিকে অপ্রকাশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে মহাবিশ্বকে একটি বিশাল চক্রের মধ্যে দেখা হয়। প্রকাশ, স্থিতি ও লয়ের ধারাবাহিকতা এক বৃহৎ মহাজাগতিক ছন্দ সৃষ্টি করে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে জগতের পরিবর্তন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পরিবর্তনই অস্তিত্বের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
এই ধারণাকে মানুষের জীবনের সঙ্গেও তুলনা করা যায়। যেমন একজন মানুষ জাগ্রত অবস্থায় বাইরের পৃথিবীকে অনুভব করে এবং নিদ্রার সময় সেই বাহ্যিক অভিজ্ঞতা থেকে সরে যায়, তেমনই প্রতীকী অর্থে মহাজগতের প্রকাশ ও অপ্রকাশের মধ্যেও এক ধরনের দিন ও রাত্রির ছন্দ রয়েছে। তবে এটি কেবল একটি উপমা। গীতার মূল বক্তব্য আধুনিক মনোবিজ্ঞানের চেতন ও অবচেতন তত্ত্ব ব্যাখ্যা করা নয়। বরং এই প্রতীকী তুলনা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে প্রকাশ ও অপ্রকাশ একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত হলেও তারা একই বৃহৎ অস্তিত্বচক্রের অংশ।
এই শ্লোকের মধ্যে মানবজীবনের জন্য একটি গভীর শিক্ষা রয়েছে। মানুষ প্রায়ই নিজের জীবন, নিজের অর্জন, নিজের পরিচয় এবং নিজের সমস্যাকে সমগ্র অস্তিত্বের কেন্দ্র বলে মনে করে। কিন্তু যখন সে মহাকালের বিশালতা উপলব্ধি করে, তখন তার ব্যক্তিগত অহংকারের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে জীবন কয়েক দশকের, তা বিলিয়ন বছরের মহাজাগতিক সময়ের তুলনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র। এই উপলব্ধি মানুষকে হতাশ করার জন্য নয়। বরং তাকে বিনয়ী করার জন্য। নিজের ক্ষুদ্রতার উপলব্ধি যখন আত্মজ্ঞান সৃষ্টি করে, তখন মানুষ বাহ্যিক সাফল্যের পরিবর্তে জীবনের গভীর অর্থ অনুসন্ধান করতে শুরু করে।
একটি বালুকণাকে সমুদ্রের সঙ্গে তুলনা করলে বিষয়টি সহজে বোঝা যায়। একটি ছোট বালুকণা হাতে নিয়ে একজন মানুষ সেটিকে বিশাল বলে মনে করতে পারে। কিন্তু যখন সে সমুদ্রের অসীম বিস্তার দেখে, তখন বুঝতে পারে তার হাতে থাকা বালুকণার প্রকৃত অবস্থান কত ক্ষুদ্র। একইভাবে মানুষের জীবন তার নিজের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও মহাজাগতিক সময়ের সামনে তা ক্ষুদ্র। এই ক্ষুদ্রতা মানুষের মূল্যকে নষ্ট করে না। বরং তাকে তার অবস্থান সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি দেয়।
এই শ্লোকের আরেকটি গভীর শিক্ষা হলো দীর্ঘস্থায়ী হওয়া এবং নিত্য হওয়া এক বিষয় নয়। ব্রহ্মার এক দিন বিলিয়ন বিলিয়ন বছর দীর্ঘ হলেও সেটি অনন্ত নয়। তার শুরু আছে এবং তার শেষও আছে। একইভাবে ব্রহ্মার রাত্রিও দীর্ঘ হলেও তা চিরন্তন নয়। এর মাধ্যমে গীতা আমাদের একটি মৌলিক দার্শনিক পার্থক্য শেখায়। কোনো কিছু খুব দীর্ঘ সময় ধরে থাকলেই তা নিত্য হয়ে যায় না। যদি কোনো কিছু সময়ের অধীন হয়, তবে কোনো না কোনো অর্থে সেটি পরিবর্তনশীল। এই উপলব্ধি মানুষকে অনিত্য জগতের বাইরে নিত্য সত্যের অনুসন্ধানের দিকে নিয়ে যায়।
“দিন” এখানে প্রকাশের প্রতীক এবং “রাত্রি” অপ্রকাশের প্রতীক। দিন মানে দৃশ্যমানতা, ক্রিয়া, অভিজ্ঞতা এবং বহুত্বের প্রকাশ। রাত্রি মানে অপ্রকাশ, সুপ্ততা এবং লয়ের অবস্থা। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও দিন ও রাত্রি বহুদিন ধরে এই ধরনের প্রতীক বহন করে আসছে। গীতার এই শ্লোকে সেই প্রতীকী ভাষা মহাজাগতিক মাত্রা লাভ করেছে। তাই এটি কেবল একটি সময়ের হিসাব নয়, বরং প্রকাশিত জগতের প্রকৃতি সম্পর্কে একটি গভীর ধ্যানের আহ্বান।
