সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১০.২৮ — অস্ত্রের মধ্যে বজ্র, গাভীর মধ্যে কামধুক্, প্রজননকারীদের মধ্যে কন্দর্প ও সর্পদের মধ্যে বাসুকি

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
আয়ুধানামহং বজ্রং ধেনূনামস্মি কামধুক্।প্রজন্শ্চাস্মি কন্দর্পঃ সর্পাণামস্মি বাসুকিঃ।।২৮।।
আয়ুধানামহং বজ্রং ধেনূনামস্মি কামধুক্।
প্রজন্শ্চাস্মি কন্দর্পঃ সর্পাণামস্মি বাসুকিঃ।।২৮।।

অনুবাদঃ সমস্ত অস্ত্রের মধ্যে আমি বজ্র, গাভীদের মধ্যে আমি কামধেনু। সন্তান উৎপাদনের কারণ আমিই কামদেব এবং সর্পদের মধ্যে আমি বাসুকি। সমস্ত নাগদের মধ্যে আমি অনন্ত এবং জলচরদের মধ্যে আমি বরুণ। পিতৃদের মধ্যে আমি অর্যমা এবং দন্ডদাতাদের মধ্যে আমি যম।

ভগবদ্গীতার দশম অধ্যায় বিভূতি যোগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ঐশ্বরিক প্রকাশকে বিভিন্ন শ্রেষ্ঠ ও মহিমান্বিত সত্তার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় অষ্টাবিংশতি অর্থাৎ দশম অধ্যায়ের ২৮তম শ্লোকে তিনি বলেন, “অস্ত্রসমূহের মধ্যে আমি বজ্র, গাভীদের মধ্যে আমি কামধুক্, প্রজননকারীদের মধ্যে আমি কন্দর্প এবং সর্পদের মধ্যে আমি বাসুকি।” এই শ্লোকটি বাহ্যিকভাবে কয়েকটি পৌরাণিক সত্তার পরিচয় দিলেও এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনেক গভীর। এখানে শক্তি, পুষ্টি, সৃষ্টি, আকাঙ্ক্ষা এবং সুপ্ত শক্তির মধ্য দিয়ে পরম সত্তার প্রকাশকে উপলব্ধি করার একটি দার্শনিক পথ নির্দেশ করা হয়েছে।

শ্লোকটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো “আয়ুধানাম্”। সংস্কৃত “আয়ুধ” শব্দের অর্থ অস্ত্র বা যুদ্ধের উপকরণ। শব্দটির সঙ্গে সংস্কৃত যুধ্ ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে, যার মূল অর্থ যুদ্ধ করা বা সংগ্রাম করা। সেই অর্থে আয়ুধ হলো এমন একটি উপকরণ যার সাহায্যে সংগ্রাম করা হয়। “আয়ুধানাম্” হলো আয়ুধ শব্দের বহুবচন ষষ্ঠী রূপ এবং এর অর্থ অস্ত্রসমূহের মধ্যে। কৃষ্ণ যখন বলেন “আয়ুধানামহং” তখন তিনি বোঝাচ্ছেন যে অস্ত্রের জগতে যে শক্তি সর্বোচ্চ উৎকর্ষ ও অপ্রতিরোধ্যতার প্রতীক, তিনি সেই শক্তির মধ্যেই প্রকাশিত।

এরপর আসে “বজ্রং” শব্দটি। বজ্র সংস্কৃত ও ভারতীয় ধর্মীয় সাহিত্যে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি প্রতীক। পুরাণ ও বৈদিক ঐতিহ্যে বজ্র হলো দেবরাজ ইন্দ্রের প্রধান অস্ত্র। এটি অসুরবিনাশী শক্তির প্রতীক এবং তার সঙ্গে অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা, কঠোরতা ও দৃঢ়তার ধারণা যুক্ত। বজ্র শব্দের আরেকটি অর্থ হীরক বা অত্যন্ত কঠিন বস্তু। ফলে বজ্রের মধ্যে একই সঙ্গে আঘাত করার শক্তি এবং নিজে সহজে ভেঙে না যাওয়ার দৃঢ়তা রয়েছে। কৃষ্ণের বিভূতি হিসেবে বজ্রকে বোঝালে এর গভীর অর্থ দাঁড়ায় এমন এক শক্তি যা অন্যায়, অজ্ঞতা ও দুর্বলতার আবরণ ভেদ করতে পারে এবং সত্যের পক্ষে অটল থাকতে পারে।

মানবজীবনের দৃষ্টিতে বজ্র একটি গভীর মানসিক প্রতীকও বটে। মানুষের জীবনে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি আসে যখন তাকে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ভয়, সংশয়, ব্যর্থতা এবং প্রতিকূলতার সামনে যে মন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে স্থির থাকতে পারে, সেই মন এক অর্থে বজ্রের মতো। তাই এখানে বজ্র কেবল বাহ্যিক অস্ত্র নয়, অন্তরের দৃঢ় সংকল্পেরও প্রতীক। মানুষের আত্মশক্তি যখন দুর্বলতাকে অতিক্রম করে সত্যের দিকে অগ্রসর হয়, তখন তার চেতনার মধ্যেও বজ্রের প্রকাশ ঘটে।

শ্লোকের পরবর্তী অংশ হলো “ধেনূনামস্মি কামধুক্”। “ধেনু” শব্দের অর্থ গাভী। ভারতীয় সংস্কৃতিতে গাভী কেবল একটি প্রাণী নয়, বরং পুষ্টি, মাতৃত্ব, দান ও জীবনধারণের প্রতীক। গাভী নিজের দেহ থেকে দুধ প্রদান করে এবং সেই দুধ অন্য প্রাণীর পুষ্টির কারণ হয়। এই কারণে ধেনু শব্দের মধ্যে পোষণ ও দানের একটি গভীর সাংস্কৃতিক অর্থ রয়েছে। কৃষ্ণ যখন গাভীদের মধ্যে নিজেকে কামধুক্ হিসেবে প্রকাশ করছেন, তখন তিনি এমন এক সত্তার কথা বলছেন যে কামনা অনুযায়ী ফল প্রদান করে এবং অন্যকে পুষ্ট করে।

“কামধুক্” শব্দটি কাম ও দুহ্ ধাতুর ভাবের সঙ্গে যুক্ত। কাম অর্থ ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা বা মনোবাঞ্ছা এবং দুহ্ ধাতুর অর্থ দোহন করা বা আহরণ করা। সেই অর্থে কামধুক্ হলো এমন এক সত্তা যা কাম্য ফল দান করে বা ইচ্ছিত বস্তু প্রদান করে। এই ধারণার সঙ্গে কামধেনুর পৌরাণিক ভাবনা গভীরভাবে সম্পর্কিত। কামধেনু ভারতীয় কল্পনায় এমন এক ঐশ্বরিক গাভী যিনি মানুষের প্রয়োজন ও কামনা পূরণ করতে সক্ষম। তাই কামধুক্ কেবল প্রাচুর্যের প্রতীক নয়, বরং প্রকৃতির সেই উদারতার প্রতীক যার মাধ্যমে জীবন পুষ্টি ও সম্পদ লাভ করে।

কামধুকের মধ্যে একটি গভীর দার্শনিক শিক্ষা রয়েছে। পৃথিবীর প্রকৃতি মানুষকে অসংখ্য সম্পদ প্রদান করে। খাদ্য, জল, বায়ু, আলো, উদ্ভিদ এবং জীবনের অসংখ্য উপাদান মানুষের অস্তিত্বকে ধারণ করে। মানুষ প্রকৃতির কাছ থেকে গ্রহণ করে এবং প্রকৃতি তার অস্তিত্বের মাধ্যমে ক্রমাগত দান করে চলে। এই দৃষ্টিতে কামধুক্ হলো সেই মহাদাত্রী প্রকৃতির প্রতীক, যে নিজে ধারণ করে এবং অন্যকে পুষ্ট করে। তাই এই শব্দের গভীর অর্থ শুধু ইচ্ছাপূরণ নয়, বরং দান, পুষ্টি এবং জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা।

এরপর শ্লোকে এসেছে “প্রজনশ্চাস্মি কন্দর্পঃ”। “প্রজন” শব্দটি সংস্কৃত জন্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। জন্ ধাতুর অর্থ জন্ম নেওয়া, জন্ম দেওয়া বা উৎপন্ন হওয়া। জন্ম, জনক, জননী, প্রজন্ম এবং প্রজনন শব্দগুলোর মধ্যেও একই মূল ভাব বিদ্যমান। প্রজন অর্থ জীবনের সৃষ্টি, বংশবৃদ্ধি এবং নতুন জীবনের আবির্ভাব। এই শব্দের মাধ্যমে কৃষ্ণ অস্তিত্বের সৃষ্টিশীল ধারাকে তাঁর বিভূতি হিসেবে দেখিয়েছেন।

প্রজননের সঙ্গে কন্দর্পের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কন্দর্প হলো কামদেবের একটি নাম। সাধারণভাবে কামদেবকে প্রেম, আকর্ষণ ও কামনার দেবতা হিসেবে ভাবা হয়। কিন্তু ভারতীয় দর্শনে কাম শব্দের অর্থ কেবল যৌন আকাঙ্ক্ষা নয়। কাম হলো ইচ্ছা, আকর্ষণ, ভালোবাসা এবং কোনো কিছু সৃষ্টি বা অর্জন করার প্রবল বাসনা। মানবজীবনের চার পুরুষার্থের একটি হলো কাম। তাই কামকে সম্পূর্ণ নেতিবাচক হিসেবে দেখা ভারতীয় দার্শনিক ঐতিহ্যের যথার্থ ব্যাখ্যা নয়। নিয়ন্ত্রিত ও শুদ্ধ কামনা মানুষের সৃষ্টিশীলতার অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে।

একজন শিল্পী ছবি আঁকেন কারণ তাঁর মধ্যে সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা আছে। একজন কবি কবিতা লেখেন কারণ তাঁর মধ্যে প্রকাশের আকর্ষণ আছে। একজন বিজ্ঞানী নতুন কিছু আবিষ্কার করতে চান কারণ তাঁর মধ্যে অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। একজন মানুষ সংসার গড়ে তোলে কারণ তার মধ্যে সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং জীবনের ধারাবাহিকতার প্রতি আকর্ষণ রয়েছে। এই দৃষ্টিতে কন্দর্প হলো সৃষ্টির অন্তর্নিহিত আকর্ষণশক্তি। কৃষ্ণের বিভূতি হিসেবে কন্দর্প তাই অন্ধ ভোগের প্রতীক নয়, বরং শুদ্ধ ও সৃষ্টিমুখী আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

এখানে কাম ও আসক্তির পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। কাম হলো ইচ্ছা, কিন্তু সেই ইচ্ছার সঙ্গে যখন অহংকার, অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং অধিকারবোধ যুক্ত হয় তখন তা আসক্তিতে পরিণত হতে পারে। গীতার শিক্ষা ইচ্ছাকে অন্ধভাবে দমন করা নয়, বরং তাকে শুদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পথে পরিচালিত করা। সৃষ্টিশীল কামনা মানুষকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু অশুদ্ধ কামনা মানুষকে বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারে। তাই কন্দর্পের বিভূতি আমাদের শেখায় যে আকাঙ্ক্ষা মানুষের শত্রু নয়। আকাঙ্ক্ষাকে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিই মূল বিষয়।

শ্লোকের শেষ অংশে কৃষ্ণ বলেন “সর্পাণামস্মি বাসুকিঃ”। সর্প শব্দটি সংস্কৃত সর্প ধাতুগত ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর মধ্যে সর্পিলভাবে চলার ভাব রয়েছে। সর্প ভারতীয় সংস্কৃতিতে একটি বহুমাত্রিক প্রতীক। একদিকে এটি বিপদ, ভয় ও রহস্যের প্রতীক, অন্যদিকে এটি শক্তি, রূপান্তর, পুনর্জন্ম এবং সুপ্ত ক্ষমতার প্রতীক। সাপ তার পুরোনো চর্ম ত্যাগ করে নতুন রূপে প্রকাশিত হয় বলে তার সঙ্গে পুনর্জন্ম ও রূপান্তরের প্রতীকী সম্পর্কও তৈরি হয়েছে।

বাসুকি হলেন পুরাণে বিখ্যাত নাগরাজ। সমুদ্র মন্থনের কাহিনিতে তাঁকে মন্দর পর্বতকে কেন্দ্র করে মন্থনের রজ্জু হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এই কারণে বাসুকির মধ্যে এক বিশেষ প্রতীকী অর্থ নিহিত রয়েছে। তিনি এমন এক শক্তির প্রতীক যাকে বৃহৎ কোনো উদ্দেশ্যে নিয়োজিত করা যায়। সর্পের মতো তাঁর শক্তি একই সঙ্গে রহস্যময়, সঞ্চিত এবং প্রয়োজনে প্রবলভাবে প্রকাশিত হতে পারে। মানুষের অন্তর্জগতেও এমন অনেক শক্তি থাকে যা প্রকাশ্যে দেখা যায় না। সেগুলো সুপ্ত থাকে এবং সঠিক সময়ে সঠিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মহৎ কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

এই শ্লোককে মানুষের মনস্তত্ত্বের আলোকে দেখলে চারটি শক্তির একটি চমৎকার চিত্র পাওয়া যায়। বজ্র মানুষের দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। কামধুক মানুষের দান ও সৃষ্টিশীল সম্পদের প্রতীক। কন্দর্প মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সৃষ্টির প্রেরণার প্রতীক। আর বাসুকি মানুষের অন্তর্নিহিত ও সুপ্ত শক্তির প্রতীক। মানুষের পূর্ণ বিকাশের জন্য এই চারটি শক্তিই প্রয়োজন। শুধু শক্তি থাকলেই হবে না, সেই শক্তিকে পুষ্টি ও সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করতে হবে। আবার সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণ না করলে তা অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই শক্তির সঙ্গে প্রজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় অপরিহার্য।

দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই শ্লোকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো ঈশ্বরকে কোনো একটি নির্দিষ্ট রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা যায় না। অদ্বৈত দর্শনের আলোকে জগতে যে কোনো শক্তি ও মহিমার অস্তিত্ব শেষ পর্যন্ত পরম সত্যের উপর নির্ভরশীল। বজ্রের শক্তি, প্রকৃতির পুষ্টি, আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টিশীলতা এবং সর্পের সুপ্ত শক্তি সবই সেই এক পরম বাস্তবতার বিভিন্ন প্রকাশ। ভক্তির দৃষ্টিতে আবার এই শ্লোক মানুষকে শেখায় যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠত্বের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করা যায়। শক্তির মধ্যে ঈশ্বরকে দেখা যায়, পুষ্টির মধ্যে ঈশ্বরকে দেখা যায়, সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ঈশ্বরকে দেখা যায় এবং সুপ্ত শক্তির মধ্যেও ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করা যায়।

শ্লোকটির মধ্যে প্রকৃতির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্রও পাওয়া যায়। বজ্র ধ্বংস ও শক্তির দিককে প্রকাশ করে। কামধুক্ পুষ্টি ও প্রাচুর্যের দিককে প্রকাশ করে। কন্দর্প সৃষ্টি ও আকর্ষণের দিককে প্রকাশ করে। বাসুকি সুপ্ত ও সঞ্চিত শক্তির দিককে প্রকাশ করে। অর্থাৎ বিশ্ব কেবল কোমলতা নয়, কেবল কঠোরতাও নয়। বিশ্বে ধ্বংস আছে, সৃষ্টি আছে, আকর্ষণ আছে, পুষ্টি আছে এবং গুপ্ত শক্তিও আছে। কৃষ্ণ এই সমস্ত বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐশ্বরিক ঐক্যের সন্ধান করতে শেখাচ্ছেন।

আধুনিক জীবনের ক্ষেত্রেও এই শ্লোকের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। একজন মানুষের জীবনে বজ্রের মতো দৃঢ়তা দরকার যাতে সে প্রতিকূলতার সামনে ভেঙে না পড়ে। কামধুকের মতো উদারতা দরকার যাতে তার অর্জন কেবল নিজের জন্য সীমাবদ্ধ না থাকে। কন্দর্পের মতো সৃষ্টিশীল আকাঙ্ক্ষা দরকার যাতে সে নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পায়। আর বাসুকির মতো সুপ্ত শক্তিকে চিনে তাকে সঠিক সময়ে সঠিক কাজে ব্যবহার করার ক্ষমতা দরকার। এই চারটি শক্তির সমন্বয়েই মানুষ নিজের সম্ভাবনাকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এই শ্লোকের আরেকটি গভীর শিক্ষা হলো শ্রেষ্ঠত্বের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করা। আমরা যখন অসাধারণ শক্তি দেখি, তখন শুধু বাহ্যিক শক্তির কথা না ভেবে সেই শক্তির উৎসকে স্মরণ করতে পারি। যখন প্রকৃতির দান দেখি, তখন তার পেছনে থাকা মহাজীবনের উদারতাকে উপলব্ধি করতে পারি। যখন সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা অনুভব করি, তখন সেই আকাঙ্ক্ষাকে উচ্চতর ও সৃষ্টিশীল কাজে পরিচালিত করতে পারি। যখন নিজের মধ্যে সুপ্ত শক্তি অনুভব করি, তখন তাকে আত্মবিকাশের পথে ব্যবহার করতে পারি।

সবশেষে বলা যায়, “আয়ুধানামহং বজ্রং ধেনূনামস্মি কামধুক্। প্রজনশ্চাস্মি কন্দর্পঃ সর্পাণামস্মি বাসুকিঃ” শ্লোকটি বাহ্যিকভাবে চারটি বিভূতির কথা বললেও এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা মানুষের সমগ্র অস্তিত্বকে স্পর্শ করে। বজ্র আমাদের শেখায় দৃঢ় হতে, কামধুক্ শেখায় দান ও পুষ্টির মূল্য, কন্দর্প শেখায় আকাঙ্ক্ষাকে সৃষ্টিশীল শক্তিতে রূপান্তর করতে এবং বাসুকি শেখায় নিজের সুপ্ত শক্তিকে চিনতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে। এই চারটি প্রতীকের মধ্যে শক্তি, পুষ্টি, সৃষ্টি এবং অন্তর্নিহিত ক্ষমতার যে সমন্বয় দেখা যায়, সেটিই এই শ্লোকের গভীর সৌন্দর্য। কৃষ্ণের বক্তব্য তাই কেবল পৌরাণিক পরিচয় নয়। এটি এক ধরনের অন্তর্দর্শনের শিক্ষা। বিশ্বজগতের যে কোনো মহৎ শক্তি, যে কোনো সৃষ্টিশীল আকাঙ্ক্ষা, যে কোনো পোষণকারী শক্তি এবং যে কোনো গভীর সুপ্ত ক্ষমতার মধ্যে পরম সত্তার প্রকাশ উপলব্ধি করতে পারাই এই শ্লোকের প্রকৃত মর্ম।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 19, 2026 August 19, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি