শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১০.২১ — আদিত্যদের মধ্যে বিষ্ণু, জ্যোতিষ্মানদের মধ্যে সূর্য ও নক্ষত্রদের মধ্যে চন্দ্র
আদত্যানামহং বিষ্ণুর্জ্যোতিষাং রবিরংশুমান্।
মরীচির্মরুতামস্মি নক্ষত্রাণামহং শশী।।২১।।
অনুবাদঃ আদিত্যদের মধ্যে আমি বিষ্ণু, জ্যোতিষ্কদের মধ্যে আমি কিরণশালী সূর্য, মরুতদের মধ্যে আমি মরীচি এবং নক্ষত্রদের মধ্যে আমি চন্দ্র।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দশম অধ্যায় বিভূতি যোগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বিশ্বব্যাপী মহিমার বিভিন্ন প্রকাশ অর্জুনের সামনে তুলে ধরেছেন। এই অধ্যায়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে পরম সত্যকে যদি সর্বত্র অনুভব করতে হয়, তবে জগতের শ্রেষ্ঠ, সুন্দর, শক্তিশালী, দীপ্তিমান ও মহিমান্বিত প্রকাশগুলির দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকাতে হবে। দশম অধ্যায়ের একবিংশ শ্লোকে তিনি বলেন, আদিত্যদের মধ্যে তিনি বিষ্ণু, জ্যোতিষ্মানদের মধ্যে তিনি কিরণময় সূর্য, মরুৎদের মধ্যে তিনি মরীচি এবং নক্ষত্রদের মধ্যে তিনি চন্দ্র। এই শ্লোকের মধ্যে প্রকৃতি, দেবতত্ত্ব, জ্যোতি, শক্তি, মন, মহাবিশ্ব এবং পরম চৈতন্যের এক অপূর্ব সমন্বয় প্রকাশিত হয়েছে।
শ্লোকটির মূল পাঠ হলো “আদিত্যানামহং বিষ্ণুর্জ্যোতিষাং রবিরংশুমান্। মরীচির্মরুতামস্মি নক্ষত্রাণামহং শশী।” এর সরল অর্থ হলো, আদিত্যদের মধ্যে আমি বিষ্ণু, জ্যোতিষ্মানদের মধ্যে আমি কিরণময় সূর্য, মরুৎদের মধ্যে আমি মরীচি এবং নক্ষত্রদের মধ্যে আমি চন্দ্র। কিন্তু এই সরল অনুবাদের অন্তরালে একটি গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা রয়েছে। এখানে শ্রীকৃষ্ণ কোনো সীমিত বস্তু বা নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করেননি। বরং তিনি দেখিয়েছেন যে জগতের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে যে শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ প্রকাশ দেখা যায়, তার মধ্যেই পরম সত্তার মহিমাকে উপলব্ধি করা সম্ভব।
প্রথমেই আসে “আদিত্যানাম” শব্দটি। এর অর্থ আদিত্যদের মধ্যে। আদিত্য শব্দটি অদিতি থেকে উৎপন্ন। বৈদিক সাহিত্যে অদিতি দেবমাতারূপে পরিচিত এবং তাঁর সন্তানদের আদিত্য বলা হয়। অদিতি শব্দের মধ্যেই অসীমতা, অবিভাজ্যতা এবং সীমাহীনতার একটি ভাব নিহিত রয়েছে। সেই দৃষ্টিতে আদিত্য কেবল কয়েকজন দেবতার নাম নয়, বরং বৈদিক বিশ্বচেতনার মধ্যে মহাজাগতিক শক্তির এক বিশেষ প্রকাশ। শ্রীকৃষ্ণ যখন বলেন “আদিত্যানামহং বিষ্ণুঃ”, তখন তিনি আদিত্যদের মধ্যে বিষ্ণুকে নিজের বিভূতি হিসেবে নির্দেশ করেন।
“বিষ্ণু” শব্দটির সঙ্গে সংস্কৃত “বিশ” ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে বলে ব্যুৎপত্তিগতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। এই ধাতুর একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ হলো প্রবেশ করা বা ব্যাপ্ত হওয়া। সেই অর্থে বিষ্ণু হলেন যিনি সর্বত্র ব্যাপ্ত, যিনি সমগ্র বিশ্বে প্রবেশ করে আছেন এবং যাঁর উপস্থিতি কোনো একটি স্থান বা সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়। এই অর্থটি শ্লোকের অন্তর্নিহিত দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অসংখ্য রূপের মধ্যে যে এক সর্বব্যাপী সত্তা বিরাজমান, বিষ্ণু নামটি সেই সর্বব্যাপিতার প্রতীক হয়ে ওঠে। তাই “আদিত্যানামহং বিষ্ণুঃ” কেবল একটি দেবতার পরিচয় নয়, বরং বহুত্বের মধ্যে একত্ব উপলব্ধির একটি দার্শনিক সংকেত।
এরপর আসে “জ্যোতিষাম” শব্দটি। জ্যোতি অর্থ আলো, দীপ্তি বা আলোকপ্রকাশ। ভারতীয় আধ্যাত্মিক চিন্তায় আলো কেবল চোখে দেখা বস্তু নয়। আলো জ্ঞান, চেতনা, সত্য এবং অজ্ঞতার অবসানেরও প্রতীক। অন্ধকার যেমন অজ্ঞতার প্রতীক, তেমনি আলো জ্ঞানের প্রতীক। তাই জ্যোতিষাম শব্দটি শ্লোকে এমন সব আলোকময় সত্তার ধারণা বহন করে, যাদের মধ্যে প্রকাশ, দীপ্তি ও উজ্জ্বলতা রয়েছে।
এই জ্যোতিষ্মানদের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে “রবিরংশুমান” বলে প্রকাশ করেছেন। রবি অর্থ সূর্য এবং অংশুমান অর্থ কিরণসম্পন্ন বা রশ্মিময়। অংশু শব্দের অর্থ কিরণ বা রশ্মি। সুতরাং রবিরংশুমান অর্থ কিরণময় সূর্য। এখানে শুধু সূর্যের নাম উচ্চারণ করা হয়নি, বরং সূর্যের এমন একটি বৈশিষ্ট্যকে সামনে আনা হয়েছে যার মাধ্যমে তার প্রকৃত মহিমা উপলব্ধি করা যায়। সূর্য আলো দেয়, তাপ দেয় এবং জীবনের ধারাবাহিকতার জন্য অপরিহার্য শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। তাই সূর্য এখানে কেবল আকাশের একটি জ্যোতিষ্ক নয়, বরং জীবন, জ্ঞান, প্রকাশ এবং শক্তির প্রতীক।
সূর্যের আলো মানুষের বাহ্যিক অন্ধকার দূর করে, কিন্তু গীতার দৃষ্টিতে এই সূর্য অন্তরের অন্ধকার দূর করারও প্রতীক। মানুষের অজ্ঞতা, সংশয়, ভয় এবং বিভ্রান্তি যখন জ্ঞানের আলোতে দূর হয়, তখন তার অন্তরেও এক ধরনের সূর্যোদয় ঘটে। সেই কারণে রবিরংশুমান শব্দের মধ্যে বাহ্যিক সূর্যালোকের পাশাপাশি অন্তরের জ্ঞানের আলোও অনুভব করা যায়। শ্রীকৃষ্ণ যেন বলতে চান, জগতের যে আলো তোমার চোখকে দৃশ্যমান জগৎ দেখায়, সেই আলোর মধ্যেও তুমি আমার উপস্থিতির স্মরণ করতে পারো।
এরপর শ্লোকে এসেছে “মরীচির্মরুতামস্মি”। মরুৎরা বৈদিক সাহিত্যে ঝড়, বায়ু, গর্জন ও প্রকৃতির গতিশীল শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত দেবগোষ্ঠী। মরুৎ শব্দের মধ্যে শক্তি, গতি এবং প্রবলতার ভাব রয়েছে। আর মরীচি শব্দের অর্থ কিরণ বা আলোকরশ্মি এবং বৈদিক ও পুরাণীয় সাহিত্যে মরীচি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঋষি ও দেবসত্তার নাম হিসেবেও পরিচিত। শ্লোকের প্রেক্ষাপটে মরুৎদের মধ্যে মরীচিকে নিজের বিভূতি হিসেবে নির্দেশ করে শ্রীকৃষ্ণ প্রকৃতির প্রবল ও গতিশীল শক্তির মধ্যেও একটি বিশেষ ঈশ্বরীয় প্রকাশের কথা তুলে ধরেছেন।
মরুৎদের ধারণা মানুষের জীবনের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। জীবন কখনো স্থির নয়। পরিবর্তন, গতি, সংঘাত এবং নতুন সৃষ্টির মধ্য দিয়েই জীবন এগিয়ে চলে। ঝড় কখনো ধ্বংস করে, আবার কখনো পুরোনো স্থবিরতাকে ভেঙে নতুন পরিবেশের জন্ম দেয়। তাই মরুৎদের প্রতীকী অর্থ হতে পারে পরিবর্তনের শক্তি। মানুষের জীবনেও কখনো এমন শক্তির প্রয়োজন হয় যা ভয় ও জড়তা ভেঙে তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই গতিশীল শক্তির মধ্যেও ঈশ্বরীয় উপস্থিতি অনুভব করা যায়।
শেষে এসেছে “নক্ষত্রাণামহং শশী”। নক্ষত্রাণাম অর্থ নক্ষত্রদের মধ্যে এবং শশী অর্থ চন্দ্র। শশী চন্দ্রের একটি অত্যন্ত কাব্যিক নাম। শশ শব্দের অর্থ খরগোশ। প্রাচীন ভারতীয় কল্পনায় চাঁদের পৃষ্ঠে খরগোশের মতো একটি চিহ্ন দেখা যায় বলে চন্দ্রকে শশী বলা হয়েছে। এই নামের মধ্য দিয়ে ভারতীয় কবিকল্পনার সৌন্দর্যও প্রকাশিত হয়েছে। একই আকাশে অসংখ্য নক্ষত্রের মধ্যে চন্দ্রের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। তাই নক্ষত্রদের মধ্যে চন্দ্রকে নিজের বিভূতি হিসেবে উল্লেখ করে শ্রীকৃষ্ণ আকাশের শান্ত, কোমল এবং মনোহর সৌন্দর্যের দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
চন্দ্রের প্রতীকী অর্থ সূর্যের তুলনায় ভিন্ন। সূর্য তীব্র আলো ও শক্তির প্রতীক, আর চন্দ্র কোমলতা, প্রশান্তি, সৌন্দর্য এবং মননের প্রতীক। ভারতীয় দর্শনে চন্দ্রের সঙ্গে মনেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের মন যেমন কখনো শান্ত, কখনো অস্থির, কখনো উজ্জ্বল আবার কখনো মেঘাচ্ছন্ন হয়, তেমনি চন্দ্রও বিভিন্ন কলায় প্রকাশিত হয়। তাই চন্দ্রের মধ্যে জীবনের কোমল ও অনুভূতিশীল দিকের একটি প্রতীকী প্রকাশ দেখা যায়।
এই শ্লোকের সবচেয়ে গভীর শব্দগুলির একটি হলো “অহম” অর্থাৎ আমি। এখানে “আমি” কোনো সাধারণ ব্যক্তিগত অহংকারের প্রকাশ নয়। সাধারণ মানুষের আমি সীমাবদ্ধ, ব্যক্তিগত এবং পরিবর্তনশীল। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের “আমি” হলো সর্বব্যাপী পরম সত্তার আমি। তাই তিনি বলেন, আমি বিষ্ণু, আমি সূর্য, আমি মরীচি এবং আমি চন্দ্র। এর অর্থ এই নয় যে জগতের প্রতিটি বস্তু আক্ষরিকভাবে একই রূপে কৃষ্ণ হয়ে গেছে। বরং অর্থ হলো, যে মহত্ত্ব, শক্তি, সৌন্দর্য, আলো ও প্রশান্তি আমরা বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে দেখি, তার চূড়ান্ত উৎস সেই পরম সত্তা।
এই শিক্ষা অদ্বৈত দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। অদ্বৈত বেদান্তে পরম সত্য এক এবং অবিভাজ্য। বহির্জগতে আমরা নানা নাম, রূপ ও বৈচিত্র্য দেখি, কিন্তু তার অন্তরালে একটি একক সত্যকে উপলব্ধি করা যায়। সেই দৃষ্টিতে সূর্য, চন্দ্র, প্রকৃতি ও দেবতার বিভিন্ন প্রকাশ আলাদা বলে মনে হলেও তাদের অস্তিত্বের গভীরে এক পরম সত্যের উপস্থিতি রয়েছে। এই শ্লোক তাই বহুত্বের মধ্যে একত্বের সন্ধান করতে শেখায়।
বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনের দৃষ্টিতেও এই শ্লোকের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই দর্শনে জগত ও জীব ঈশ্বরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। বিশ্ব ঈশ্বর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোনো বাস্তবতা নয়। তাই বিশ্বজগতের মহত্ত্ব ও সৌন্দর্যের মধ্যে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশিত হতে পারে। আর ভক্তির দৃষ্টিতে এই শ্লোক আরও সহজ ও হৃদয়গ্রাহী। ভক্ত যখন সূর্যের দিকে তাকায়, তখন সে শুধু সূর্য দেখে না, ঈশ্বরের আলো স্মরণ করে। যখন চন্দ্রকে দেখে, তখন তার মনে ঈশ্বরের শান্ত ও কোমল রূপের কথা জাগে। প্রকৃতির প্রবল শক্তি দেখলে সে ঈশ্বরের শক্তি অনুভব করে। এইভাবে জগৎ হয়ে ওঠে ঈশ্বরস্মরণের একটি বিশাল ক্ষেত্র।
এই শ্লোকের প্রতীকী ব্যাখ্যাও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিষ্ণু সর্বব্যাপিতার প্রতীক, সূর্য জ্ঞান ও প্রকাশের প্রতীক, মরুৎ গতি ও শক্তির প্রতীক এবং চন্দ্র শান্তি ও মননের প্রতীক। এই চারটি প্রতীক একত্র করলে মানবজীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়। মানুষের জীবনে যেমন জ্ঞান দরকার, তেমনি শক্তি দরকার। শক্তির পাশাপাশি প্রশান্তি দরকার এবং এই সব কিছুকে ধারণ করার জন্য একটি বিস্তৃত চেতনা দরকার। শ্রীকৃষ্ণের বিভূতি যেন মানুষের জীবনের এই বিভিন্ন মাত্রার মধ্যে ঐক্য স্থাপন করে।
এই শ্লোকের একটি মনোবৈজ্ঞানিক দিকও রয়েছে। মানুষ সাধারণত জগতের দিকে অভ্যাসগত দৃষ্টিতে তাকায়। প্রতিদিন সূর্যোদয় দেখে কিন্তু তার মহিমা অনুভব করে না। রাতে চাঁদ দেখে কিন্তু তার অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য উপলব্ধি করে না। গীতার শিক্ষা সেই অভ্যাসগত দৃষ্টিকে পরিবর্তন করতে চায়। সূর্যকে শুধু একটি জ্যোতিষ্ক হিসেবে না দেখে জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। চাঁদকে শুধু আকাশের বস্তু হিসেবে না দেখে প্রশান্তির প্রতীক হিসেবে অনুভব করা যায়। ঝড়কে শুধু প্রকৃতির ঘটনা হিসেবে না দেখে পরিবর্তনের শক্তির প্রতীক হিসেবে উপলব্ধি করা যায়। তখন বাহ্যিক জগত মানুষের অন্তর্জগতকে জাগ্রত করার মাধ্যম হয়ে ওঠে।
বাস্তব জীবনে এই শিক্ষার প্রয়োগ অত্যন্ত সহজ। সকালে সূর্যের আলো মুখে পড়লে মানুষ মনে করতে পারে যে তার জীবনের অজ্ঞতার অন্ধকারও একদিন জ্ঞানের আলোতে দূর হতে পারে। পূর্ণিমার রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে সে অনুভব করতে পারে যে জীবনে শুধু সাফল্য ও শক্তিই নয়, শান্তি ও কোমলতাও প্রয়োজন। ঝড়ো বাতাসের শব্দ শুনে সে উপলব্ধি করতে পারে যে পরিবর্তন জীবনের স্বাভাবিক অংশ। আর গভীর রাতে অসংখ্য নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে সে নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার ক্ষুদ্রতা এবং মহাবিশ্বের অসীমতার কথা স্মরণ করতে পারে।
এই কারণেই শ্লোকটি শুধু একটি ধর্মীয় বক্তব্য নয়, এটি এক ধরনের দৃষ্টিশিক্ষা। সাধারণ দৃষ্টি বলে সূর্য একটি জ্যোতিষ্ক, চন্দ্র একটি জ্যোতিষ্ক এবং প্রকৃতি কেবল বাহ্যিক জগত। কিন্তু বিভূতির দৃষ্টি বলে এই সব কিছুর মধ্যেই এমন একটি মহত্ত্ব আছে যা মানুষের অন্তরকে পরম সত্যের দিকে ফিরিয়ে নিতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে প্রকৃতি আর নিছক বস্তুসমষ্টি থাকে না। প্রকৃতি হয়ে ওঠে একটি জীবন্ত আধ্যাত্মিক ভাষা।
সবশেষে বলা যায়, “আদিত্যানামহং বিষ্ণুর্জ্যোতিষাং রবিরংশুমান্। মরীচির্মরুতামস্মি নক্ষত্রাণামহং শশী” শ্লোকটি মানুষের দৃষ্টিকে সীমিত থেকে অসীমের দিকে নিয়ে যায়। ভাষাগতভাবে এখানে আদিত্য, বিষ্ণু, জ্যোতি, রবি, অংশুমান, মরীচি, মরুৎ, নক্ষত্র এবং শশী শব্দের মধ্যে বৈদিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীরতা নিহিত রয়েছে। দার্শনিকভাবে এটি বহুত্বের মধ্যে একত্ব উপলব্ধির শিক্ষা দেয়। প্রতীকীভাবে এটি সর্বব্যাপিতা, জ্ঞান, শক্তি ও প্রশান্তির এক মহাজাগতিক সমন্বয়। আর আধ্যাত্মিকভাবে এর মূল আহ্বান হলো জগতের শ্রেষ্ঠ ও দীপ্তিমান প্রকাশগুলির মধ্যে পরম সত্তাকে অনুভব করা। সূর্যের আলো, চন্দ্রের শান্তি, প্রকৃতির শক্তি এবং মহাকাশের অসীমতার দিকে তাকিয়ে যদি মানুষের অন্তরে পরম সত্যের স্মরণ জাগে, তবে সেই মুহূর্তেই বিভূতি যোগ তার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূর্ণ করে। শ্রীকৃষ্ণ যেন আমাদের শেখান যে ঈশ্বরকে অনুভব করার জন্য সবসময় দূরে কোথাও যেতে হয় না। কখনো কখনো একটি সূর্যোদয়, একটি চাঁদের রাত, একটি প্রবল বাতাস কিংবা একটি নক্ষত্রভরা আকাশই যথেষ্ট, যদি দেখার চোখটি জাগ্রত হয়।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!