এই প্রসঙ্গে “যুগ” শব্দটির তাৎপর্যও গুরুত্বপূর্ণ। যুগ শুধু সময়ের একটি একক নয়। এটি পরিবর্তনশীল মহাজাগতিক ধারার একটি পর্যায়। সত্যযুগ, ত্রেতাযুগ, দ্বাপরযুগ এবং কলিযুগের ধারণার মধ্যে মানুষের নৈতিক ও সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের কথাও প্রতিফলিত হয়। ফলে যুগের ধারণা কেবল সময়ের পরিমাণ নয়, সময়ের গুণগত পরিবর্তনের ধারণাও বহন করে। এই কারণে “সহস্র যুগ” বলতে শুধু বিপুল সংখ্যক বছর বোঝানো হয় না। এর মধ্যে একটি দীর্ঘ এবং বহুস্তরীয় মহাজাগতিক ইতিহাসের ধারণাও নিহিত থাকে।
এই শ্লোকের আধ্যাত্মিক দিকটি আরও গভীর। যদি ব্রহ্মারও দিন ও রাত্রি থাকে, তবে ব্রহ্মাও সময়ের মধ্যে অবস্থান করেন। অর্থাৎ ব্রহ্মার মহাকালিক অস্তিত্বও পরিবর্তনশীল মহাজাগতিক ব্যবস্থার অংশ। এখান থেকেই গীতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক শিক্ষা সামনে আসে। যা সময়ের মধ্যে অবস্থান করে তা নিত্য পরম সত্য হতে পারে না। ফলে মানুষের অনুসন্ধান কেবল দীর্ঘস্থায়ী কোনো অস্তিত্বের দিকে নয়, বরং সেই পরম সত্যের দিকে হওয়া উচিত যা সময়ের পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে।
এই দৃষ্টিতে শ্লোকটি মানুষের দৃষ্টিকে ধীরে ধীরে তিনটি স্তরের মধ্য দিয়ে নিয়ে যায়। প্রথমে মানুষ নিজের ক্ষুদ্র জীবনকে দেখে। এরপর সে যুগ ও মহাকালের বিশালতা উপলব্ধি করে। শেষে সে প্রশ্ন করে যে এই সমস্ত পরিবর্তনশীল কালচক্রের পেছনে কি কোনো অপরিবর্তনীয় সত্য রয়েছে। এই প্রশ্নই গীতার আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়। তাই শ্লোকটির প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল ব্রহ্মার এক দিনের দৈর্ঘ্য জানানো নয়। এর উদ্দেশ্য মানুষের চেতনার পরিসরকে বিস্তৃত করা।
সাহিত্যিক দৃষ্টিতেও শ্লোকটি অত্যন্ত শক্তিশালী। কয়েকটি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে এখানে মানুষের ক্ষুদ্র সময়বোধের বিপরীতে মহাবিশ্বের অসীমতার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। সহস্র যুগের ধারণা পাঠকের মনে এক বিশাল সময়ের চিত্র তৈরি করে। তারপর সেই দিনের সমান দীর্ঘ রাত্রির কথা বলা হয়। ফলে প্রকাশের পর অপ্রকাশ এবং অপ্রকাশের পর পুনরায় প্রকাশের এক মহাজাগতিক ছন্দ অনুভূত হয়। ভাষার সংক্ষিপ্ততার মধ্যে ধারণার এই বিশালতা শ্লোকটির সাহিত্যিক সৌন্দর্যের একটি প্রধান দিক।
সবশেষে বলা যায়, “সহস্রযুগপর্যন্তমহর্যদ্ ব্রহ্মণো বিদুঃ। রাত্রিং যুগসহস্রান্তাং তেহোরাত্রবিদো জনাঃ” শ্লোকটি মূলত আমাদের সময়কে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। এখানে সহস্র যুগের মহাকাল মানুষের সীমিত জীবনের ক্ষুদ্রতা প্রকাশ করে। ব্রহ্মার দিন ও রাত্রি সৃষ্টি ও অপ্রকাশের চক্রকে নির্দেশ করে। বিদ্ ধাতু থেকে আগত জ্ঞান ধারণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সত্যিকারের জ্ঞান কেবল সংখ্যা জানা নয়, বরং অস্তিত্বের প্রকৃতি উপলব্ধি করা। এই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা হলো যা কালের মধ্যে জন্মায়, পরিবর্তিত হয় এবং বিলীন হয় তা অনিত্য। তাই মানুষের প্রকৃত অনুসন্ধান কেবল জগতের পরিবর্তনশীল ঘটনাকে বোঝার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তাকে সেই নিত্য সত্যের সন্ধান করতে হবে যার তুলনায় ব্রহ্মার বিলিয়ন বিলিয়ন বছরের দিনও ক্ষণস্থায়ী। এই উপলব্ধিই এই শ্লোককে একটি মহাজাগতিক সময়ের বিবরণ থেকে উত্তীর্ণ করে গভীর আত্মজ্ঞান ও পরম সত্যের অনুসন্ধানের এক শক্তিশালী আধ্যাত্মিক আহ্বানে পরিণত করেছে।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!