সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ৯.৩ | অশ্রদ্ধা, আধ্যাত্মিক অগ্রগতি ও মৃত্যুময় সংসারে পুনরাবর্তনের তত্ত্ব

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
অশ্রদ্দধানাঃ পুরুষা ধর্মস্যাস্য পরন্তপ। অপ্রাপ্য মাং নিবর্তন্তে মৃত্যুসংসারবর্ত্মনি।।৩।।
অশ্রদ্দধানাঃ পুরুষা ধর্মস্যাস্য পরন্তপ। 
অপ্রাপ্য মাং নিবর্তন্তে মৃত্যুসংসারবর্ত্মনি।।৩।।

অনুবাদঃ হে পরন্তপ! এই ভগবদ্ভক্তিতে যাদের শ্রদ্ধা উদিত হয়নি, তারা আমাকে লাভ করতে পারে না। তাই, তারা এই জড় জগতে জন্ম-মৃত্যুর পথে ফিরে আসে। 

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার নবম অধ্যায়ের তৃতীয় শ্লোকটি মানুষের আধ্যাত্মিক জীবনের একটি অত্যন্ত গভীর সত্যকে সামনে নিয়ে আসে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন, যারা এই ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, তারা তাঁকে লাভ করতে না পেরে মৃত্যুময় সংসারের পথেই ফিরে আসে। শ্লোকটি ছোট হলেও এর মধ্যে মানুষের বিশ্বাস, অনুসন্ধান, জ্ঞান, আধ্যাত্মিক অগ্রগতি এবং সংসারচক্র সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন নিহিত রয়েছে। এখানে কৃষ্ণ মানুষের বাহ্যিক পরিচয় নিয়ে কথা বলছেন না। তিনি মানুষের অন্তরের একটি বিশেষ অবস্থার কথা বলছেন। সেই অবস্থার নাম অশ্রদ্ধা। আর এই অশ্রদ্ধাই মানুষকে পরম সত্যের উপলব্ধি থেকে দূরে রেখে তাকে বারবার পরিচিত আসক্তি, আকাঙ্ক্ষা এবং অজ্ঞতার জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

শ্লোকটির শুরু হয়েছে অশ্রদ্ধধানাঃ পুরুষাঃ শব্দবন্ধ দিয়ে। অশ্রদ্ধধানাঃ শব্দটির কেন্দ্রবিন্দু হলো শ্রদ্ধা। সংস্কৃত শ্রদ্ধা শব্দের মধ্যে গভীর আস্থা, সত্যের প্রতি অন্তরের গ্রহণযোগ্যতা এবং কোনো উচ্চতর জ্ঞানকে উপলব্ধি করার জন্য নিজেকে উন্মুক্ত করার ভাব রয়েছে। শ্রদ্ধা কেবল অন্ধ বিশ্বাস নয়। বরং সত্যকে অনুসন্ধান করার জন্য নিজের মনকে প্রস্তুত করা এবং সত্যের পথে চলার মতো অন্তর্গত আস্থা অর্জন করাই শ্রদ্ধার প্রকৃত অর্থ। এর বিপরীত অবস্থাই অশ্রদ্ধা। তাই অশ্রদ্ধধানাঃ বলতে শুধু অবিশ্বাসী মানুষ বোঝায় না। এখানে এমন মানুষকে বোঝানো হয়েছে, যে সত্যকে জানার জন্য নিজেকে উন্মুক্ত করে না, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের প্রতি আন্তরিক হয় না এবং নিজের সীমিত ধারণাকেই চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে রাখে।

পুরুষাঃ শব্দটির সাধারণ অর্থ মানুষ বা ব্যক্তি। এখানে এটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে বোঝায় না। বরং মানুষের একটি সার্বজনীন মানসিক অবস্থার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ এই শ্লোকের বক্তব্য কোনো বিশেষ জাতি, সম্প্রদায় বা সামাজিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যে কোনো মানুষ যদি সত্য অনুসন্ধানের প্রতি অন্তর থেকে অনাগ্রহী হয়, তবে তার ক্ষেত্রেও এই বক্তব্য প্রযোজ্য। মানুষের আধ্যাত্মিক অগ্রগতি তার বাহ্যিক পরিচয়ের ওপর নয়, তার অন্তরের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে।

এরপর এসেছে ধর্মস্যাস্য শব্দটি। ধর্ম শব্দটি সংস্কৃত ধৃ ধাতু থেকে এসেছে। ধৃ অর্থ ধারণ করা, ধরে রাখা বা স্থিতিশীল রাখা। তাই ধর্মের গভীর অর্থ শুধু কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায় বা আচার নয়। ধর্ম হলো এমন সত্য, নীতি বা পথ যা মানুষকে তার যথার্থ অবস্থায় ধারণ করে রাখে। গীতার প্রেক্ষাপটে ধর্ম বলতে এমন এক আধ্যাত্মিক পথকে বোঝানো হয়েছে, যা মানুষকে নিজের প্রকৃত সত্তা এবং পরম সত্যের দিকে নিয়ে যায়। এই কারণে কৃষ্ণ যখন এই ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার কথা বলছেন, তখন তিনি কেবল কোনো বাহ্যিক আচার পালন করার কথা বলছেন না। তিনি এমন এক জীবনদৃষ্টির কথা বলছেন, যা মানুষের চেতনার পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

শ্লোকে অর্জুনকে পরন্তপ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। পরন্তপ শব্দের অর্থ শত্রুতাপকারী বা শত্রুকে দগ্ধকারী। এটি অর্জুনের বীরত্বের স্বীকৃতি হলেও এর মধ্যে একটি গভীর আধ্যাত্মিক ইঙ্গিতও রয়েছে। বাহ্যিক শত্রুকে পরাজিত করা এক ধরনের বিজয়, কিন্তু মানুষের প্রকৃত সংগ্রাম তার নিজের অন্তরের অজ্ঞতা, আসক্তি, অহংকার, ভয় এবং সংশয়ের বিরুদ্ধে। তাই পরন্তপ সম্বোধনের মধ্যে যেন কৃষ্ণ অর্জুনকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে সত্যিকারের বিজয় শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত হয় না। মানুষের নিজের চেতনার অন্ধকারকে জয় করাও একটি মহাযুদ্ধ।

এরপর কৃষ্ণ বলেন অপ্রাপ্য মাং। অপ্রাপ্য শব্দটি প্রাপ্তির ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর অর্থ লাভ না করে, পৌঁছাতে না পেরে বা অর্জন করতে না পেরে। মাং অর্থ আমাকে। এখানে কৃষ্ণ নিজেকে সেই পরম লক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যাঁকে লাভ করা মানুষের আধ্যাত্মিক যাত্রার চূড়ান্ত পরিণতি। গীতার দার্শনিক পরিসরে কৃষ্ণকে লাভ করা শুধু কোনো বাহ্যিক ব্যক্তিকে লাভ করা নয়। এটি পরম সত্যকে উপলব্ধি করা, ঈশ্বরসচেতন হওয়া এবং নিজের অস্তিত্বের গভীরতম সত্যকে উপলব্ধি করার প্রতীক।

নিবর্তন্তে শব্দটি শ্লোকটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। এর অর্থ ফিরে আসে, পুনরায় ফিরে যায় বা আবার আগের পথে প্রবেশ করে। এখানে ফিরে আসার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কৃষ্ণ শুধু বলছেন না যে মানুষ পরম সত্যকে লাভ করতে পারে না। তিনি বলছেন, সে আবার ফিরে যায়। অর্থাৎ তার জীবন একটি পুনরাবর্তনশীল গতির মধ্যে আটকে থাকে। একই আকাঙ্ক্ষা, একই আসক্তি, একই অজ্ঞতা এবং একই মানসিক প্রবণতা মানুষকে বারবার একই জায়গায় ফিরিয়ে আনতে পারে। এই কারণেই নিবর্তন্তে শব্দটির মধ্যে শুধু ফিরে যাওয়া নয়, পুনরাবৃত্তির একটি গভীর দর্শন রয়েছে।

শ্লোকটির শেষ এবং সবচেয়ে গভীর অংশ হলো মৃত্যুসংসারবর্ত্মনি। মৃত্যু অর্থ নশ্বরতা বা মরণের সত্য। সংসার শব্দের মধ্যে রয়েছে অবিরাম প্রবাহ, চলমানতা এবং পুনরাবর্তনের ধারণা। ভারতীয় দর্শনে সংসার বলতে সাধারণত জন্ম, মৃত্যু, কর্ম, আকাঙ্ক্ষা, আসক্তি এবং পুনর্জন্মের চক্রকে বোঝানো হয়। বর্ত্মনি অর্থ পথে বা গতিপথে। তাই মৃত্যুসংসারবর্ত্মনি শব্দবন্ধের আক্ষরিক অর্থ হলো মৃত্যুময় সংসারের পথে। এর গভীর দার্শনিক অর্থ হলো এমন এক অস্তিত্বের গতিপথ, যেখানে মানুষ জন্ম, মৃত্যু, আকাঙ্ক্ষা, কর্ম এবং পুনরাবর্তনের মধ্যে আবদ্ধ থাকে।

এইভাবে পুরো শ্লোকটির অর্থ দাঁড়ায় যে, যে মানুষ এই আধ্যাত্মিক সত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, সে পরম সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে না এবং আবার মৃত্যুময় সংসারের পথেই ফিরে আসে। এখানে একটি গভীর কারণ ও ফলের সম্পর্ক দেখা যায়। প্রথমে আছে অশ্রদ্ধা। তারপর আসে পরম সত্যের অপ্রাপ্তি। তার পরিণতিতে আসে নিবর্তন। আর সেই নিবর্তনের গন্তব্য হলো মৃত্যুসংসারের পথ। অর্থাৎ মানুষের অন্তরের অবস্থাই তার অস্তিত্বের গতিপথ নির্ধারণ করে।

এই বক্তব্যকে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের আলোকে দেখলে শ্লোকটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক অনুধাবন করা যায়, কিন্তু তার সম্পূর্ণ গভীরতা ধরা যায় না। এর একটি মনোবৈজ্ঞানিক অর্থও রয়েছে। মানুষ জীবনে অনেক সময় একই ধরনের ভুল বারবার করে। একই ধরনের ভয়ের কাছে ফিরে যায়। একই ধরনের আসক্তির মধ্যে আটকে থাকে। একই ধরনের মানসিক প্রতিক্রিয়া তার জীবনে পুনরাবৃত্ত হয়। বাহ্যিক পরিস্থিতি বদলে গেলেও তার অভ্যন্তরীণ চেতনা বদলায় না। ফলে সে বারবার একই মানসিক সংসারে ফিরে আসে। এই অর্থে মৃত্যুসংসারবর্ত্মনি মানুষের অচেতন পুনরাবৃত্তিরও একটি শক্তিশালী প্রতীক।

শ্রদ্ধার গুরুত্ব এখানেই। শ্রদ্ধা মানুষকে নিজের বর্তমান সীমাবদ্ধতার বাইরে তাকাতে শেখায়। যে মানুষ মনে করে তার বর্তমান জ্ঞানই সম্পূর্ণ জ্ঞান, তার কাছে নতুন সত্যের জন্য কোনো দরজা খোলা থাকে না। কিন্তু যে মানুষ বিনয়ের সঙ্গে বলে যে আমি এখনও সব জানি না, আমি সত্যকে জানতে চাই, তার মধ্যে অনুসন্ধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেই অনুসন্ধান থেকেই জ্ঞান আসে, জ্ঞান থেকে অনুশীলন আসে, অনুশীলন থেকে উপলব্ধি আসে। তাই শ্রদ্ধা হলো আধ্যাত্মিক যাত্রার একটি দরজা।

তবে শ্রদ্ধাকে অন্ধ বিশ্বাস হিসেবে বোঝা উচিত নয়। গীতার দৃষ্টিতে সত্যিকারের শ্রদ্ধা মানুষকে প্রশ্নহীন করে না। বরং তাকে গভীরতর অনুসন্ধানে নিয়ে যায়। একজন ছাত্র যখন শিক্ষকের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করে, তখন তার মধ্যে প্রাথমিক আস্থা থাকে। সেই আস্থাই তাকে শেখার পথে এগিয়ে দেয়। পরে সে জ্ঞানকে নিজের বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে উপলব্ধি করে। আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও শ্রদ্ধা একইভাবে অনুসন্ধানের শক্তি হিসেবে কাজ করে।

এই শ্লোককে একটি নদী ও নৌকার উপমা দিয়ে বোঝানো যায়। একজন মানুষ নদীর এক পারে দাঁড়িয়ে আছে এবং অপর পারে যেতে চায়। কিন্তু সে যদি মনে করে নদী পার হওয়া অসম্ভব, তাহলে সে নৌকায় উঠবেই না। নৌকায় না উঠলে সে অপর পারে পৌঁছাতেও পারবে না। এখানে শ্রদ্ধা হলো নৌকায় ওঠার সাহস। সাধনা হলো নৌকার যাত্রা। জ্ঞান হলো পথের দিশা। আর উপলব্ধি হলো অপর পারে পৌঁছানো। যে মানুষ যাত্রা শুরুই করে না, সে একই তীরেই থেকে যায়। গীতার ভাষায় এটিই এক ধরনের নিবর্তন।

মহাভারতের প্রেক্ষাপটেও এই শ্লোকটির তাৎপর্য বিশেষভাবে গভীর। অর্জুন যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে নিজের কর্তব্য, জীবন, মৃত্যু, আত্মা এবং কর্ম সম্পর্কে গভীর সংকটে পড়েছিলেন। তাঁর বাহ্যিক শক্তি ছিল, কিন্তু অন্তরের সংশয় তাঁকে দুর্বল করে দিয়েছিল। কৃষ্ণের শিক্ষা ছিল সেই সংশয়কে জ্ঞানের আলোয় অতিক্রম করার পথ। তাই পরন্তপ সম্বোধনটি এখানে অত্যন্ত অর্থবহ। যে অর্জুন বাহ্যিক শত্রুকে পরাজিত করতে সক্ষম, তাকেই এখন নিজের অন্তরের অজ্ঞতা ও সংশয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে।

অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই শ্লোককে দেখলে অজ্ঞতা সংসারচক্রের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে সামনে আসে। মানুষ নিজের প্রকৃত আত্মস্বরূপকে না জেনে দেহ, মন, ইন্দ্রিয় ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে নিজেকে এক করে দেখে। ফলে সে পরিবর্তনশীল জগতের সঙ্গে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলে। পরম সত্যের উপলব্ধি না হওয়া পর্যন্ত এই বন্ধন অব্যাহত থাকে। বিশিষ্টাদ্বৈত ও দ্বৈত দর্শনের দৃষ্টিতে আবার ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা এবং আত্মসমর্পণ বিশেষ গুরুত্ব পায়। দর্শনভেদে ব্যাখ্যার পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় অভিন্ন। মানুষের আধ্যাত্মিক অগ্রগতির জন্য তার অন্তরের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অপরিহার্য।

আধুনিক জীবনের ক্ষেত্রেও এই শ্লোকটি অসাধারণভাবে প্রাসঙ্গিক। মানুষ আজ প্রযুক্তিতে এগিয়ে গেছে, তথ্যের পরিমাণ বেড়েছে এবং জীবনযাত্রার ধরন বদলে গেছে। কিন্তু মানুষের অন্তরের অস্থিরতা, আকাঙ্ক্ষা, অহংকার, ভয় এবং আসক্তি এখনও তাকে একই ধরনের সমস্যার মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। নতুন পরিবেশ মানুষকে সবসময় নতুন মানুষ করে তোলে না। প্রকৃত পরিবর্তন ঘটে যখন মানুষের চেতনা পরিবর্তিত হয়। তাই গীতার এই শিক্ষা আজও প্রশ্ন রাখে যে আমরা কি শুধু জীবনের বাহ্যিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করছি, নাকি নিজের চেতনার গভীরে পরিবর্তন আনছি।

এই শ্লোকের ভাষাগত সৌন্দর্যও বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অশ্রদ্ধধানাঃ দিয়ে মানুষের অন্তর্গত অবস্থার কথা বলা হয়েছে। ধর্মস্যাস্য দিয়ে একটি উচ্চতর পথের কথা বলা হয়েছে। অপ্রাপ্য মাং দিয়ে সেই পথের চূড়ান্ত লক্ষ্যকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিবর্তন্তে দিয়ে ফিরে যাওয়ার গতি প্রকাশ করা হয়েছে। আর মৃত্যুসংসারবর্ত্মনি দিয়ে সেই ফিরে যাওয়ার গন্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে একটি মাত্র শ্লোকের মধ্যে মানুষের অন্তর্গত মনোভাব, আধ্যাত্মিক লক্ষ্য, ব্যর্থতা এবং পুনরাবর্তনের একটি সম্পূর্ণ চিত্র ফুটে উঠেছে।

সবশেষে বলা যায়, অশ্রদ্ধধানাঃ পুরুষা ধর্মস্যাস্য পরন্তপ এই শ্লোকটি মানুষের সামনে বিশ্বাসের প্রশ্নের চেয়েও গভীর একটি প্রশ্ন রাখে। মানুষ কোন সত্যকে গ্রহণ করে এবং কোন সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে, তার ওপর তার জীবনযাত্রার দিক অনেকটাই নির্ভর করে। শ্রদ্ধা এখানে অন্ধ বিশ্বাস নয়। এটি সত্য অনুসন্ধানের জন্য অন্তরের দরজা খুলে দেওয়া। ধর্ম এখানে কেবল আচার নয়। এটি সত্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জীবনপথ। কৃষ্ণকে লাভ করা এখানে কেবল বাহ্যিক প্রাপ্তি নয়। এটি পরম সত্যের উপলব্ধি। আর মৃত্যুসংসারবর্ত্মনি শুধু জন্ম ও মৃত্যুর চক্র নয়। এটি এমন এক পুনরাবর্তনের প্রতীক, যেখানে মানুষ নিজের অজ্ঞতা ও আসক্তির কারণে বারবার একই অস্তিত্বগত অবস্থায় ফিরে আসে। তাই এই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা হলো মানুষের মুক্তি বাহ্যিক পরিবর্তনে নয়, চেতনার পরিবর্তনে। যে মানুষ শ্রদ্ধা নিয়ে সত্যের পথে এগিয়ে যায়, তার সামনে জ্ঞানের দরজা খুলে যায়। আর যে মানুষ সত্য অনুসন্ধানের সম্ভাবনাকেই প্রত্যাখ্যান করে, সে নিজের পরিচিত সীমার মধ্যেই ঘুরতে থাকে। এই কারণেই গীতার এই ছোট্ট শ্লোকটি মানুষের আধ্যাত্মিক যাত্রার একটি গভীর মানচিত্র হয়ে ওঠে।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 18, 2026 August 18, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি