শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১১.১৬ — বিশ্বরূপের অনন্ত মহিমা
অনেকবাহুদরবক্ত্রনেত্রং
পশ্যামি ত্বাং সর্বতোহনন্তরূপম্।
নান্তং ন মধ্যং ন পুনস্তবাদিং
পশ্যামি বিশ্বেশ্বর বিশ্বরূপ।।১৬।।
অনুবাদঃ হে বিশ্বেশ্বর! হে বিশ্বরূপ! তোমার দেহে অনেক বাহু, উদর, মুখ এবং সর্বত্র অনন্ত রূপ দেখছি। আমি তোমার আদি, মধ্য ও অন্ত কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একাদশ অধ্যায়ের ষোড়শ শ্লোক বিশ্বরূপদর্শনের এক গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তকে তুলে ধরে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জুন যখন শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপ দর্শন করছেন, তখন তাঁর সামনে আর কেবল তাঁর প্রিয় সখা ও সারথি কৃষ্ণ উপস্থিত নেই। তাঁর দৃষ্টির সামনে প্রকাশিত হয়েছে এমন এক মহাজাগতিক সত্তা, যার মধ্যে অসংখ্য বাহু, উদর, মুখ এবং নেত্র একসঙ্গে অবস্থান করছে। অর্জুন বিস্ময়ে উপলব্ধি করছেন যে এই রূপ কোনো সীমাবদ্ধ মানবীয় রূপ নয়। তিনি যতই দেখছেন, ততই তাঁর সামনে সেই রূপের ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তিনি বলছেন, হে বিশ্বেশ্বর, হে বিশ্বরূপ, আমি তোমাকে সর্বদিকে অসংখ্য বাহু, উদর, মুখ ও নেত্রযুক্ত অনন্তরূপে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু তোমার অন্ত দেখতে পাচ্ছি না, মধ্য দেখতে পাচ্ছি না এবং তোমার আদিও দেখতে পাচ্ছি না।
এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো অনেকবাহূদরবক্ত্রনেত্রং। এটি একটি দীর্ঘ সমাসবদ্ধ শব্দ, যার মধ্যে অনেক, বাহু, উদর, বক্ত্র এবং নেত্র এই কয়েকটি ধারণা একত্রিত হয়েছে। অনেক শব্দের অর্থ বহু বা অসংখ্য। বাহু অর্থ হাত বা কর্মের অঙ্গ। উদর অর্থ ধারণের স্থান। বক্ত্র অর্থ মুখ এবং নেত্র অর্থ চোখ। কিন্তু বিশ্বরূপের প্রসঙ্গে এগুলোকে কেবল শারীরিক অঙ্গ হিসেবে দেখলে শ্লোকটির গভীরতা উপলব্ধি করা যায় না। অসংখ্য বাহু এখানে অসীম কর্মশক্তির প্রতীক। জগতে যে অসংখ্য কাজ, পরিবর্তন ও কার্যপ্রবাহ চলছে, সেগুলো যেন সেই মহাজাগতিক সত্তার অসংখ্য বাহুর মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। অসংখ্য উদর সমগ্র সৃষ্টিকে ধারণ করার শক্তির প্রতীক। অসংখ্য মুখ বিশ্বজগতের অসংখ্য প্রকাশ ও অভিব্যক্তির প্রতীক। আর অসংখ্য নেত্র সর্বদর্শিতা ও সর্বব্যাপী চেতনার প্রতীক। ফলে একটি মাত্র শব্দের মধ্যেই বিশ্বসত্তার কর্ম, ধারণ, প্রকাশ এবং দর্শনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশিত হয়েছে।
এরপর এসেছে পশ্যামি শব্দটি। সংস্কৃত পশ্যামি শব্দের অর্থ আমি দেখি। এটি দর্শন বা প্রত্যক্ষ উপলব্ধির ধারণার সঙ্গে যুক্ত। অর্জুন এখানে কেবল কোনো তাত্ত্বিক কথা শুনছেন না। তিনি প্রত্যক্ষভাবে এমন একটি বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, যা তাঁর পূর্বপরিচিত জগতের ধারণাকে অতিক্রম করছে। গীতার আধ্যাত্মিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শোনা জ্ঞান এক বিষয় এবং প্রত্যক্ষ উপলব্ধি আরেক বিষয়। কৃষ্ণ এতক্ষণ অর্জুনকে যে জ্ঞান দিয়েছেন, বিশ্বরূপদর্শনের মুহূর্তে সেই জ্ঞান যেন দৃশ্যমান সত্যে পরিণত হয়েছে। অর্জুনের চেতনা এখন ব্যক্তিগত সম্পর্কের সীমা অতিক্রম করে মহাজাগতিক সত্যের দিকে প্রসারিত হচ্ছে।
অনন্তরূপম শব্দটি এই শ্লোকের আরেকটি কেন্দ্রীয় ধারণা। অনন্ত শব্দের আক্ষরিক অর্থ যার অন্ত নেই। এটি অন এবং অন্তের ভাবগত সমন্বয়ে সীমাহীনতার ধারণা প্রকাশ করে। রূপ অর্থ আকৃতি, প্রকাশ বা অবয়ব। তাই অনন্তরূপ অর্থ এমন রূপ যার কোনো সীমা নেই। এখানে অসীমতা কেবল আকারের বিশালতা বোঝায় না। এর অর্থ হলো এই রূপকে কোনো নির্দিষ্ট সীমা, সংখ্যা, স্থান বা ধারণার মধ্যে আবদ্ধ করা যায় না। যত রূপ দেখা যায়, তারও বাইরে আরও রূপ রয়েছে। যতটুকু বোঝা যায়, তারও বাইরে রয়েছে আরও অজ্ঞাত বাস্তবতা। এই অনন্তরূপ ধারণাই বিশ্বরূপকে সাধারণ দৃশ্যমান রূপ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়।
শ্লোকটির সবচেয়ে গভীর অংশ হলো নান্তং ন মধ্যং ন পুনস্তবাদিম্। এখানে আদি, মধ্য এবং অন্ত এই তিনটি মৌলিক ধারণাকে একে একে অস্বীকার করা হয়েছে। মানুষ সাধারণত কোনো কিছুকে বোঝার জন্য তার শুরু, মধ্যবর্তী অবস্থা এবং শেষ নির্ধারণ করে। একটি মানুষের জন্ম আছে, জীবন আছে এবং মৃত্যু আছে। একটি ঘটনার সূচনা আছে, বিকাশ আছে এবং পরিণতি আছে। একটি সভ্যতার উত্থান আছে, বিকাশ আছে এবং পতন আছে। কিন্তু অর্জুন যে বিশ্বরূপ দেখছেন, তার ক্ষেত্রে এই সাধারণ কাঠামো কার্যকর হচ্ছে না। তিনি বলছেন, আমি তোমার অন্ত দেখতে পাচ্ছি না। তোমার মধ্য দেখতে পাচ্ছি না। এমনকি তোমার আদিও দেখতে পাচ্ছি না। অর্থাৎ বিশ্বরূপ কোনো সীমাবদ্ধ বস্তুর মতো নয়, যার একটি নির্দিষ্ট শুরু ও শেষ নির্ধারণ করা সম্ভব।
আদি শব্দের অর্থ শুরু বা উৎস। মধ্য অর্থ কেন্দ্র বা মধ্যবর্তী অবস্থা। অন্ত অর্থ শেষ বা সীমা। এই তিনটি শব্দ মানুষের সময়বোধ ও স্থানবোধের ভিত্তি তৈরি করে। কিন্তু বিশ্বরূপের ক্ষেত্রে অর্জুন এই তিনটি সীমাই অতিক্রম করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর মধ্যে নিহিত রয়েছে এক গভীর দার্শনিক সত্য। মানুষ যে বাস্তবতাকে নিজের বুদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করতে চায়, বাস্তবতা সবসময় তার চেয়ে বৃহৎ। আমরা একটি নদীর একটি অংশ দেখি, কিন্তু তার সম্পূর্ণ উৎস ও সমাপ্তি একই সঙ্গে দেখতে পারি না। আমরা ইতিহাসের একটি অধ্যায় বুঝি, কিন্তু সেই অধ্যায়ের আগে এবং পরে অসংখ্য কারণ ও পরিণতি কাজ করে। একইভাবে আমরা নিজের জীবনের একটি অংশ বুঝি, কিন্তু আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য অদৃশ্য কারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান আমাদের থাকে না।
বিশ্বেশ্বর শব্দটি বিশ্ব এবং ঈশ্বর এই দুই ধারণার সমন্বয়ে গঠিত। বিশ্ব অর্থ সমগ্র জগৎ এবং ঈশ্বর অর্থ অধিপতি বা নিয়ন্তা। তাই বিশ্বেশ্বর অর্থ সমগ্র বিশ্বের অধিপতি। অর্জুনের এই সম্বোধনের মধ্য দিয়ে তাঁর উপলব্ধির পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কৃষ্ণ তাঁর কাছে আগে ছিলেন বন্ধু, আত্মীয়, উপদেষ্টা এবং সারথি। কিন্তু বিশ্বরূপ দর্শনের পর তিনি উপলব্ধি করছেন যে এই পরিচয়গুলো কৃষ্ণের সীমিত মানবীয় প্রকাশ মাত্র। তাঁর অন্তর্নিহিত সত্তা আরও ব্যাপক। তিনি বিশ্বেশ্বর। তিনি এমন এক মহাজাগতিক বাস্তবতার প্রকাশ, যার মধ্যে সমগ্র অস্তিত্ব অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্বরূপ শব্দটিও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ব অর্থ সমস্ত জগৎ এবং রূপ অর্থ প্রকাশিত অবয়ব। বিশ্বরূপ তাই এমন রূপ যেখানে সমগ্র বিশ্ব প্রকাশিত হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে কৃষ্ণের সামনে একটি বিশাল মানবদেহ দাঁড়িয়ে আছে এবং তার মধ্যে কেবল অসংখ্য অঙ্গ রয়েছে। এর প্রকৃত তাৎপর্য হলো সমগ্র অস্তিত্বই তাঁর রূপের অংশ। সৃষ্টি, জীবজগৎ, প্রকৃতি, সময়, কর্ম, জন্ম, মৃত্যু এবং পরিবর্তন সবকিছুই সেই মহারূপের মধ্যে অবস্থান করছে। এক অর্থে বিশ্বরূপ হলো এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি যেখানে পৃথক পৃথক সত্তার আড়ালে একটি সামগ্রিক ঐক্য উপলব্ধি করা যায়।
দার্শনিকভাবে এই শ্লোক বহুত্বের মধ্যে ঐক্যের ধারণাকে সামনে নিয়ে আসে। আমরা পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ, প্রাণী, বস্তু, ঘটনা ও শক্তি দেখতে পাই। তাদের প্রত্যেকের রূপ আলাদা। কিন্তু বিশ্বরূপের দর্শনে এই অসংখ্য বৈচিত্র্য একটি বৃহত্তর ঐক্যের মধ্যে একত্রিত হয়েছে। অসংখ্য বাহু যেন অসংখ্য কর্মের প্রতীক। অসংখ্য মুখ অসংখ্য প্রকাশের প্রতীক। অসংখ্য চোখ অসংখ্য দৃষ্টির প্রতীক। কিন্তু এগুলো শেষ পর্যন্ত একটি বিশ্বসত্তার মধ্যেই অবস্থিত। এইভাবে শ্লোকটি বহুত্বকে অস্বীকার না করেও তার অন্তর্নিহিত ঐক্যের দিকে ইঙ্গিত করে।
অদ্বৈত ভাবনার আলোকে এই শ্লোকের মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য উপলব্ধি করা যায়। দৃশ্যমান জগতে আমরা বহু রূপ দেখি, কিন্তু সেই বহুর অন্তরালে একটি পরম সত্যের সন্ধান করা হয়। বিশ্বরূপের মধ্যে অসংখ্য রূপের উপস্থিতি সেই বহুত্বকে প্রকাশ করে, আর সব রূপের একটি অভিন্ন আশ্রয় থাকা ঐক্যের দিকে ইঙ্গিত করে। ভক্তির দৃষ্টিতে আবার এই সত্য আরও ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে। এখানে পরম সত্তা কেবল একটি বিমূর্ত দার্শনিক ধারণা নন। তিনি বিশ্বেশ্বর। তিনি এমন এক ঈশ্বর যিনি সমগ্র বিশ্বকে ধারণ করেন এবং একই সঙ্গে ভক্তের সামনে নিজেকে প্রকাশ করেন।
সাহিত্যিক দিক থেকেও শ্লোকটি অত্যন্ত শক্তিশালী। অর্জুন প্রথমে অসংখ্য বাহু, উদর, মুখ ও নেত্র দেখছেন। তারপর তিনি সেই রূপের অনন্ততা উপলব্ধি করছেন। এরপর তিনি একে একে বলছেন যে তার অন্ত নেই, মধ্য নেই এবং আদিও নেই। এই পুনরাবৃত্তি পাঠকের মনে অসীমতার অনুভূতি সৃষ্টি করে। বিশেষ করে আদি, মধ্য এবং অন্ত এই তিনটি ধারণাকে পরপর অস্বীকার করার ফলে ভাষার মধ্যেই একটি সীমাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়। যেন অর্জুন যতই সেই রূপকে বোঝার চেষ্টা করছেন, ততই সেই রূপ তাঁর বোধের সীমা অতিক্রম করছে।
মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও শ্লোকটির গভীর তাৎপর্য রয়েছে। সাধারণ মানুষ নিজের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীকে বিচার করে। তার সুখ, দুঃখ, সাফল্য, ব্যর্থতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কই তার কাছে বাস্তবতার প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। কিন্তু বৃহত্তর কোনো সত্যের প্রত্যক্ষ উপলব্ধি মানুষের সেই সীমিত দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তন করতে পারে। অর্জুনের ক্ষেত্রেও এমন একটি পরিবর্তন ঘটছে। তিনি আর শুধু নিজের ব্যক্তিগত সংকটের দিকে তাকিয়ে নেই। তাঁর সামনে এখন সমগ্র অস্তিত্বের বিশালতা। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত দুঃখ ও দ্বিধা একটি বৃহত্তর মহাজাগতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে প্রবেশ করছে।
আধুনিক জীবনের ক্ষেত্রেও এই শ্লোক আমাদের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আমরা প্রায়ই মনে করি আমাদের বর্তমান সমস্যাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। কিন্তু বাস্তবতা আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার চেয়ে অনেক বৃহৎ। একটি সিদ্ধান্তের প্রভাব কখন কোথায় পৌঁছাবে আমরা সবসময় জানি না। একটি মানুষের একটি কাজ একটি পরিবারকে প্রভাবিত করতে পারে। সেই পরিবারের পরিবর্তন একটি সমাজে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার কোনো সামাজিক পরিবর্তন বহু বছর পরে অন্য কোনো প্রজন্মের জীবনে ফল দিতে পারে। ফলে কারণ ও পরিণতির এই বিশাল জাল মানুষের সীমিত দৃষ্টির বাইরে থেকে যায়। এই অর্থে আদি, মধ্য ও অন্তকে সম্পূর্ণভাবে দেখতে না পারার অভিজ্ঞতা মানবজীবনেরও একটি মৌলিক সত্য।
এই শ্লোক আমাদের বিনয়ের শিক্ষাও দেয়। মানুষ জ্ঞান অর্জন করতে পারে, বিজ্ঞান দিয়ে মহাবিশ্ব অনুসন্ধান করতে পারে, ইতিহাস বিশ্লেষণ করতে পারে এবং দর্শনের মাধ্যমে অস্তিত্বের রহস্য বুঝতে চেষ্টা করতে পারে। তবু তার জ্ঞান সীমাহীন নয়। আমরা বাস্তবতার কিছু অংশ বুঝতে পারি, কিন্তু সমগ্র বাস্তবতাকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করা আমাদের পক্ষে কঠিন। বিশ্বরূপের সামনে অর্জুনের বিস্ময় তাই অজ্ঞতার স্বীকারোক্তি নয়। বরং এটি জ্ঞানের একটি উচ্চতর পর্যায়, যেখানে মানুষ উপলব্ধি করে যে তার জ্ঞানের সীমার বাইরেও এক বিশাল বাস্তবতা রয়েছে।
এই কারণে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একাদশ অধ্যায়ের ষোড়শ শ্লোক কেবল একটি ধর্মীয় দর্শনের বর্ণনা নয়। এটি মানুষের সীমিত দৃষ্টি এবং অসীম বাস্তবতার সম্পর্ক নিয়ে এক গভীর দার্শনিক বক্তব্য। অনেকবাহূদরবক্ত্রনেত্রং আমাদের দেখায় অস্তিত্বের বহুমাত্রিক প্রকাশ। অনন্তরূপম আমাদের মনে করিয়ে দেয় বাস্তবতার সীমাহীনতা। নান্তং ন মধ্যং ন পুনস্তবাদিম্ আমাদের শেখায় যে পরম সত্যকে মানুষের পরিচিত আদি, মধ্য ও অন্তের কাঠামো দিয়ে সম্পূর্ণভাবে মাপা যায় না। আর বিশ্বেশ্বর বিশ্বরূপ সম্বোধন আমাদের সামনে তুলে ধরে সেই উপলব্ধি যে বহুর মধ্যে এক এবং দৃশ্যমান বৈচিত্র্যের অন্তরালে একটি বৃহত্তর ঐক্য বিদ্যমান।
অর্জুনের এই দর্শন তাই শেষ পর্যন্ত কেবল কৃষ্ণের অসীম রূপ দেখার ঘটনা নয়। এটি মানুষের দৃষ্টির প্রসারণের ঘটনা। যে মানুষ কিছুক্ষণ আগেও নিজের কর্তব্য, আত্মীয়তা ও যুদ্ধের দ্বন্দ্বে বিভ্রান্ত ছিল, সে এখন এমন এক বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়েছে যার কোনো নির্দিষ্ট আদি নেই, মধ্য নেই এবং অন্ত নেই। এই উপলব্ধি তাকে ব্যক্তিগত সংকীর্ণতা থেকে মহাজাগতিক দৃষ্টির দিকে নিয়ে যায়। শ্লোকটির গভীরতম শিক্ষা এখানেই। মানুষ তার জীবনের একটি ক্ষুদ্র অংশ দেখতে পায়, কিন্তু অস্তিত্বের সম্পূর্ণ পরিসর তার দৃষ্টির অনেক বাইরে। তাই সত্যকে উপলব্ধি করার পথে জ্ঞান যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন বিনয়, বিস্ময় এবং বৃহত্তর বাস্তবতার সামনে নিজের সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করার ক্ষমতা।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!