ভগবদ্গীতা ৮.৫ | অন্তকালে ঈশ্বরস্মরণ, দেহত্যাগ ও পরম গতি লাভের আধ্যাত্মিক তত্ত্ব
অন্তকালে চ মামেব স্মরন্মুক্তা কলেবরম্।
যঃ প্রয়াতি স মদ্ভাবং যাতি নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ।।৫।।
অনুবাদঃ মৃত্যুর সময়ে যিনি আমাকে স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন, তিনি তৎক্ষণাৎ আমার ভাবই প্রাপ্ত হন। এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অষ্টম অধ্যায়ের পঞ্চম শ্লোকটি মানবজীবনের অন্তিম মুহূর্ত, ঈশ্বরস্মরণ এবং আত্মার চূড়ান্ত গতির এক গভীর আধ্যাত্মিক সত্য প্রকাশ করে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন, অন্তকালে চ মামেব স্মরন্মুক্তা কলেবরম্ যঃ প্রয়াতি স মদ্ভাবং যাতি নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ। অর্থাৎ যে ব্যক্তি অন্তিম সময়ে আমাকে একান্তভাবে স্মরণ করতে করতে এই দেহ ত্যাগ করে, সে আমার ভাব বা ঈশ্বরীয় সত্তা লাভ করে। এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। শ্লোকটি আপাতদৃষ্টিতে মৃত্যুকালে ঈশ্বরকে স্মরণ করার একটি নির্দেশ মনে হলেও এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা অনেক গভীর। এটি আসলে সমগ্র জীবন কীভাবে পরিচালিত হলে মৃত্যুর মুহূর্তে চেতনা ঈশ্বরমুখী হতে পারে, সেই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে।
অন্তকালে শব্দটি গঠিত হয়েছে অন্ত এবং কাল এই দুটি ভাবের সমন্বয়ে। অন্ত অর্থ শেষ, সীমা বা পরিসমাপ্তি এবং কাল অর্থ সময়। সুতরাং অন্তকাল অর্থ জীবনের শেষ সময় বা মৃত্যুর মুহূর্ত। কিন্তু গীতার আধ্যাত্মিক প্রেক্ষাপটে অন্তকালকে কেবল মৃত্যুর কয়েকটি শেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য সম্পূর্ণভাবে ধরা যায় না। অন্তকাল হলো এমন এক সীমান্ত মুহূর্ত যখন মানুষের পার্থিব পরিচয়, দেহকেন্দ্রিক অহংকার, সম্পদ, সম্পর্ক এবং বাহ্যিক অর্জনের সবকিছু ধীরে ধীরে তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন মানুষের অন্তর্গত চেতনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জীবনের শেষ প্রান্তে মানুষ আসলে কী ধারণ করে আছে, তার প্রকৃত প্রকাশ তখনই ঘটে।
মামেব শব্দটি মাং এবং এব এর সন্ধির ফলে গঠিত। মাং অর্থ আমাকে এবং এব অর্থ একমাত্র, শুধু বা নিশ্চয়ই। ফলে মামেব অর্থ দাঁড়ায় আমাকে একমাত্র বা কেবল আমাকেই। এখানে কৃষ্ণ সাধারণ কোনো চিন্তা বা মানসিক ধারণাকে স্মরণ করার কথা বলেননি। তিনি নিজের প্রতি একান্ত চেতনার কথা বলেছেন। এই একান্ততা ভক্তির একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য। মানুষের মন সাধারণত অসংখ্য আকাঙ্ক্ষা, ভয়, আশা, স্মৃতি এবং সম্পর্কের মধ্যে বিভক্ত থাকে। কিন্তু আধ্যাত্মিক সাধনার উদ্দেশ্য হলো সেই বিচ্ছিন্ন চেতনাকে ধীরে ধীরে একটি পরম সত্যের দিকে কেন্দ্রীভূত করা।
স্মরণ শব্দটি এই শ্লোকের কেন্দ্রীয় ধারণাগুলোর একটি। সংস্কৃত স্মরণ শব্দটি স্মৃ ধাতু থেকে এসেছে যার অর্থ মনে রাখা, স্মরণ করা বা চেতনায় ধারণ করা। কিন্তু এখানে স্মরণ বলতে শুধু মুখে ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করা বোঝানো হয়নি। প্রকৃত স্মরণ হলো হৃদয় ও চেতনার মধ্যে ঈশ্বরকে জীবন্ত সত্য হিসেবে ধারণ করা। একজন মানুষ যার কথা বারবার ভাবে, যার প্রতি তার গভীর আকর্ষণ থাকে এবং যাকে সে নিজের জীবনের কেন্দ্র করে তোলে, ধীরে ধীরে তার মন সেই ভাব দ্বারা গঠিত হয়। তাই ঈশ্বরস্মরণ কোনো আকস্মিক মৃত্যুকালীন কাজ নয়। এটি একটি দীর্ঘ আধ্যাত্মিক অভ্যাস।
মুক্ত্বা কলেবরম্ অংশে দেহের অনিত্যতার কথা প্রকাশিত হয়েছে। মুক্ত্বা অর্থ ত্যাগ করে বা ছেড়ে এবং কলেবর অর্থ দেহ বা শরীর। অর্থাৎ দেহ ত্যাগ করে। গীতার দর্শনে দেহ এবং আত্মা এক জিনিস নয়। দেহ পরিবর্তনশীল, ক্ষয়শীল এবং নশ্বর। আত্মা তার তুলনায় চিরন্তন। মানুষ যখন দেহকে নিজের সম্পূর্ণ পরিচয় মনে করে তখন জন্ম, বার্ধক্য, রোগ, মৃত্যু এবং বিচ্ছেদের ভয় তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। কিন্তু যখন সে উপলব্ধি করে যে দেহ তার প্রকৃত সত্তা নয়, তখন মৃত্যুর অর্থও তার কাছে পরিবর্তিত হয়। দেহের অবসান আত্মার অবসান নয়।
যঃ প্রয়াতি অর্থ যে ব্যক্তি প্রস্থান করে বা দেহত্যাগ করে। এখানে প্রয়াতি শব্দের মধ্যে একটি গভীর গতির ধারণা রয়েছে। মৃত্যু শুধু একটি সমাপ্তি নয়, বরং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় গমন। গীতার দৃষ্টিতে মানুষের চেতনা একটি গতিশীল শক্তি। জীবনের চিন্তা, কর্ম, আকাঙ্ক্ষা এবং সাধনা তার চেতনার অভিমুখ নির্ধারণ করে। তাই মৃত্যুকালীন চেতনা হঠাৎ সৃষ্টি হয় না। তা দীর্ঘ জীবনের অভ্যাস, সংস্কার এবং সাধনার ফল হিসেবে প্রকাশিত হয়।
মদ্ভাবং যাতি অংশটি শ্লোকটির সবচেয়ে গভীর দার্শনিক বক্তব্যগুলোর একটি। মৎ অর্থ আমার এবং ভাব শব্দটি ভূ ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার মধ্যে হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা, অবস্থা বা স্বরূপের ধারণা রয়েছে। মদ্ভাব অর্থ আমার ভাব, আমার সত্তা, আমার স্বরূপ বা আমার ঈশ্বরীয় অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়া। তাই মদ্ভাবং যাতি অর্থ ভগবানের ভাব লাভ করা, ঈশ্বরীয় সত্তার সঙ্গে যুক্ত হওয়া অথবা ঈশ্বরকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া। বিভিন্ন বেদান্ত দর্শনে এই শব্দটির ব্যাখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। অদ্বৈত দৃষ্টিতে এটি আত্মার প্রকৃত ব্রহ্মস্বরূপ উপলব্ধির দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। বিশিষ্টাদ্বৈত দৃষ্টিতে এটি ভগবানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ও ঈশ্বরপ্রাপ্তির ভাব প্রকাশ করে। দ্বৈত দৃষ্টিতে জীব ও ঈশ্বরের ভেদ বজায় রেখেও ঈশ্বরের সান্নিধ্য এবং ঈশ্বরীয় কৃপা লাভের অর্থে এটি ব্যাখ্যাত হতে পারে। ব্যাখ্যার পার্থক্য থাকলেও সব দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রে রয়েছে ঈশ্বরমুখী চেতনা।
নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ অর্থ এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই অংশটি শ্লোকটির বক্তব্যকে বিশেষ দৃঢ়তা প্রদান করেছে। কৃষ্ণ এখানে কোনো অনুমান বা সম্ভাবনার কথা বলেননি। তিনি একটি নিশ্চিত আধ্যাত্মিক সত্য ঘোষণা করেছেন। যে ব্যক্তি অন্তিম সময়ে একান্তভাবে তাঁকে স্মরণ করতে করতে দেহত্যাগ করে, তার চেতনার গতি ঈশ্বরের দিকে পরিচালিত হয়। তবে এই বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বোঝার জন্য অষ্টম অধ্যায়ের পরবর্তী শিক্ষার সঙ্গে এটিকে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। পরবর্তী শ্লোকে বলা হয়েছে যে মানুষ মৃত্যুকালে যে ভাব স্মরণ করে, সে সেই ভাবই লাভ করে। এর ফলে স্পষ্ট হয় যে অন্তিম স্মরণ হলো সমগ্র জীবনের চেতনার স্বাভাবিক পরিণতি।
এই কারণে গীতার এই শিক্ষা কেবল মৃত্যুশয্যায় ঈশ্বরের নাম নেওয়ার শিক্ষা নয়। বরং এটি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে এমনভাবে গড়ে তোলার শিক্ষা যাতে ঈশ্বরস্মরণ মানুষের স্বাভাবিক চেতনার অংশ হয়ে যায়। যে ব্যক্তি সারাজীবন সম্পদ, ক্ষমতা, প্রতিশোধ, অহংকার বা পার্থিব আকাঙ্ক্ষাকে নিজের অস্তিত্বের কেন্দ্র করে রেখেছে, তার পক্ষে মৃত্যুর মুহূর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো চেতনায় প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন। বিপরীতে যে ব্যক্তি প্রতিদিন ঈশ্বরকে স্মরণ করে, নিজের কর্মকে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নিবেদন করে এবং সুখ দুঃখের মধ্যেও ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করতে শেখে, তার অন্তিম স্মরণও ঈশ্বরমুখী হওয়ার সম্ভাবনা বহন করে।
এখানে একটি নদীর উপমা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। একটি নদী দীর্ঘকাল যে দিকে প্রবাহিত হয়েছে, তার স্বাভাবিক গতি সেই দিকেই থাকে। নদীর শেষ মুহূর্তে তার প্রবাহকে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া সহজ নয়। মানুষের মনও তেমন। জীবনের প্রতিদিনের চিন্তা এবং অভ্যাস তার চেতনার প্রবাহ তৈরি করে। তাই মৃত্যুকালে যে চিন্তা প্রবল হয়ে ওঠে, সেটি আসলে দীর্ঘদিনের মানসিক প্রবাহেরই প্রকাশ। ঈশ্বরস্মরণ তাই মৃত্যুর প্রস্তুতি নয় শুধু, এটি জীবনের প্রস্তুতি।
ভক্তিযোগের দৃষ্টিতে শ্লোকটির প্রধান শিক্ষা হলো একান্ত ঈশ্বরনিষ্ঠা। ভক্তের কাছে ঈশ্বর কেবল একটি দার্শনিক ধারণা নন। তিনি জীবনের আশ্রয়, প্রিয়তম, নিয়ন্তা এবং পরম সত্য। তাই ঈশ্বরস্মরণ মানে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা নয়। জীবনের আনন্দে তাঁকে স্মরণ করা, দুঃখে তাঁর ওপর নির্ভর করা, কর্মের ফল তাঁকে নিবেদন করা এবং নিজের অহংকারকে তাঁর সামনে সমর্পণ করাও ঈশ্বরস্মরণের অংশ। এইভাবে ঈশ্বর ধীরে ধীরে জীবনের বাইরের কোনো বিষয় না থেকে অন্তরের কেন্দ্র হয়ে ওঠেন।
জ্ঞানযোগের দৃষ্টিতে এই শ্লোক দেহ ও আত্মার পার্থক্য উপলব্ধির দিকে নিয়ে যায়। কলেবর হলো পরিবর্তনশীল দেহ, আর আত্মা হলো চৈতন্যস্বরূপ। মানুষ যখন নিজেকে কেবল দেহ বলে মনে করে তখন মৃত্যুভয় তার অস্তিত্বকে আচ্ছন্ন করে। কিন্তু যখন সে নিজের প্রকৃত আত্মস্বরূপ অনুসন্ধান করে তখন উপলব্ধি করতে পারে যে দেহের পরিবর্তন আত্মার প্রকৃত অস্তিত্বকে স্পর্শ করে না। এই উপলব্ধির সঙ্গে ঈশ্বরস্মরণ যুক্ত হলে মানুষের চেতনা পার্থিব সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার দিকে এগিয়ে যায়।
শ্লোকটির মনস্তাত্ত্বিক দিকও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের মনের মধ্যে যে চিন্তা বারবার ফিরে আসে তা ধীরে ধীরে তার মানসিক অভ্যাসে পরিণত হয়। দীর্ঘদিনের অভ্যাস সংকটের মুহূর্তে মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে নির্ধারণ করে। তাই মৃত্যুর মতো গভীর সংকটের সময় মানুষের চেতনায় তার দীর্ঘদিনের সংস্কারই প্রবলভাবে প্রকাশ পেতে পারে। গীতার স্মরণ তত্ত্ব এই বাস্তব মনস্তাত্ত্বিক সত্যকে আধ্যাত্মিক মাত্রা প্রদান করে। অর্থাৎ প্রতিদিন আমরা যা ভাবি, যা ভালোবাসি এবং যা নিয়ে বাঁচি, ধীরে ধীরে আমরা তারই দ্বারা গঠিত হতে থাকি।
প্রতীকী অর্থে কলেবর মানুষের বাহ্যিক পরিচয়ের প্রতীক। নাম, পরিচয়, পেশা, সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা এবং দেহ সবই মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এগুলো তার চূড়ান্ত পরিচয় নয়। মুক্ত্বা কলেবরম্ তাই এক অর্থে বাহ্যিক পরিচয়ের সীমা অতিক্রম করার প্রতীক। মামেব স্মরণ হলো সত্যের দিকে চেতনার প্রত্যাবর্তন। আর মদ্ভাবং যাতি হলো সেই পরম সত্যের সঙ্গে নিজের অস্তিত্বের গভীর সম্পর্ক উপলব্ধি করা।
এই শ্লোক মানুষের সামনে একটি মৌলিক আত্মজিজ্ঞাসা উপস্থিত করে। আমি জীবনের অধিকাংশ সময় কী স্মরণ করি। আমার চিন্তার কেন্দ্র কোথায়। আমার সবচেয়ে বড় ভয় কী। আমার সবচেয়ে গভীর আকাঙ্ক্ষা কী। আমি কোন বিষয়কে নিজের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি বলে মনে করি। এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই অনেকাংশে বলে দেয় আমাদের চেতনা কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই গীতার শিক্ষা মৃত্যুর কথা দিয়ে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত জীবনের কথাই বলে।
মানুষ যদি অন্তিম সময়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করতে চায় তবে তাকে জীবনের প্রতিটি সময়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। নামস্মরণ, ধ্যান, প্রার্থনা, শাস্ত্রচিন্তা, সৎকর্ম, আত্মসংযম, নিঃস্বার্থ সেবা এবং কর্মফল ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করার মাধ্যমে এই চেতনা ধীরে ধীরে গভীর হতে পারে। তখন ঈশ্বরস্মরণ কোনো কৃত্রিম প্রয়াস থাকে না। তা মানুষের স্বাভাবিক অন্তর্গত প্রবাহে পরিণত হয়।
সবশেষে বলা যায়, অন্তকালে চ মামেব স্মরন্মুক্তা কলেবরম্ যঃ প্রয়াতি স মদ্ভাবং যাতি নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ শ্লোকটি মানুষের মৃত্যুকে নয়, বরং মানুষের সমগ্র জীবনকে ব্যাখ্যা করে। অন্তকাল আমাদের জীবনের অনিবার্য সীমার কথা স্মরণ করায়। কলেবর আমাদের দেহের অনিত্যতার কথা জানায়। স্মরণ আমাদের চেতনার শক্তিকে প্রকাশ করে। মামেব আমাদের একান্ত আশ্রয়ের দিকে নির্দেশ করে। মদ্ভাবং যাতি আমাদের চেতনার চূড়ান্ত অভিমুখকে প্রকাশ করে। আর নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ এই আধ্যাত্মিক সত্যের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় প্রতিষ্ঠা করে।
এই শ্লোকের সারকথা হলো মানুষ শেষ মুহূর্তে যা স্মরণ করবে তার প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে তৈরি হয় না। তা তৈরি হয় প্রতিদিনের চিন্তা, ভালোবাসা, সাধনা, কর্ম এবং চেতনার মাধ্যমে। তাই ঈশ্বরকে যদি জীবনের অন্তিম স্মরণ করতে হয়, তবে তাঁকে জীবনের বর্তমান স্মরণেও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। মৃত্যুর মুহূর্তে ঈশ্বরকে স্মরণ করার প্রকৃত সাধনা তাই মৃত্যুর আগে নয়, জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে শুরু হয়। মানুষের চূড়ান্ত গতি তার চেতনার গতি এবং চেতনার গতি নির্ধারিত হয় সে সারাজীবন কাকে নিজের অন্তরের কেন্দ্র করে রেখেছে তার দ্বারা। এই কারণেই শ্রীকৃষ্ণের এই বাণী শুধু মৃত্যুকালের একটি নির্দেশ নয়, এটি সমগ্র মানবজীবনের জন্য এক গভীর আধ্যাত্মিক আহ্বান।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!