সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১০.১৯ — শ্রীকৃষ্ণের অনন্ত দিব্য বিভূতি ও ঈশ্বরীয় প্রকাশের অসীমতা

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
শ্রীভগবানুবাচহস্ত তে কথয়িষ্যামি দিব্যা হ্যাত্মবিভূতয়ঃ।প্রাধান্যতঃ কুরুশ্রেষ্ঠ নাস্ত্যস্তো বিস্তর…
শ্রীভগবানুবাচ
হস্ত তে কথয়িষ্যামি দিব্যা হ্যাত্মবিভূতয়ঃ।
প্রাধান্যতঃ কুরুশ্রেষ্ঠ নাস্ত্যস্তো বিস্তরস্য মে।।১৯।।

অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান বললেন-হে অর্জুন, আমার দিব্য প্রধান প্রধান বিভুতিসমূহ তোমাকে বলব, কিন্তু আমার বিভূতিসমূহের অন্ত নেই।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দশম অধ্যায় বিভূতি যোগের উনিশতম শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে তাঁর দিব্য বিভূতিসমূহের কথা বলতে শুরু করেছেন। শ্লোকটি হলো “হন্ত তে কথয়িষ্যামি দিব্যা হ্যাত্মবিভূতয়ঃ। প্রাধান্যতঃ কুরুশ্রেষ্ঠ নাস্ত্যন্তো বিস্তরস্য মে।” এর সহজ অর্থ হলো, হে কুরুশ্রেষ্ঠ অর্জুন, এখন আমি তোমাকে আমার দিব্য ও ঐশ্বরিক বিভূতিগুলির কথা বলব। তবে আমি প্রধান প্রধান বিভূতিগুলিই বলব, কারণ আমার ঐশ্বরিক প্রকাশের কোনো অন্ত নেই। এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্যেই ঈশ্বরের অসীমতা, জগতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য এবং সীমিত মানবচেতনার পক্ষে অসীম সত্যকে উপলব্ধি করার এক গভীর পদ্ধতি প্রকাশিত হয়েছে।

এই শ্লোকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো বিভূতি। সংস্কৃত বিভূতি শব্দটির মূল নিহিত রয়েছে ভূ ধাতুর মধ্যে। ভূ ধাতুর অর্থ হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা, প্রকাশিত হওয়া কিংবা বিকশিত হওয়া। এর সঙ্গে বি উপসর্গ যুক্ত হয়ে বিশেষভাবে বা বিশিষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার ভাব সৃষ্টি হয়েছে। তি প্রত্যয়ের মাধ্যমে ক্রিয়া থেকে একটি ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়েছে। ফলে বিভূতি বলতে মূলত এমন কোনো বিশেষ প্রকাশকে বোঝায় যার মধ্যে কোনো শক্তি, মহত্ত্ব, ঐশ্বর্য বা গৌরব বিশেষভাবে প্রকাশিত হয়েছে। সাধারণ অর্থে বিভূতি শব্দের মধ্যে মহিমা, ঐশ্বর্য, শক্তি, প্রভাব, গৌরব, সমৃদ্ধি এবং বিশেষ প্রকাশের ধারণা রয়েছে। তবে গীতার এই প্রসঙ্গে বিভূতি বলতে পার্থিব সম্পদ বোঝানো হয় না। এখানে বিভূতি হলো পরমেশ্বরের অসীম শক্তি ও মহিমার বিশেষ বিশেষ প্রকাশ।

শ্লোকে আত্মবিভূতয়ঃ শব্দটিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আত্ম শব্দের অর্থ নিজের সত্তা, নিজস্ব অস্তিত্ব কিংবা নিজের স্বরূপ। বিভূতি শব্দের সঙ্গে আত্ম যুক্ত হলে আত্মবিভূতি অর্থ দাঁড়ায় নিজের বিভূতি বা নিজের ঐশ্বরিক প্রকাশ। কৃষ্ণ যখন আত্মবিভূতি বলছেন, তখন তিনি বোঝাচ্ছেন যে জগতের অসংখ্য মহৎ ও বিস্ময়কর প্রকাশ তাঁর নিজস্ব ঐশ্বরিক শক্তির প্রকাশ। অর্থাৎ সূর্যের দীপ্তি, পর্বতের মহত্ত্ব, সমুদ্রের বিশালতা, জ্ঞানের গভীরতা, শক্তির প্রাবল্য, সত্যের দৃঢ়তা কিংবা মহৎ মানুষের অসাধারণ গুণকে বিচ্ছিন্ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো বাস্তবতা হিসেবে না দেখে ঈশ্বরীয় মহিমার বিশেষ প্রকাশ হিসেবে উপলব্ধি করা যায়।

দিব্য শব্দটি এই ধারণাকে আরও গভীর করে। দিব্য অর্থ দেবীয়, স্বর্গীয়, ঐশ্বরিক, অসাধারণ কিংবা মানবিক সীমার অতীত। দিব্য আত্মবিভূতি বলতে তাই এমন প্রকাশকে বোঝায় যার মধ্যে সাধারণ জাগতিক অস্তিত্বের তুলনায় বিশেষ এক মহিমা অনুভূত হয়। মানুষ যখন প্রকৃতির কোনো অসাধারণ দৃশ্য দেখে বিস্মিত হয়, যখন কোনো মহৎ ব্যক্তির চরিত্রে অসাধারণ সত্যনিষ্ঠা ও সাহস প্রত্যক্ষ করে, অথবা যখন জ্ঞান ও সৃষ্টিশীলতার কোনো অনন্য প্রকাশের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সীমাবদ্ধতা অনুভব করে, তখন সেই বিস্ময়ের অভিজ্ঞতা তাকে বৃহত্তর কোনো বাস্তবতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। গীতার বিভূতি ধারণা এই বিস্ময়কে ঈশ্বরস্মরণের পথে পরিচালিত করে।

শ্লোকের শুরুতে হন্ত তে কথয়িষ্যামি কথাটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। হন্ত শব্দটি এখানে এক ধরনের স্নেহপূর্ণ আহ্বান বা মনোযোগ আকর্ষণের প্রকাশ। তে অর্থ তোমাকে এবং কথয়িষ্যামি অর্থ আমি বলব বা বর্ণনা করব। কৃষ্ণ যেন অর্জুনকে বলছেন, এখন মনোযোগ দিয়ে শোনো, আমি তোমাকে আমার ঐশ্বরিক প্রকাশের কথা বোঝাব। এখানে শিক্ষক ও শিষ্যের সম্পর্কের এক গভীর মানবিক দিকও প্রকাশিত হয়েছে। পরম সত্যের জ্ঞান কেবল বিমূর্ত দর্শনের মাধ্যমে নয়, ভালোবাসা ও ব্যক্তিগত নির্দেশনার মধ্য দিয়েও প্রকাশিত হতে পারে।

এরপর এসেছে প্রাধান্যতঃ শব্দটি। এর অর্থ প্রধানত, মুখ্যভাবে অথবা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশগুলির মাধ্যমে। এই একটি শব্দের মধ্যেই কৃষ্ণের শিক্ষাপদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ পেয়েছে। ঈশ্বরের প্রকাশ অসীম হওয়ায় তার সম্পূর্ণ তালিকা দেওয়া সম্ভব নয়। মানুষের মনও অসীম বৈচিত্র্যকে একসঙ্গে ধারণ করতে পারে না। তাই কৃষ্ণ প্রধান প্রধান বিভূতির কথা বলবেন। তিনি এমন কিছু উদাহরণ দেবেন যেগুলি মানুষের চেতনাকে দৃশ্যমান জগতের শ্রেষ্ঠত্ব থেকে অদৃশ্য পরম সত্যের দিকে পরিচালিত করতে পারে।

এই কারণে বিভূতি যোগকে কেবল ঈশ্বরের গুণের তালিকা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি আসলে পৃথিবীকে দেখার একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। সাধারণ দৃষ্টিতে সূর্য কেবল একটি জ্যোতিষ্ক, পর্বত কেবল একটি প্রাকৃতিক গঠন, নদী কেবল প্রবাহমান জল এবং কোনো মহান মানুষ কেবল একজন অসাধারণ ব্যক্তি। কিন্তু বিভূতি দৃষ্টিতে সূর্যের দীপ্তি পরম দীপ্তির কথা স্মরণ করায়, পর্বতের স্থিরতা পরম স্থিতির কথা মনে করায়, নদীর প্রবাহ জীবনের গতিশীলতার কথা প্রকাশ করে এবং কোনো মহৎ মানুষের চরিত্র মানুষের মধ্যে প্রকাশিত মহত্ত্বের উৎস সম্পর্কে চিন্তা জাগায়।

এই প্রসঙ্গে শ্লোকটির শেষ অংশ নাস্ত্যন্তো বিস্তরস্য মে বিশেষভাবে গভীর। নাস্তি অর্থ নেই, অন্ত অর্থ শেষ বা সীমা, বিস্তার অর্থ প্রসার বা ব্যাপ্তি এবং মে অর্থ আমার। অর্থাৎ আমার বিস্তারের কোনো অন্ত নেই। এটি কেবল ঈশ্বরের শক্তির পরিমাণ সম্পর্কে একটি বক্তব্য নয়। এটি মানুষের জ্ঞান ও ভাষার সীমাবদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। মানুষ যতই উদাহরণ সংগ্রহ করুক, যতই দর্শন নির্মাণ করুক এবং যতই ভাষায় ঈশ্বরকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করুক, অসীম বাস্তবতাকে কোনো সীমিত বর্ণনার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আবদ্ধ করা সম্ভব নয়।

এখানেই শ্লোকটির দার্শনিক গভীরতা নিহিত। সীমিত মানুষ কীভাবে অসীমকে উপলব্ধি করবে। কৃষ্ণের উত্তর হলো, অসীমকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করার চেষ্টা না করে সীমিতের মধ্যে অসীমের প্রকাশকে উপলব্ধি করতে শেখো। যেমন একটি ফুল সম্পূর্ণ বসন্ত নয়, কিন্তু বসন্তের সৌন্দর্যের একটি প্রকাশ। একটি সূর্যরশ্মি সম্পূর্ণ সূর্য নয়, কিন্তু সূর্যের উপস্থিতির একটি প্রকাশ। তেমনি জগতের কোনো একটি মহত্ত্ব ঈশ্বরের সম্পূর্ণ সত্তা নয়, কিন্তু সেই মহত্ত্ব ঈশ্বরীয় মহিমার একটি বিশেষ প্রকাশ হতে পারে।

অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই ধারণার সঙ্গে ব্রহ্মের অসীমতার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পরম সত্য এক ও অদ্বিতীয়। জগতের অসংখ্য রূপ ও বৈচিত্র্যের মধ্যে সেই এক পরম সত্যের প্রকাশ উপলব্ধি করা যায়। বহুর মধ্যে এককে এবং পরিবর্তনের মধ্যে অপরিবর্তনীয় সত্যকে অনুভব করার পথ হিসেবে বিভূতি ধারণাকে দেখা যেতে পারে। বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনের দৃষ্টিতে জগত ও জীব ঈশ্বরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ফলে জগতের মহত্ত্ব ও সৌন্দর্য ঈশ্বরীয় শক্তি ও গুণের বাস্তব প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আবার ভক্তি দর্শনে বিভূতি হলো ঈশ্বরস্মরণের একটি সহজ ও শক্তিশালী উপায়। ভক্ত যখন কোনো মহৎ দৃশ্য, গুণ বা শক্তি প্রত্যক্ষ করেন, তখন তার মন সেই প্রকাশের উৎসের দিকে ফিরে যায়।

এই ধারণার একটি মনোবৈজ্ঞানিক তাৎপর্যও রয়েছে। মানুষ যখন বিশাল পর্বত, অসীম আকাশ, গভীর সমুদ্র, নক্ষত্রমণ্ডল কিংবা কোনো মহান মানুষের চরিত্রের সামনে দাঁড়ায়, তখন তার মধ্যে এক ধরনের বিস্ময় জন্মায়। এই বিস্ময় মানুষকে নিজের ক্ষুদ্রতা অনুভব করায় এবং নিজের চেয়ে বৃহত্তর কোনো বাস্তবতার কথা ভাবতে সাহায্য করে। গীতার বিভূতি দর্শন এই বিস্ময়কে কেবল আবেগ হিসেবে রেখে দেয় না। এটি বিস্ময়কে আত্মঅনুসন্ধান ও ঈশ্বরস্মরণের দিকে পরিচালিত করে।

বিভূতির প্রতীকী অর্থও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সূর্য জ্ঞানের প্রতীক হতে পারে, কারণ তার আলো অন্ধকার দূর করে। পর্বত স্থিরতা ও দৃঢ়তার প্রতীক হতে পারে। সমুদ্র অসীমতার প্রতীক। সিংহ শক্তি ও সাহসের প্রতীক। নদী প্রবাহ ও জীবনের গতির প্রতীক। গঙ্গা পবিত্রতা ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই প্রতীকগুলির মাধ্যমে গীতার শিক্ষা হলো, জগতের দৃশ্যমান বস্তুগুলিকে কেবল বাহ্যিক রূপে না দেখে তাদের মধ্যে নিহিত গুণ ও মহত্ত্বকে উপলব্ধি করা এবং সেই মহত্ত্বের উৎসের দিকে চেতনাকে পরিচালিত করা।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা দরকার। কোনো বিভূতি নিজেই ঈশ্বরের সম্পূর্ণতা নয়। কৃষ্ণ যখন কোনো শ্রেষ্ঠ প্রকাশের সঙ্গে নিজেকে সম্পর্কিত করেন, তখন তার অর্থ এই নয় যে সেই বস্তুটিই ঈশ্বরের সম্পূর্ণ রূপ। বরং সেই বস্তু বা গুণের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠত্ব, দীপ্তি, শক্তি বা সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়েছে, সেটি ঈশ্বরীয় মহিমার একটি বিশেষ প্রকাশ। যেমন সূর্যের আলো সূর্যের উপস্থিতি প্রকাশ করে, কিন্তু আলোকে সূর্যের সম্পূর্ণ সত্তা বলা যায় না। একইভাবে বিভূতি ঈশ্বরের দিকে নির্দেশ করে, কিন্তু কোনো একটি বিভূতি ঈশ্বরের অসীমতাকে সম্পূর্ণ ধারণ করে না।

মানবজীবনে এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের প্রতিভা দেখে ঈর্ষা না করে সেই প্রতিভার মধ্যে মহত্ত্বকে উপলব্ধি করা যায়। প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে শুধু ভোগের আকাঙ্ক্ষা না রেখে তার মধ্যে সৃষ্টির বিস্ময় অনুভব করা যায়। কোনো মহৎ মানুষের সাহস, জ্ঞান, সত্যনিষ্ঠা বা করুণা দেখে নিজের মধ্যেও সেই গুণ বিকাশের অনুপ্রেরণা নেওয়া যায়। এইভাবে বিভূতি দর্শন মানুষের দৃষ্টিকে সংকীর্ণ অহংবোধ থেকে বৃহত্তর চেতনার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

শ্লোকটির সাহিত্যিক সৌন্দর্যও অসাধারণ। কৃষ্ণ একদিকে বলছেন যে তিনি তাঁর বিভূতিগুলির কথা বলবেন, অন্যদিকে একই সঙ্গে জানিয়ে দিচ্ছেন যে তাঁর বিস্তারের কোনো শেষ নেই। ফলে এখানে সীমিত ভাষার মধ্যে অসীমের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ কিছু উদাহরণ শুনতে পারে, কিছু রূপ উপলব্ধি করতে পারে, কিছু গুণের ধ্যান করতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরের অসীম মহিমাকে সম্পূর্ণভাবে শব্দের মধ্যে আবদ্ধ করতে পারে না। কথার সীমা যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকেই অসীমের অনুভূতি শুরু হয়।

এই শ্লোককে একটি বাস্তব উপমার মাধ্যমে বোঝা যায়। একজন মহান শিল্পীর একটি ছবি দেখলে আমরা তার শিল্পীসত্তার সম্পূর্ণ পরিচয় পাই না। কিন্তু সেই ছবির সৌন্দর্য তার সৃষ্টিশীলতার একটি বিশেষ প্রকাশ। একইভাবে একটি অসাধারণ সংগীত একজন শিল্পীর সম্পূর্ণ সত্তা নয়, কিন্তু তার প্রতিভার গভীরতা প্রকাশ করে। জগতের অসংখ্য সৌন্দর্য, শক্তি, জ্ঞান, সত্য ও মহত্ত্বকে গীতার দৃষ্টিতে তেমনই ঈশ্বরীয় সত্তার বিশেষ প্রকাশ হিসেবে দেখা যায়।

শেষ পর্যন্ত এই শ্লোক আমাদের একটি গভীর আধ্যাত্মিক দৃষ্টি প্রদান করে। পৃথিবী তখন আর কেবল বিচ্ছিন্ন বস্তু ও ঘটনার সমষ্টি থাকে না। সূর্যের আলো, আকাশের বিশালতা, পর্বতের স্থিরতা, নদীর প্রবাহ, জ্ঞানের দীপ্তি, সত্যের শক্তি, করুণার কোমলতা এবং মহৎ মানুষের চরিত্র সবকিছুই পরম মহিমার স্মারক হয়ে উঠতে পারে। এই দৃষ্টিতে জগতকে দেখার অর্থ হলো প্রতিটি শ্রেষ্ঠত্বের মধ্যে তার সীমিত রূপকে অতিক্রম করে অসীমের দিকে তাকানো।

সুতরাং “হন্ত তে কথয়িষ্যামি দিব্যা হ্যাত্মবিভূতয়ঃ” কেবল একটি শ্লোকের অংশ নয়। এটি মানুষের দেখার পদ্ধতিকে পরিবর্তন করার একটি আধ্যাত্মিক আহ্বান। বিভূতি শব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে অস্তিত্বের বিশেষ মহিমা, আত্মবিভূতির মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ঈশ্বরের নিজস্ব ঐশ্বরিক প্রকাশ, দিব্য শব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে সেই প্রকাশের অতিমানবীয় দীপ্তি এবং “নাস্ত্যন্তো বিস্তরস্য মে” বাক্যের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে পরম সত্যের অসীমতা। এই শ্লোক আমাদের শেখায় যে ঈশ্বরকে কেবল দূরবর্তী কোনো অতিলৌকিক সত্তা হিসেবে খুঁজতে হবে না। জগতের সত্য, সৌন্দর্য, শক্তি, জ্ঞান, প্রেম, মহত্ত্ব ও বিস্ময়ের মধ্যেও তাঁর প্রকাশ অনুভব করা যায়। তবে কোনো একটি প্রকাশকে ঈশ্বরের সম্পূর্ণতা মনে না করে সেই প্রকাশের মধ্য দিয়ে অসীমের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। এই হলো বিভূতি যোগের গভীরতম শিক্ষা এবং এই কারণেই কৃষ্ণের ভাষায় তাঁর বিস্তারের কোনো অন্ত নেই।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 19, 2026 August 19, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি