সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১০.২ — দেবতা ও মহর্ষির অজ্ঞাত পরম উৎস হিসেবে শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপ

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
 ন মে বিদুঃ সুরগণাঃ প্রভবং ন মহর্ষয়ঃ।অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাং চ সর্বশঃ।।২।।
 ন মে বিদুঃ সুরগণাঃ প্রভবং ন মহর্ষয়ঃ।
অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাং চ সর্বশঃ।।২।।

অনুবাদঃ দেবতারা বা মহর্ষিরাও আমার উৎপত্তি অবগত হতে পারেন না, কেন না, সর্বতোভাবে আমিই দেবতা ও মহর্ষিদের আদি কারণ।

ভগবদ্গীতার দশম অধ্যায় বিভূতি যোগে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পরম স্বরূপ ও বিশ্বজগতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সম্পর্কে একের পর এক গভীর সত্য প্রকাশ করেছেন। এই অধ্যায়ের দ্বিতীয় শ্লোকে তিনি এমন একটি মৌলিক সত্য ঘোষণা করেন, যা ঈশ্বরতত্ত্ব, জ্ঞানতত্ত্ব, দর্শন এবং আধ্যাত্মিক সাধনার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শ্লোকটি হল ন মে বিদুঃ সুরগণাঃ প্রভবং ন মহর্ষয়ঃ। অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাং চ সর্বশঃ। এর সরল অর্থ হল দেবগণ আমার প্রভব জানেন না এবং মহর্ষিগণও জানেন না। কারণ আমিই সর্বতোভাবে দেবগণ ও মহর্ষিগণের আদি। কিন্তু এই বক্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ কেবল এতটুকু নয় যে দেবতা ও ঋষিরা কৃষ্ণকে জানেন না। এখানে কৃষ্ণ তাঁর অনাদি এবং সর্বকারণের কারণ স্বরূপকে প্রকাশ করছেন।

এই শ্লোকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রভব। সংস্কৃত প্রভব শব্দটি প্র এবং ভূ ধাতুর সমন্বয়ে গঠিত। ভূ ধাতুর মূল অর্থ হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা, উৎপন্ন হওয়া বা প্রকাশিত হওয়া। প্র উপসর্গ যুক্ত হলে এর অর্থ আরও বিশেষভাবে প্রকাশ, উদ্ভব, উৎসমূল এবং প্রকৃষ্টভাবে অস্তিত্বে আসার ধারণার দিকে প্রসারিত হয়। তাই প্রভব শব্দকে কেবল জন্ম বা উৎপত্তি বলে অনুবাদ করলে এর গভীরতা সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় না। এর মধ্যে রয়েছে কোনো কিছুর উৎস, উদ্ভবের মূল, প্রকাশের কারণ এবং অস্তিত্বের ভিত্তি। কৃষ্ণ যখন বলেন দেবগণ তাঁর প্রভব জানেন না, তখন তিনি মূলত বোঝাচ্ছেন যে দেবতারা তাঁর সেই অনাদি উৎস বা পরম স্বরূপকে জানতে পারেন না যার থেকে সমস্ত অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটে।

ন মে বিদুঃ পদবন্ধটির মধ্যেও গভীর তাৎপর্য রয়েছে। ন অর্থ নয় এবং মে অর্থ আমার। বিদুঃ শব্দটি বিদ্ ধাতু থেকে এসেছে যার অর্থ জানা, উপলব্ধি করা বা জ্ঞান লাভ করা। এখানে জানা বলতে শুধু কোনো তথ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া বোঝায় না। এর মধ্যে সত্যকে যথার্থভাবে উপলব্ধি করার অর্থও নিহিত রয়েছে। ফলে ন মে বিদুঃ এর ভাব দাঁড়ায় দেবগণ আমার প্রকৃত উৎস বা পরম স্বরূপকে সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারেন না। এই বক্তব্য মানুষের সাধারণ জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরা কোনো বিষয়কে জানি যখন সেটি আমাদের জ্ঞানের পরিসরের মধ্যে আসে। কিন্তু যে সত্য সমস্ত জ্ঞানের ভিত্তি, তাকে সাধারণ জ্ঞানের একটি সীমিত বিষয় হিসেবে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করা সম্ভব নয়।

সুরগণাঃ শব্দের অর্থ দেবগণের সমষ্টি। সুর অর্থ দেবতা এবং গণ অর্থ সমষ্টি বা দল। ভারতীয় ধর্মদর্শনে দেবতারা বিশ্বব্যবস্থার বিভিন্ন ঐশ্বরিক শক্তির প্রকাশ। তাঁরা জগতের নানা কার্যধারার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু কৃষ্ণ এখানে ঘোষণা করছেন যে এই দেবগণও তাঁর আদিম উৎস সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখেন না। এর কারণ পরবর্তী অংশেই স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাং চ সর্বশঃ। অর্থাৎ আমিই দেবগণ ও মহর্ষিগণের আদি। এখানে আদি শব্দটি কেবল সময়ের প্রথম অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। এর অর্থ উৎস, মূল এবং কারণ। কৃষ্ণ বলছেন যে দেবতা ও মহর্ষিদের অস্তিত্বের পূর্বশর্তও তিনি নিজে। তাই তাঁরা তাঁর চূড়ান্ত উৎস হতে পারেন না এবং তাঁকে নিজেদের সীমিত জ্ঞানের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন না।

মহর্ষয়ঃ শব্দটি মহা এবং ঋষি থেকে গঠিত। মহা অর্থ মহান এবং ঋষি হলেন সেই জ্ঞানদ্রষ্টা যিনি গভীর সত্য উপলব্ধি করেছেন বলে ভারতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে বিবেচিত। মহর্ষিরা সাধারণ মানুষের তুলনায় উচ্চতর জ্ঞান, তপস্যা ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির প্রতীক। তবুও কৃষ্ণ বলছেন যে মহর্ষিরাও তাঁর প্রভব সম্পূর্ণভাবে জানেন না। এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানে জ্ঞানের সর্বোচ্চ মানবিক স্তরকেও পরম সত্যের তুলনায় সীমিত হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে মহর্ষিদের জ্ঞান মূল্যহীন। বরং এর অর্থ হল জ্ঞান যত উচ্চ পর্যায়েই পৌঁছাক, পরম সত্য তার চেয়েও অসীম।

অহমাদিঃ শব্দটি অহম এবং আদি এই দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। অহম অর্থ আমি এবং আদি অর্থ প্রথম, মূল, উৎস বা প্রারম্ভ। কৃষ্ণ যখন বলেন অহমাদিঃ তখন তাঁর বক্তব্য হল আমিই আদি। এখানে আমি বলতে ব্যক্তিগত অহংকারের সাধারণ আমি বোঝানো হয় না। এটি পরম সত্তার আমি। যে সত্তার মধ্যে সমস্ত অস্তিত্বের ভিত্তি নিহিত। এই আমি কোনো সীমাবদ্ধ ব্যক্তিসত্তা নয়। গীতার প্রেক্ষাপটে এটি পরমেশ্বরের স্বরূপ। তাই অহমাদিঃ অর্থ আমি সকলের মূল উৎস এবং চূড়ান্ত কারণ।

এখানে হি শব্দটিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। হি একটি অব্যয় যা বক্তব্যকে জোরালো করে এবং কারণ নির্দেশ করে। তাই অহমাদির্হি এর ভাব হল কারণ আমিই তো আদি। অর্থাৎ প্রথম অংশে যে বক্তব্য বলা হয়েছে তার কারণ দ্বিতীয় অংশে দেওয়া হয়েছে। দেবতা ও মহর্ষিরা কৃষ্ণের প্রভব জানেন না, কারণ তাঁদের নিজেদের অস্তিত্বের আদি কৃষ্ণ। এইভাবে শ্লোকটির মধ্যে একটি গভীর কারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যিনি কারও কারণ, তিনি সেই সত্তার দ্বারা সৃষ্ট বা সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যাত হতে পারেন না।

এই বক্তব্যের গভীর দার্শনিক অর্থ বোঝার জন্য কারণ ও কার্য সম্পর্কের কথা বিবেচনা করা যায়। পৃথিবীতে আমরা যে কোনো বিষয়ের উৎপত্তি অনুসন্ধান করলে সাধারণত একটি কারণ খুঁজে পাই। গাছের কারণ বীজ, শিশুর জন্মের কারণ পিতা ও মাতা, একটি প্রতিষ্ঠানের কারণ তার প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয় সেই কারণটির কারণ কী, তাহলে আবার একটি পূর্ববর্তী কারণ সামনে আসে। এই অনুসন্ধান যদি অনন্তকাল চলতে থাকে, তাহলে কোনো চূড়ান্ত ভিত্তি পাওয়া যায় না। গীতার এই শ্লোক সেই অনুসন্ধানকে একটি পরম কারণের দিকে নিয়ে যায়। কৃষ্ণ নিজেকে এমন এক আদিস্বরূপ হিসেবে প্রকাশ করছেন যার আগে আর কোনো কারণ অনুসন্ধান করা যায় না। তাই তিনি শুধু জগতের একটি কারণ নন, তিনি চূড়ান্ত কারণের ধারণার সঙ্গে যুক্ত।

এই কারণে প্রভব এবং আদি শব্দ দুটি পাশাপাশি ব্যবহারের মধ্যে অসাধারণ দার্শনিক সামঞ্জস্য রয়েছে। প্রভব বোঝায় উৎস বা উদ্ভব এবং আদি বোঝায় সেই মূল কারণ যা অন্য সব কিছুর পূর্বে অবস্থান করে। কৃষ্ণ যেন বলছেন যে দেবতা ও মহর্ষিরা তাঁর প্রভব জানেন না, কারণ তাঁদের নিজেদের প্রভবও তাঁর মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ যাঁর থেকে অন্য সব কিছুর উদ্ভব, তাঁকে অন্য কোনো উৎপন্ন সত্তার মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

বেদান্তের দৃষ্টিতে এই শ্লোক আরও গভীর অর্থ লাভ করে। অদ্বৈত বেদান্তে পরম ব্রহ্মকে চূড়ান্ত বাস্তবতা হিসেবে দেখা হয় এবং কৃষ্ণের পরম স্বরূপকে সেই ব্রহ্মতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে কৃষ্ণ বা নারায়ণকে পরম পুরুষোত্তম হিসেবে দেখা হয়, যার সঙ্গে জীব ও জগতের গভীর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। দ্বৈত দর্শনে ঈশ্বর ও জীবের পার্থক্য বাস্তব এবং কৃষ্ণ সর্বোচ্চ স্বাধীন সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ব্যাখ্যার পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকলেও এই ধারাগুলোর মধ্যে একটি মৌলিক মিল রয়েছে। পরম ঈশ্বর কোনো সীমিত সত্তার সৃষ্টি নন এবং সমস্ত নির্ভরশীল সত্তার চূড়ান্ত ভিত্তি ঈশ্বরের মধ্যেই।

ভক্তি দর্শনের ক্ষেত্রেও এই শ্লোক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ প্রায়ই নিজের বুদ্ধি ও ধারণার মধ্যে ঈশ্বরকে আবদ্ধ করতে চায়। সে মনে করে ঈশ্বরকে সম্পূর্ণভাবে যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। কিন্তু কৃষ্ণের এই বক্তব্য মানুষের সেই অহংকারকে নম্র করে দেয়। এখানে জ্ঞানের বিরোধিতা করা হয়নি। বরং জ্ঞানের সীমা স্বীকার করতে বলা হয়েছে। সত্যিকারের জ্ঞান মানুষকে অহংকারী না করে বিনয়ী করে। যত গভীরভাবে কেউ সত্যকে উপলব্ধি করে, ততই সে বুঝতে পারে যে পরম সত্য তার ব্যক্তিগত ধারণার চেয়ে অসীম বৃহৎ।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে শ্লোকটির মনোবৈজ্ঞানিক তাৎপর্যও রয়েছে। মানুষ সাধারণত নিজের অভিজ্ঞতা, বুদ্ধি ও উপলব্ধিকে বাস্তবতার চূড়ান্ত মানদণ্ড বলে মনে করে। কিন্তু মানুষের ইন্দ্রিয় সীমিত, স্মৃতি সীমিত এবং চিন্তার ক্ষমতাও সীমিত। আমরা যা বুঝতে পারি না, তা যে অস্তিত্বহীন এমন ধারণা যুক্তিসঙ্গত নয়। এই শ্লোক মানুষকে নিজের জ্ঞানের সীমা সম্পর্কে সচেতন করে। এটি এক ধরনের বৌদ্ধিক বিনয় সৃষ্টি করে। মানুষকে বলা হয় অনুসন্ধান করতে, প্রশ্ন করতে এবং জ্ঞান অর্জন করতে, কিন্তু একই সঙ্গে স্বীকার করতে যে বাস্তবতার সম্পূর্ণতা তার ধারণার চেয়ে অনেক বিস্তৃত।

এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থও অত্যন্ত গভীর। এখানে দেবগণ বিশ্বশক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। মহর্ষিরা জ্ঞান, তপস্যা এবং আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের প্রতীক। আর কৃষ্ণ প্রতীক হয়ে ওঠেন সেই পরম চেতনার, যাঁর মধ্যে শক্তি ও জ্ঞানের উভয়েরই ভিত্তি নিহিত। এই প্রতীকী পাঠে বলা যায় যে প্রকৃতির শক্তি যত মহৎ হোক এবং জ্ঞান যত গভীর হোক, উভয়েরই একটি পরম ভিত্তি রয়েছে। সেই ভিত্তিকে উপলব্ধি করার জন্য কেবল বাহ্যিক শক্তি বা বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অন্তর্দৃষ্টি, আত্মসংযম, ভক্তি এবং বিনয়।

একটি সহজ উপমা দিয়ে বিষয়টি বোঝা যায়। একটি বিশাল গাছের অসংখ্য ডাল রয়েছে। একটি ডাল অন্য একটি ডালের দিকে তাকিয়ে গাছ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারে। কিন্তু সেই ডাল নিজে গাছটির সম্পূর্ণ উৎস নয়। গাছের মূল কোথায়, তার অস্তিত্বের ভিত্তি কী এবং তার জীবনীশক্তি কোথা থেকে এসেছে, তা বোঝার জন্য ডালের সীমা অতিক্রম করতে হয়। একইভাবে দেবতা ও মহর্ষিরা বিশ্বব্যবস্থার অত্যন্ত উচ্চতর প্রকাশ হলেও তাঁরা পরম উৎস নন। তাঁদের অস্তিত্বও একটি বৃহত্তর সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।

এই শ্লোক আমাদের ব্যক্তিগত জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। জীবনে আমরা জ্ঞান অর্জন করব, যুক্তি ব্যবহার করব, প্রশ্ন করব এবং সত্য অনুসন্ধান করব। কিন্তু জ্ঞানের সঙ্গে বিনয় থাকা জরুরি। নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা দুর্বলতা নয়। বরং এটি গভীর জ্ঞানের লক্ষণ। একজন মানুষ যত বেশি সত্যের অনুসন্ধান করেন, ততই তিনি উপলব্ধি করেন যে অজানার পরিসর কত বিশাল। এই উপলব্ধি অহংকারকে কমিয়ে মানুষকে আরও গ্রহণশীল ও পরিণত করে।

ন মে বিদুঃ সুরগণাঃ প্রভবং ন মহর্ষয়ঃ এই বাক্যের মধ্যে তাই শুধু একটি ধর্মীয় ঘোষণা নেই। এর মধ্যে রয়েছে অস্তিত্বের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন, জ্ঞানের সীমা সম্পর্কে শিক্ষা, ঈশ্বরের অনাদিত্ব সম্পর্কে দর্শন এবং মানুষের অহংকার অতিক্রম করার আহ্বান। প্রভব শব্দ আমাদের উৎসের কথা স্মরণ করায়। বিদুঃ আমাদের জ্ঞানের কথা মনে করায়। আদি আমাদের চূড়ান্ত কারণের কথা জানায়। আর সর্বশঃ শব্দটি প্রকাশ করে যে এই কারণত্ব আংশিক নয়, সর্বতোভাবে বিস্তৃত।

সবশেষে বলা যায়, এই শ্লোকের মূল শিক্ষা হল পরম সত্য কোনো সীমিত সত্তার সৃষ্টি নয়। দেবতা ও মহর্ষিরা যতই মহান হন, তাঁদের অস্তিত্বও সেই পরম উৎসের উপর নির্ভরশীল। তাই যিনি সকলের আদি, তাঁকে অন্য কারও উৎপত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। যিনি সমস্ত জ্ঞানের ভিত্তি, তাঁকে কেবল সীমিত জ্ঞানের বিষয় বানানো যায় না। আর যিনি সকল অস্তিত্বের উৎস, তাঁর সামনে মানুষের সর্বোচ্চ জ্ঞানও শেষ পর্যন্ত বিনয়ের অবস্থানে এসে দাঁড়ায়। এই কারণেই গীতার এই শ্লোক কেবল ঈশ্বরের মহিমা ঘোষণা করে না, মানুষের জ্ঞানচর্চাকে আরও বিনয়ী, গভীর এবং সত্যনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানায়।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 19, 2026 August 19, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি