সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১০.৩৯ — সকল সত্তার বীজ

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
যচ্চাপি সর্বভূতানাং বীজং তদহমর্জুন।ন তদস্তি বিনা যৎ স্যান্ময়া ভূতং চরাচরম্।।৩৯।।
যচ্চাপি সর্বভূতানাং বীজং তদহমর্জুন।
ন তদস্তি বিনা যৎ স্যান্ময়া ভূতং চরাচরম্।।৩৯।।

অনুবাদঃ হে অর্জুন! যা সর্বভূতের বীজস্বরূপ তাও আমি, যেহেতু আমাকে ছাড়া স্থাবর ও জঙ্গম কোন বস্তুরই অস্তিত্ব থাকতে পারে না।

ভগবদ্গীতার দশম অধ্যায় বিভূতি যোগের ঊনচল্লিশতম শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে তাঁর বিশ্বব্যাপী সত্তার একটি অত্যন্ত গভীর পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যচ্চাপি সর্বভূতানাং বীজং তদহমর্জুন। ন তদস্তি বিনা যৎ স্যান্ময়া ভূতং চরাচরম্।” অর্থাৎ হে অর্জুন, সকল জীব ও সত্তার যে বীজ, আমিই সেই বীজ। আমাকে ব্যতীত এমন কোনো চলমান বা অচল সত্তা নেই যার অস্তিত্ব হতে পারে। এই শ্লোকের মধ্যে ঈশ্বরতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব, অস্তিত্বতত্ত্ব, আধ্যাত্মিকতা এবং মানবজীবনের গভীর নৈতিক শিক্ষা একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। এখানে শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে কেবল কোনো বিশেষ মহৎ শক্তির সঙ্গে তুলনা করেননি, বরং সমগ্র সৃষ্টির অন্তর্নিহিত কারণ এবং অস্তিত্বের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রকাশ করেছেন।

এই শ্লোকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো “সর্বভূতানাং”। “সর্ব” অর্থ সমস্ত বা সকল এবং “ভূত” শব্দটি সংস্কৃত “ভূ” ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা বা প্রকাশিত হওয়া। সেই অর্থে “সর্বভূত” বলতে শুধু মানুষ বা জীবজন্তুকে বোঝায় না। যে সমস্ত সত্তা অস্তিত্ব লাভ করেছে, তাদের সকলকেই বোঝায়। তাই “সর্বভূতানাং” বলতে সকল জীব, সকল সৃষ্টি এবং সকল অস্তিত্বশীল সত্তাকে বোঝানো হয়েছে। এর মধ্যে মানুষ যেমন আছে, তেমনই পশু, পাখি, কীটপতঙ্গ, বৃক্ষ, পর্বত, নদী এবং জগতের অন্যান্য প্রকাশিত সত্তাও অন্তর্ভুক্ত। শ্রীকৃষ্ণের বক্তব্য তাই কোনো সীমিত গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট জীবনের মধ্যে আবদ্ধ নয়। এটি সমগ্র অস্তিত্বকে ধারণ করে।

এরপর এসেছে “বীজং” শব্দটি। বীজ সাধারণ অর্থে এমন একটি ক্ষুদ্র সত্তা যার মধ্যে একটি বৃহৎ জীবনের সম্ভাবনা নিহিত থাকে। একটি ছোট বীজের মধ্যে একটি বিশাল বৃক্ষের সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। বীজ নিজে ক্ষুদ্র হলেও তার অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা অসীম বিস্তৃত হতে পারে। এই কারণেই ভারতীয় চিন্তাধারায় বীজ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতীক। বীজ শুধু উৎপত্তির কারণ নয়, ভবিষ্যৎ প্রকাশের সম্ভাবনাও বহন করে। একটি বীজের মধ্যে অতীতের ধারাবাহিকতা, বর্তমানের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতের প্রকাশ একসঙ্গে নিহিত থাকে। শ্রীকৃষ্ণ যখন বলেন “সকল ভূতের বীজ আমিই”, তখন তিনি বোঝাচ্ছেন যে সমস্ত প্রকাশিত অস্তিত্বের গভীরে যে মূল কারণ এবং সম্ভাবনা কাজ করছে, সেই পরম উৎস তিনিই।

বীজের এই ধারণাকে একটি সাধারণ আমগাছের উদাহরণ দিয়ে বোঝা যায়। একটি আমের বীজ হাতে নিলে সেখানে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ আমগাছ দেখতে পাই না। কিন্তু উপযুক্ত মাটি, জল, আলো এবং পরিবেশ পেলে সেই বীজ থেকে চারা জন্মায়, চারা থেকে গাছ হয়, গাছে ফুল আসে, ফুল থেকে ফল হয় এবং সেই ফলের মধ্যে আবার অসংখ্য বীজ সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ ক্ষুদ্র একটি বীজের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিহিত থাকে। শ্রীকৃষ্ণের “বীজ” ধারণাও এই সম্ভাবনার গভীর প্রতীক। সমগ্র সৃষ্টির অসংখ্য রূপের মধ্যে যে একক মূল কারণ কাজ করছে, কৃষ্ণ সেই কারণকে নিজের সঙ্গে অভিন্ন করে দেখিয়েছেন।

“তদহমর্জুন” কথাটির মধ্যেই শ্লোকটির একটি মৌলিক দার্শনিক বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। “তৎ” অর্থ সেই, “অহম্” অর্থ আমি এবং “অর্জুন” হলো অর্জুনকে সম্বোধন। অর্থাৎ কৃষ্ণ বলছেন, হে অর্জুন, সেই বীজ আমিই। এখানে ঈশ্বরকে সৃষ্টির কোনো দূরবর্তী বা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন শক্তি হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং সমস্ত সৃষ্টির গভীরে যে অস্তিত্বের মূল কারণ রয়েছে, সেই কারণের সঙ্গে পরম সত্তার পরিচয় স্থাপন করা হয়েছে। বহুর মধ্যে এক এবং প্রকাশের মধ্যে অপ্রকাশিত কারণকে উপলব্ধি করার শিক্ষা এখানে নিহিত রয়েছে।

শ্লোকের দ্বিতীয় অংশ আরও গভীর। “ন তদস্তি বিনা ময়া” অর্থ আমাকে ব্যতীত এমন কোনো সত্তা নেই। এখানে “বিনা” শব্দটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কৃষ্ণ শুধু বলেননি যে তিনি সমস্ত কিছুর মধ্যে আছেন। তিনি বলেছেন, তাঁকে বাদ দিয়ে কোনো সত্তার অস্তিত্ব সম্ভব নয়। এই বক্তব্য ঈশ্বরের সর্বব্যাপী উপস্থিতিকে আরও গভীর অস্তিত্বতাত্ত্বিক অর্থ দেয়। অর্থাৎ ঈশ্বর কেবল সৃষ্টির একটি অংশ নন, বরং অস্তিত্বের সেই ভিত্তি যার উপর সমস্ত প্রকাশিত সত্তা নির্ভরশীল।

“চরাচরম্” শব্দটিও শ্লোকটির পরিসরকে সম্পূর্ণ করে। “চর” অর্থ যা চলে এবং “অচর” অর্থ যা চলে না। এই দুটি শব্দ মিলিয়ে “চরাচর” অর্থ চলমান এবং অচল সমস্ত সত্তা। মানুষ, পশু, পাখি এবং অন্যান্য জীব চলমান সত্তার উদাহরণ হতে পারে। বৃক্ষ, পর্বত এবং অন্যান্য স্থাবর প্রকাশ অচল সত্তার উদাহরণ। তাই চরাচর বলতে কার্যত সমগ্র প্রকাশিত জগতকে বোঝানো হয়েছে। কৃষ্ণের বক্তব্য হলো, এই চলমান ও অচল সমস্ত অস্তিত্বের পেছনে যে মৌলিক সত্য রয়েছে, তা এক এবং সেই পরম ভিত্তিই তিনি।

দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই শ্লোক কারণ ও কার্যের সম্পর্ক নিয়ে গভীর চিন্তার জন্ম দেয়। যে কোনো প্রকাশিত বস্তুর পেছনে কোনো না কোনো কারণ থাকে। একটি গাছের পেছনে থাকে বীজ। একটি বাড়ির পেছনে থাকে নির্মাণের পরিকল্পনা ও উপকরণ। একটি মানুষের চরিত্রের পেছনে থাকে তার চিন্তা, অভ্যাস এবং কর্মের দীর্ঘ ধারাবাহিকতা। কিন্তু সমস্ত অস্তিত্বের পেছনে কী আছে, এই প্রশ্নটি আরও মৌলিক। শ্রীকৃষ্ণ এই প্রশ্নের উত্তরে নিজেকে সেই মূল কারণ হিসেবে প্রকাশ করছেন। এই অর্থে “বীজ” কেবল একটি জৈবিক বস্তু নয়, বরং অস্তিত্বের মূল কারণের প্রতীক।

অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই শ্লোকের একটি গভীর ব্যাখ্যা হতে পারে যে বহুর অন্তরালে এক পরম চৈতন্য বিরাজমান। অসংখ্য জীব, বস্তু এবং জগতের রূপ পৃথক বলে প্রতীয়মান হলেও তাদের অস্তিত্বের চূড়ান্ত ভিত্তি এক। যেমন অসংখ্য অলংকারের আকার ভিন্ন হলেও তাদের মূল উপাদান সোনা, তেমনই বহুরূপী জগতের অন্তর্নিহিত অস্তিত্বের ভিত্তি এক পরম সত্য। এই দৃষ্টিতে “বীজ” হলো সেই একত্বের প্রতীক যা থেকে বহুত্বের প্রকাশ ঘটে।

বিশিষ্টাদ্বৈত দৃষ্টিতে জীব ও জগত ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল। ঈশ্বর তাদের অন্তর্নিহিত আশ্রয় এবং কারণ। দ্বৈত দৃষ্টিতে ঈশ্বর, জীব এবং জগতের মধ্যে পার্থক্য বাস্তব হলেও জীব ও জগত ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল। দুই দৃষ্টিভঙ্গির ভাষা আলাদা হলেও এই শ্লোকের একটি মৌলিক শিক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মানুষের অস্তিত্ব স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তার অস্তিত্বের গভীরে একটি পরম নির্ভরতার সত্য রয়েছে।

“বীজ” শব্দটির একটি মনোবৈজ্ঞানিক অর্থও রয়েছে। মানুষের অন্তরে অসংখ্য সম্ভাবনার বীজ থাকে। জ্ঞানের বীজ, প্রেমের বীজ, করুণার বীজ, সাহসের বীজ, সৃজনশীলতার বীজ এবং আত্মজিজ্ঞাসার বীজ মানুষের ভবিষ্যৎ চরিত্রকে গড়ে তুলতে পারে। একটি ছোট চিন্তা কখনো কখনো একজন মানুষের সম্পূর্ণ জীবন বদলে দিতে পারে। একজন মানুষের মনে যদি সত্য অনুসন্ধানের একটি বীজ জন্মায়, সেই বীজ থেকে প্রশ্ন, অধ্যয়ন, সাধনা এবং আত্মঅনুসন্ধানের দীর্ঘ পথ তৈরি হতে পারে। তাই “বীজ” শুধু মহাজগতের প্রতীক নয়, মানুষের অন্তর্জগতেরও একটি শক্তিশালী প্রতীক।

এই শ্লোক মানবজীবনের নৈতিক ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জীবনের প্রতিটি কাজ এক একটি বীজের মতো। একটি চিন্তা একটি কথায় প্রকাশিত হয়, কথা একটি কর্মে পরিণত হয়, কর্ম অভ্যাস তৈরি করে এবং অভ্যাস চরিত্রকে গঠন করে। তাই মানুষ প্রতিদিন তার ভবিষ্যতের বীজ বপন করছে। ক্রোধের বীজ থেকে ক্রোধের বৃদ্ধি হতে পারে, হিংসার বীজ থেকে হিংসা জন্মাতে পারে এবং লোভের বীজ থেকে আরও লোভ সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে সত্য, করুণা, সংযম, জ্ঞান এবং ভালোবাসার বীজ থেকে একটি উন্নত চরিত্রের জন্ম হতে পারে। এই অর্থে শ্রীকৃষ্ণের বীজের শিক্ষা মানুষের নিজের জীবন সম্পর্কেও একটি গভীর সতর্কবাণী।

সাহিত্যের ক্ষেত্রেও বীজ একটি শক্তিশালী প্রতীক। একটি ছোট ঘটনা কখনো কখনো একটি বিশাল পরিণতির সূচনা করে। একটি কথা, একটি প্রতিজ্ঞা, একটি সিদ্ধান্ত অথবা একটি ভুল পরবর্তীতে একটি মানুষের সম্পূর্ণ জীবন পরিবর্তন করতে পারে। মহাভারতের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেও আমরা দেখতে পাই যে ছোট ছোট সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে বৃহৎ ঐতিহাসিক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। এই কারণে বীজ হলো সম্ভাব্য ভবিষ্যতের প্রতীক। যা আজ ক্ষুদ্র বলে মনে হচ্ছে, কাল তা বৃহৎ রূপ নিতে পারে।

আধ্যাত্মিক অর্থে এই শ্লোক মানুষের দৃষ্টিকে বাহ্যিক রূপ থেকে অন্তর্নিহিত সত্যের দিকে ফিরিয়ে দেয়। আমরা সাধারণত জগতকে তার বৈচিত্র্যের মাধ্যমে দেখি। কেউ মানুষ, কেউ পশু, কেউ বৃক্ষ, কেউ পর্বত এবং প্রত্যেকের রূপ আলাদা। কিন্তু কৃষ্ণ আমাদের সেই বৈচিত্র্যের অন্তর্নিহিত ঐক্য দেখতে শেখাচ্ছেন। যেমন একটি বৃক্ষের শিকড়, কাণ্ড, শাখা, পাতা, ফুল এবং ফল আলাদা হলেও তাদের জীবনধারা একটি উৎসের সঙ্গে যুক্ত, তেমনই অসংখ্য সত্তার মধ্যে একটি গভীর অস্তিত্বগত সম্পর্ক রয়েছে।

এই শ্লোকের সবচেয়ে গভীর উপলব্ধি সম্ভবত এই যে সৃষ্টি এবং স্রষ্টাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেখলে শ্লোকটির তাৎপর্য পূর্ণ হয় না। এখানে কৃষ্ণ নিজেকে এমন একটি পরম সত্য হিসেবে প্রকাশ করছেন যা সৃষ্টির কারণ, সৃষ্টির অন্তর্নিহিত ভিত্তি এবং সৃষ্টির অস্তিত্বের আশ্রয়। তাই “আমি বীজ” কথাটি কেবল উৎপত্তির কথা নয়। এটি সম্ভাবনা, ঐক্য, কারণ, অস্তিত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রকাশের কথাও বলে।

আজকের আধুনিক জীবনেও এই শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। মানুষ প্রায়ই জীবনের বড় ফলাফল দেখতে চায় কিন্তু ছোট বীজগুলোর দিকে নজর দেয় না। অথচ একটি সফল জীবনের পেছনে থাকে প্রতিদিনের ছোট অভ্যাস। একটি জ্ঞানী চরিত্রের পেছনে থাকে প্রতিদিনের অধ্যয়ন। একটি শান্ত মনের পেছনে থাকে দীর্ঘ আত্মসংযম। একটি সুন্দর সম্পর্কের পেছনে থাকে ছোট ছোট যত্ন। একটি আধ্যাত্মিক জীবনের পেছনে থাকে নিয়মিত আত্মঅনুসন্ধান। তাই এই শ্লোক আমাদের জিজ্ঞাসা করতে শেখায়, আমরা আমাদের জীবনে কী বীজ বপন করছি।

শেষ পর্যন্ত “যচ্চাপি সর্বভূতানাং বীজং তদহমর্জুন” একটি গভীর অস্তিত্বতাত্ত্বিক ঘোষণা। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, সমস্ত সত্তার বহুবিধ প্রকাশের অন্তরালে একটি পরম উৎস রয়েছে এবং সেই উৎসই তিনি। “সর্বভূতানাং” আমাদের সমগ্র সৃষ্টির দিকে নিয়ে যায়, “বীজং” আমাদের সেই সৃষ্টির মূল কারণের দিকে নিয়ে যায়, “তদহম্” সেই কারণকে পরম সত্তার সঙ্গে যুক্ত করে এবং “ন তদস্তি বিনা ময়া” ঘোষণা করে যে সেই পরম ভিত্তিকে বাদ দিয়ে কোনো সত্তার অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। “চরাচরম্” আবার এই সত্যকে সমগ্র চলমান ও অচল জগতের মধ্যে বিস্তৃত করে।

এইভাবে শ্লোকটির সারকথা হলো, বহুর মধ্যে যে এক, প্রকাশের মধ্যে যে মূল কারণ, সম্ভাবনার মধ্যে যে ভবিষ্যৎ, সৃষ্টির মধ্যে যে অস্তিত্বের ভিত্তি এবং সমস্ত চরাচরের অন্তরালে যে পরম ঐক্য বিরাজমান, সেই পরম সত্যই শ্রীকৃষ্ণের বীজরূপ। একটি ক্ষুদ্র বীজ যেমন একটি বিশাল বৃক্ষের সম্ভাবনা ধারণ করে, তেমনই পরম সত্যের মধ্যে সমগ্র সৃষ্টির সম্ভাবনা নিহিত। তাই এই শ্লোক কেবল ঈশ্বরের মহিমা ঘোষণা করে না, এটি মানুষকে তার নিজের জীবন, নিজের চিন্তা, নিজের কর্ম এবং সমগ্র অস্তিত্বের গভীরে লুকিয়ে থাকা ঐক্যকে উপলব্ধি করার আহ্বান জানায়। বহুরূপী জগতের দিকে তাকিয়ে যদি মানুষ সেই একক উৎসকে অনুভব করতে শেখে, তবে তার দৃষ্টিতে সৃষ্টি আর বিচ্ছিন্ন বস্তুর সমষ্টি থাকে না। তখন সমগ্র চরাচর এক গভীর অস্তিত্বের প্রকাশ হিসেবে প্রতিভাত হয় এবং মানুষের অন্তরে জন্ম নেয় ঐক্য, শ্রদ্ধা, করুণা ও আত্মজিজ্ঞাসার এক নতুন অনুভব।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 19, 2026 August 19, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি