সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ৯.৪ | অব্যক্ত স্বরূপে জগৎব্যাপী ঈশ্বর, জীবের অবস্থান ও পরম সত্তার তত্ত্ব

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
ময়া ততমিদং সর্বং জগদব্যক্তমূর্তিনা। মৎস্থানি সর্বভূতানি ন চাহং তেষ্ববস্থিতঃ।।৪।।
ময়া ততমিদং সর্বং জগদব্যক্তমূর্তিনা। 
মৎস্থানি সর্বভূতানি ন চাহং তেষ্ববস্থিতঃ।।৪।।

অনুবাদঃ অব্যক্তরূপে আমি সমস্ত জগতে ব্যাপ্ত আছি। সমস্ত জীব আমাতেই অবস্থিত, কিন্তু আমি তাতে অবস্থিত নই।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার নবম অধ্যায়ের চতুর্থ শ্লোকটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বব্যাপী সত্তা এবং জগতের সঙ্গে পরম সত্যের সম্পর্ক বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্লোকটি হলো “ময়া ততমিদং সর্বং জগদব্যক্তমূর্তিনা। মৎস্থানি সর্বভূতানি ন চাহং তেষ্ববস্থিতঃ।” এর সহজ অর্থ হলো আমার অব্যক্ত স্বরূপ দ্বারা এই সমগ্র জগৎ পরিব্যাপ্ত। সমস্ত জীব আমার মধ্যে অবস্থান করছে, কিন্তু আমি তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নই। কয়েকটি শব্দের মধ্যে কৃষ্ণ এখানে এমন একটি গভীর দার্শনিক সত্য প্রকাশ করেছেন, যেখানে ঈশ্বর, জগৎ, জীব এবং অস্তিত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক এক নতুন দৃষ্টিতে ধরা পড়ে।

এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো “ময়া”। সংস্কৃত “অস্মদ্” সর্বনাম থেকে ময়া শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ আমার দ্বারা। কিন্তু এখানে কৃষ্ণের “আমি” বলতে কেবল তাঁর দৃশ্যমান মানবদেহকে বোঝানো হয় না। এই “আমি” হলো সেই পরম সত্তা, যিনি ব্যক্তিগত শরীর ও সীমিত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে। কৃষ্ণ যেন বলছেন যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অস্তিত্বের অন্তরালে যে পরম চৈতন্য বা পরম সত্য রয়েছে, তার মাধ্যমেই এই জগতের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠিত।

এরপর এসেছে “ততম্” শব্দটি। এর সঙ্গে সংস্কৃত “তন্” ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে, যার অর্থ প্রসারিত হওয়া, বিস্তৃত হওয়া বা পরিব্যাপ্ত করা। তাই “ময়া ততম্” অর্থ আমার দ্বারা পরিব্যাপ্ত। এই পরিব্যাপ্তির ধারণা অত্যন্ত গভীর। কৃষ্ণ কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা বিশেষ জীবের মধ্যে নিজের উপস্থিতিকে সীমাবদ্ধ করছেন না। তিনি বলছেন যে সমগ্র জগতের মধ্যে তাঁর অদৃশ্য উপস্থিতি রয়েছে। তাঁর উপস্থিতি এমন নয় যে কোনো একটি জায়গায় তাঁকে রেখে অন্য জায়গা থেকে তাঁকে বাদ দিতে হবে। বরং সমস্ত অস্তিত্বের অন্তর্নিহিত ভিত্তি হিসেবেই তাঁর উপস্থিতি ভাবা হয়েছে।

“ইদম্” অর্থ এই এবং “সর্বম্” অর্থ সমস্ত। এই দুটি শব্দ একত্রে বর্তমান জগতের সমগ্রতাকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ কৃষ্ণের বক্তব্য কোনো বিশেষ ব্যক্তি, জাতি, প্রাণী বা স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি সমগ্র অস্তিত্বের কথা বলছেন। দৃশ্যমান প্রকৃতি, জীবজগৎ, মানুষ, প্রাণী এবং অস্তিত্বের অসংখ্য প্রকাশিত রূপ এই “সর্বম্” ধারণার অন্তর্ভুক্ত।

এরপর আসে “জগৎ” শব্দটি। জগৎ শব্দের মধ্যে গতি ও পরিবর্তনের ধারণা রয়েছে। সংস্কৃত “গম্” ধাতুর সঙ্গে এর অর্থগত সম্পর্ক রয়েছে। যে জগৎ সর্বদা চলছে, পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যাচ্ছে, সেটিই জগৎ। মানুষের জীবন পরিবর্তিত হয়, সমাজ পরিবর্তিত হয়, সভ্যতা পরিবর্তিত হয়, প্রকৃতির রূপ পরিবর্তিত হয়। কিছুই স্থির নয়। এই পরিবর্তনশীল জগতের মধ্যেই মানুষ স্থায়িত্বের সন্ধান করে। কৃষ্ণ এই পরিবর্তনশীল জগতের অন্তরালে একটি অপরিবর্তনীয় ভিত্তির দিকে ইঙ্গিত করছেন।

এই প্রসঙ্গে “অব্যক্তমূর্তিনা” শব্দটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। “অব্যক্ত” শব্দটি গঠিত হয়েছে “অ” এবং “ব্যক্ত” থেকে। ব্যক্ত অর্থ প্রকাশিত, দৃশ্যমান বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। তার আগে “অ” যুক্ত হয়ে হয়েছে অব্যক্ত, যার অর্থ যা প্রকাশিত বা দৃশ্যমান নয়। কিন্তু অব্যক্ত মানে অস্তিত্বহীন নয়। একটি বীজের মধ্যে গাছ দৃশ্যমান নয়, কিন্তু গাছের সম্ভাবনা সেখানে নিহিত থাকে। একইভাবে পরম সত্য দৃশ্যমান কোনো নির্দিষ্ট আকৃতির মধ্যে ধরা না পড়লেও তার উপস্থিতি সমগ্র অস্তিত্বে প্রকাশিত হতে পারে।

“মূর্তি” শব্দের অর্থ রূপ, আকৃতি বা অবয়ব। তাই “অব্যক্তমূর্তি” বলতে বোঝানো যায় এমন এক পরম স্বরূপ যা কোনো নির্দিষ্ট দৃশ্যমান রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে গীতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ধারণা প্রকাশ পায়। পরম সত্যকে রূপের মাধ্যমে অনুভব করা যেতে পারে, আবার সেই পরম সত্য রূপের সীমাকেও অতিক্রম করে। অর্থাৎ কৃষ্ণের প্রকৃত সত্তাকে কেবল তাঁর মানবদেহের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে এই বক্তব্যের গভীরতা উপলব্ধি করা যায় না।

“ময়া ততমিদং সর্বং জগদব্যক্তমূর্তিনা” তাই গভীরভাবে অর্থ করলে দাঁড়ায় যে এই সমগ্র পরিবর্তনশীল জগত আমার অব্যক্ত পরম স্বরূপ দ্বারা পরিব্যাপ্ত। এখানে ঈশ্বরকে কোনো একটি স্থানের অধিবাসী হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং সমস্ত অস্তিত্বের অন্তরালে যে চূড়ান্ত ভিত্তি, সেই ভিত্তির সঙ্গে ঈশ্বরকে একাত্ম করে দেখা হয়েছে। দৃশ্যমান জগতের মধ্যে যে অদৃশ্য নিয়ামক বাস্তবতা রয়েছে, কৃষ্ণ সেই বাস্তবতার কথাই প্রকাশ করছেন।

এরপর শ্লোকটি আরও গভীর হয়ে ওঠে “মৎস্থানি সর্বভূতানি” বাক্যে। “মৎ” অর্থ আমার মধ্যে এবং “স্থানি” শব্দের সঙ্গে “স্থা” ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে, যার অর্থ অবস্থান করা বা স্থিত থাকা। “সর্বভূতানি” অর্থ সমস্ত জীব বা সমস্ত সৃষ্ট সত্তা। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায় সমস্ত জীব আমার মধ্যে অবস্থান করছে। এখানে আমার মধ্যে বলতে কোনো ভৌগোলিক বা স্থানগত অবস্থান বোঝানো হয় না। এটি অস্তিত্বগত নির্ভরতার কথা বলে। সমস্ত জীব ও সমস্ত অস্তিত্ব পরম সত্তার ওপর নির্ভরশীল।

এটি বোঝার জন্য সমুদ্র ও তরঙ্গের উপমা অত্যন্ত সুন্দর। একটি তরঙ্গ সমুদ্রের ওপর নির্ভরশীল। সমুদ্র ছাড়া তরঙ্গের পৃথক অস্তিত্ব নেই। কিন্তু সমুদ্র কোনো একটি তরঙ্গের ওপর নির্ভরশীল নয়। একটি তরঙ্গ সৃষ্টি হলো, কিছুক্ষণ থাকল এবং আবার সমুদ্রেই মিলিয়ে গেল। কিন্তু সমুদ্র তার অস্তিত্ব বজায় রাখল। একইভাবে জগতের সমস্ত জীব ও বস্তু পরম সত্যের ওপর নির্ভরশীল হলেও পরম সত্য কোনো নির্দিষ্ট জীব বা বস্তুর ওপর নির্ভরশীল নয়।

এখানেই শ্লোকটির সবচেয়ে বিস্ময়কর অংশ আসে “ন চাহং তেষ্ববস্থিতঃ”। কৃষ্ণ বলছেন সমস্ত জীব তাঁর মধ্যে অবস্থান করলেও তিনি তাদের মধ্যে অবস্থান করেন না। প্রথম দৃষ্টিতে এটি একটি বিরোধপূর্ণ বক্তব্য বলে মনে হতে পারে। যদি সবকিছু তাঁর মধ্যে থাকে, তাহলে তিনি তাদের মধ্যে নেই কেন। আসলে এখানে “মধ্যে থাকা” শব্দটির দুটি আলাদা অর্থ রয়েছে। জীবের অস্তিত্ব ঈশ্বরের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু ঈশ্বরের অস্তিত্ব জীবের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাই বলা যায় সমস্ত কিছু তাঁর মধ্যে, কিন্তু তিনি কোনো কিছুর দ্বারা সীমাবদ্ধ নন।

এই ধারণাটি অদ্বৈত বেদান্তের আলোকে দেখলে এর মধ্যে পরম ঐক্যের শিক্ষা প্রকাশ পায়। বহুরূপী জগতের অন্তরে একটি পরম সত্য রয়েছে। বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে এই সম্পর্ককে আরও ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। জীব ও জগত ঈশ্বরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত হলেও ঈশ্বর তাদের দ্বারা সীমাবদ্ধ নন। দ্বৈত দর্শন আবার ঈশ্বর ও জীবের পার্থক্যকে গুরুত্ব দেয় এবং জীবের ঈশ্বরনির্ভর অস্তিত্বের কথা বলে। দর্শনের ব্যাখ্যা আলাদা হলেও একটি বিষয় স্পষ্ট যে এই শ্লোক ঈশ্বর ও জগতের সম্পর্ককে সাধারণ বস্তুগত সম্পর্কের বাইরে নিয়ে যায়।

এই শ্লোকের প্রতীকী তাৎপর্যও গভীর। আকাশের কথা ভাবা যায়। পাখি আকাশে উড়ে, মেঘ আকাশে ভাসে, বৃষ্টি আকাশের মধ্যে ঘটে এবং বিমান আকাশের মধ্য দিয়ে চলে। কিন্তু আকাশ কোনো একটি পাখি, মেঘ বা বিমানের মধ্যে আবদ্ধ নয়। একইভাবে সমগ্র জগত পরম সত্তার দ্বারা পরিব্যাপ্ত হলেও পরম সত্তাকে জগতের কোনো একটি অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। আবার সমুদ্র ও তরঙ্গের উপমাও একই সত্য প্রকাশ করে। তরঙ্গ সমুদ্রের মধ্যে আছে, কিন্তু সমুদ্র কোনো একটি তরঙ্গের মধ্যে আবদ্ধ নয়।

মানবজীবনের ক্ষেত্রেও এই শিক্ষার গভীর প্রভাব রয়েছে। মানুষ সাধারণত নিজের পরিচয়কে শরীর, নাম, পেশা, সম্পদ, সামাজিক অবস্থান এবং ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে। সে ভাবে আমি এই শরীর, আমি এই পরিচয় এবং আমার চারপাশের জগত আমার থেকে পৃথক। গীতার এই শিক্ষা সেই সংকীর্ণ দৃষ্টিকে প্রসারিত করতে চায়। মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে তার অস্তিত্ব বৃহত্তর এক অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। নিজের সীমিত অহংকে অতিক্রম করে বৃহত্তর বাস্তবতার সঙ্গে নিজের সম্পর্ক উপলব্ধি করা আধ্যাত্মিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

আধুনিক জীবনের একটি সহজ উদাহরণ দিয়েও বিষয়টি বোঝা যায়। একটি কম্পিউটার স্ক্রিনে অসংখ্য ছবি, লেখা, ভিডিও এবং দৃশ্য দেখা যায়। প্রত্যেকটি আলাদা বলে মনে হয়। কিন্তু এগুলোর পেছনে একটি মৌলিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা কাজ করে। দৃশ্যমান প্রকাশগুলো আলাদা হলেও তাদের কার্যকারিতার একটি অভিন্ন ভিত্তি রয়েছে। এই উদাহরণ সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরতত্ত্বকে ব্যাখ্যা করতে পারে না, কিন্তু এটি বুঝতে সাহায্য করে যে দৃশ্যমান বহুত্বের পেছনে একটি অদৃশ্য ভিত্তি কল্পনা করা সম্ভব।

এই শ্লোকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যের সম্পর্ক। মানুষ সাধারণত যা চোখে দেখে তাকেই বাস্তব বলে মনে করে। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ই সরাসরি দৃশ্যমান নয়। ভালোবাসা দেখা যায় না, কিন্তু তার প্রভাব দেখা যায়। চিন্তা দেখা যায় না, কিন্তু তার ফল দেখা যায়। চেতনা কোনো নির্দিষ্ট বস্তু হিসেবে ধরা যায় না, কিন্তু তার প্রকাশ সর্বত্র অনুভূত হয়। গীতার অব্যক্তমূর্তি ধারণা এই ধরনের উপলব্ধিকে আরও গভীর আধ্যাত্মিক স্তরে নিয়ে যায়।

সাহিত্যিক দিক থেকেও শ্লোকটির গঠন অসাধারণ। প্রথমে কৃষ্ণ বলেন তিনি সমগ্র জগতকে পরিব্যাপ্ত করেছেন। এরপর বলেন সমস্ত জীব তাঁর মধ্যে অবস্থান করছে। তারপর তিনি বলেন তিনি তাদের দ্বারা আবদ্ধ নন। অর্থাৎ বক্তব্যটি ধীরে ধীরে তিনটি স্তরে এগিয়ে যায়। প্রথমে সর্বব্যাপী উপস্থিতি, তারপর অস্তিত্বের নির্ভরতা এবং শেষে পরম স্বাধীনতা। এই তিনটি স্তর একত্রে ঈশ্বর ও জগতের সম্পর্কের একটি গভীর ছবি তৈরি করে।

মহাভারতের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যের তাৎপর্য আরও গভীর। অর্জুনের কাছে কৃষ্ণ প্রথমে একজন বন্ধু, আত্মীয় এবং সারথি। কিন্তু গীতার শিক্ষায় কৃষ্ণ ধীরে ধীরে নিজের বৃহত্তর পরিচয় প্রকাশ করেন। তিনি কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের মানুষ নন। তিনি এমন এক পরম সত্তার কথা বলেন যার মধ্যে সমগ্র অস্তিত্বের ভিত্তি নিহিত। পরবর্তী বিশ্বরূপ দর্শনের প্রস্তুতিও এই ধরনের বক্তব্যের মধ্যে নিহিত রয়েছে। অর্জুনকে বোঝানো হচ্ছে যে কৃষ্ণকে কেবল একটি মানবিক রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখলে তাঁর প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করা যাবে না।

সবশেষে বলা যায়, “ময়া ততমিদং সর্বং জগদব্যক্তমূর্তিনা” শ্লোকটি মানুষের দৃষ্টিকে সীমিত থেকে অসীমের দিকে নিয়ে যায়। এটি শেখায় যে দৃশ্যমান জগতের পেছনে একটি অদৃশ্য ভিত্তি রয়েছে এবং সমস্ত জীব সেই বৃহত্তর সত্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেই পরম সত্য আবার কোনো নির্দিষ্ট জীব, বস্তু বা জগতের দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। এই কারণে শ্লোকটির কেন্দ্রীয় শিক্ষা এক বাক্যে বলা যায়, সমস্ত কিছু পরম সত্তার মধ্যে নির্ভরশীলভাবে অবস্থান করে, কিন্তু পরম সত্তা কোনো কিছুর সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়। বহুত্বের মধ্যে ঐক্য, দৃশ্যমানের মধ্যে অদৃশ্য ভিত্তি এবং পরিবর্তনশীল জগতের অন্তরে চিরন্তন সত্যের সন্ধানই এই শ্লোকের গভীরতম উপলব্ধি। মানুষের জন্য এর শিক্ষা হলো নিজের সীমিত অহংকে অতিক্রম করে অস্তিত্বের বৃহত্তর সত্যকে অনুভব করা এবং উপলব্ধি করা যে আমরা বিচ্ছিন্ন কোনো অস্তিত্ব নই, বরং এক গভীর ও সর্বব্যাপী বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 18, 2026 August 18, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি