শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১১.১৯ — অনন্ত বিশ্বরূপের মহিমা
অনাদিমধ্যান্তমনন্তবীর্যম্।
অনন্তবাহুং শশিসূর্যনেত্রম্।
পশ্যামি ত্বাং দীপ্তহুতাশবক্ত্রং
স্বতেজসা বিশ্বমিদং তপন্তম্।।১৯।।
অনুবাদঃ আমি দেখছি তোমার আদি, মধ্য ও অন্ত নেই। তুমি অনন্ত বীর্যশালী ও অসংখ্য বাহুবিশিষ্ট এবং চন্দ্র ও সূর্য তোমার চক্ষুদ্বয়। তোমার মুখমন্ডলে প্রদীপ্ত অগ্নির জ্যোতি এবং তুমি স্বীয় তেজে সমস্ত জগৎ সন্তপ্ত করছ।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একাদশ অধ্যায়ের উনিশতম শ্লোক বিশ্বরূপ দর্শনের এমন একটি মুহূর্তকে তুলে ধরে, যখন অর্জুনের সামনে শ্রীকৃষ্ণের পরিচিত মানবীয় রূপ সম্পূর্ণভাবে অতিক্রান্ত হয়ে মহাজাগতিক এক অসীম সত্তার প্রকাশ ঘটে। অর্জুন বলেন, তিনি এমন এক রূপ দেখছেন যার কোনো আদি নেই, কোনো মধ্য নেই এবং কোনো অন্ত নেই। সেই রূপ অনন্ত শক্তিতে পরিপূর্ণ, তার অসংখ্য বাহু, সূর্য ও চন্দ্র তার দুই নেত্রের মতো এবং তার মুখ প্রজ্বলিত অগ্নির মতো দীপ্তিমান। নিজের তেজে সেই মহাসত্তা সমগ্র বিশ্বকে উত্তপ্ত ও আলোকিত করে চলেছেন। এই একটি শ্লোকের মধ্যে সময়, শক্তি, সৃষ্টি, রূপান্তর, আলো, অগ্নি এবং সমগ্র অস্তিত্বের এক অসাধারণ দার্শনিক ছবি অঙ্কিত হয়েছে।
শ্লোকটির শুরুতেই রয়েছে অনাদিমধ্যান্তম্। অনাদি শব্দের অর্থ যার কোনো শুরু নেই। আদি মানে সূচনা এবং অন উপসর্গের মাধ্যমে তার অনুপস্থিতি বোঝানো হয়েছে। অন্যদিকে অন্ত মানে শেষ বা সীমা এবং অনন্ত মানে যার কোনো শেষ নেই। মাঝখানে মধ্য শব্দটি যুক্ত হওয়ায় কৃষ্ণের বিশ্বরূপকে এমন এক অস্তিত্ব হিসেবে দেখানো হয়েছে যাকে শুরু, মধ্য এবং শেষের সাধারণ কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ করা যায় না। মানুষের অস্তিত্বের একটি নির্দিষ্ট সূচনা আছে এবং একটি নির্দিষ্ট সমাপ্তিও আছে। প্রকৃতির প্রতিটি দৃশ্যমান রূপ পরিবর্তিত হয়। একটি নক্ষত্রের জন্ম হয়, তার বিকাশ ঘটে এবং একসময় তার রূপ পরিবর্তিত হয়। সভ্যতার উত্থান ঘটে এবং একসময় তার পতনও ঘটে। কিন্তু পরম সত্তাকে এই পরিবর্তনশীলতার সীমার মধ্যে বিচার করা যায় না। তিনি অনাদি এবং অনন্ত। এই ধারণা আমাদের অস্তিত্বের কারণ সম্পর্কে এক গভীর প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। যদি সবকিছুর কোনো কারণ থাকে, তবে সেই কারণেরও কি আবার কোনো কারণ থাকবে। এই প্রশ্নের শেষ সীমায় এসে অনাদি ধারণা এমন এক পরম বাস্তবতার কথা বলে যিনি নিজে কোনো পূর্ববর্তী কারণের ফল নন।
এর পরেই আসে অনন্তবীর্যম্। বীর্য শব্দটি সংস্কৃতে শক্তি, সামর্থ্য, পরাক্রম, সাহস এবং কার্যক্ষমতার ধারণা বহন করে। এখানে এটি কেবল শারীরিক শক্তিকে বোঝায় না। বিশ্বরূপের অনন্তবীর্য বলতে এমন এক সীমাহীন শক্তিকে বোঝানো হয়েছে যার মধ্যে সৃষ্টি, পালন, পরিবর্তন এবং সংহারের সমস্ত কার্যপ্রবাহ নিহিত। মানুষের শক্তি সীমিত। একজন মানুষ তার শরীর, জ্ঞান এবং কর্মক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ করতে পারে। একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতারও সীমা রয়েছে। প্রযুক্তিরও সীমা রয়েছে। কিন্তু বিশ্বরূপের শক্তির কোনো পরিমেয় সীমা নেই। এই কারণেই অনন্তবীর্য শব্দটি পরম শক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে। মানুষ যতই শক্তিশালী হোক, তার শক্তি বৃহত্তর মহাজাগতিক শক্তির তুলনায় ক্ষুদ্র। এই উপলব্ধি অহংকারকে কমিয়ে বিনয় সৃষ্টি করে এবং মানুষকে নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন করে।
অনন্তবাহুম্ শব্দটি আক্ষরিকভাবে অসংখ্য বা অনন্ত বাহুবিশিষ্ট সত্তাকে বোঝায়। কিন্তু এই অসংখ্য বাহুকে শুধু বিশাল এক দৈহিক আকৃতির অংশ হিসেবে দেখলে এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হারিয়ে যায়। মানুষের বাহু তার কর্মক্ষমতার প্রতীক। হাত দিয়ে মানুষ নির্মাণ করে, সৃষ্টি করে, রক্ষা করে, পরিবর্তন করে এবং প্রয়োজনে ধ্বংসও করে। তাই বিশ্বরূপের অসংখ্য বাহু সমগ্র বিশ্বে কার্যকর অসংখ্য কর্মশক্তির প্রতীক। প্রকৃতির প্রতিটি কার্যক্রম যেন সেই অসীম শক্তির একটি বাহু। সূর্যের আলো, বাতাসের গতি, বৃষ্টির প্রবাহ, নদীর চলন, জীবের জন্ম, উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং মানুষের চিন্তা সবকিছু যেন একটি বৃহত্তর মহাজাগতিক কর্মব্যবস্থার অংশ। অর্জুন সেই বিচ্ছিন্ন কার্যপ্রবাহগুলোর অন্তরালে একটি ঐক্যবদ্ধ মহাশক্তিকে দেখতে পাচ্ছেন।
এরপর আসে শশিসূর্যনেত্রম্। শশি অর্থ চন্দ্র, সূর্য অর্থ সূর্য এবং নেত্র অর্থ চোখ বা দৃষ্টি। কৃষ্ণের দুই নেত্র হিসেবে সূর্য ও চন্দ্রের কল্পনা ভারতীয় বিশ্বচিন্তার অত্যন্ত গভীর প্রতীক। সূর্য আলো, তাপ, শক্তি এবং প্রকাশের প্রতীক। চন্দ্র শীতলতা, প্রশান্তি, ছন্দ এবং কোমল আলোর প্রতীক। ফলে সূর্য ও চন্দ্র যখন একই মহাসত্তার দুই চোখ হয়ে ওঠে, তখন বোঝানো হয় যে বিশ্বসত্তার মধ্যে তেজ ও কোমলতা, প্রকাশ ও প্রশান্তি, দিন ও রাত, সক্রিয়তা ও স্থিতি একসঙ্গে অবস্থান করছে। নেত্র কেবল দেখার অঙ্গ নয়। এটি জ্ঞান ও উপলব্ধিরও প্রতীক। তাই সূর্য ও চন্দ্রকে বিশ্বরূপের দুই নেত্র বলা মানে সমগ্র জগতের আলো ও সময় যেন সেই পরম সত্তার দৃষ্টির মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত।
অর্জুন এরপর বলেন পশ্যামি ত্বাম্। অর্থাৎ আমি তোমাকে দেখছি। এই ছোট্ট বাক্যটি সমগ্র শ্লোকের গভীরতম কেন্দ্র। অর্জুন কৃষ্ণের বিশ্বরূপ সম্পর্কে কেবল শুনছেন না। তিনি নিজে তা প্রত্যক্ষ করছেন। এখানে দেখা মানে সাধারণ চোখে কোনো বস্তু দেখা নয়। এটি এক ধরনের গভীর আধ্যাত্মিক উপলব্ধি। মানুষের সাধারণ দৃষ্টি জগতকে বিচ্ছিন্ন বস্তু হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত। সে দেখে মানুষ, গাছ, নদী, পাহাড়, সূর্য, চন্দ্র এবং অসংখ্য প্রাণী। কিন্তু বিশ্বরূপ দর্শনে অর্জুন সেই বিচ্ছিন্নতার অন্তরালে একটি বৃহত্তর ঐক্যকে উপলব্ধি করেন। তাই বিশ্বরূপ দর্শন শুধু কৃষ্ণের রূপের পরিবর্তন নয়। এটি অর্জুনের দৃষ্টির পরিবর্তনও। যে কৃষ্ণকে তিনি এতদিন বন্ধু হিসেবে চিনতেন, এখন তাঁর মধ্যেই তিনি সমগ্র অস্তিত্বের মহিমা প্রত্যক্ষ করছেন।
দীপ্তহুতাশবক্ত্রং শব্দবন্ধে এই বিশ্বরূপের অগ্নিময় সৌন্দর্য ও ভয়ংকর শক্তি প্রকাশিত হয়েছে। দীপ্ত অর্থ প্রজ্বলিত বা উজ্জ্বল। হুতাশ অগ্নির একটি নাম। যজ্ঞে যে অগ্নি আহুতি গ্রহণ করে তাকে হুতাশ বলা হয়। আর বক্ত্র অর্থ মুখ। ফলে দীপ্তহুতাশবক্ত্রং অর্থ প্রজ্বলিত অগ্নির মতো মুখবিশিষ্ট। এখানে অগ্নি শুধু ধ্বংসের প্রতীক নয়। বৈদিক সংস্কৃতিতে অগ্নি পবিত্রতা, যজ্ঞ, রূপান্তর এবং দেবতার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের প্রতীক। অগ্নিতে কোনো বস্তু প্রবেশ করলে তা আগের অবস্থায় থাকে না। তার রূপ বদলে যায়। তাই বিশ্বরূপের অগ্নিমুখকে অস্তিত্বের রূপান্তরশীল শক্তির প্রতীক হিসেবেও দেখা যায়। সৃষ্টি যেমন একটি পরিবর্তন, তেমনি বিলয়ও আরেক ধরনের পরিবর্তন। জন্ম, বৃদ্ধি, ক্ষয় এবং মৃত্যু একই মহাজাগতিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়।
শ্লোকের শেষ অংশে রয়েছে স্বতেজসা বিশ্বমিদং তপন্তম্। স্ব অর্থ নিজের এবং তেজ অর্থ দীপ্তি, শক্তি, প্রভাব ও মহিমা। স্বতেজসা অর্থ নিজের তেজ দ্বারা। তপ ধাতুর মূল অর্থ উত্তপ্ত করা, তাপ দেওয়া বা জ্বালানো। এই একই ধাতু থেকে তপস্যা শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। কারণ তপস্যার মধ্যেও আত্মসংযম ও অন্তরের শুদ্ধির মাধ্যমে এক ধরনের তাপ বা সাধনার ধারণা রয়েছে। এখানে তপন্তম্ অর্থ বিশ্বকে উত্তপ্ত বা দীপ্ত করে চলেছেন। এই অর্থে কৃষ্ণের তেজ কোনো বাহ্যিক উৎস থেকে আসা আলো নয়। এটি তাঁর নিজের অস্তিত্বের অন্তর্নিহিত শক্তি। তাঁর তেজে সমগ্র বিশ্ব আলোকিত, উত্তপ্ত এবং ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে।
এই শ্লোকের দার্শনিক তাৎপর্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অদ্বৈত ভাবনায় পরম সত্য সীমাবদ্ধ নাম ও রূপের অতীত। সেই দৃষ্টিতে অনাদি ও অনন্ত ধারণা এমন এক বাস্তবতার দিকে নির্দেশ করে যা জন্ম ও মৃত্যুর পরিবর্তনশীলতার বাইরে। বিশিষ্টাদ্বৈত ভাবনায় আবার জগৎ ও জীব পরমেশ্বরের সঙ্গে গভীর অস্তিত্বগত সম্পর্কের মধ্যে অবস্থান করে। সেই দৃষ্টিতে বিশ্বরূপের মধ্যে সমগ্র জগতের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ভক্তির দৃষ্টিতে এই শ্লোকের আবেগময়তা আরও গভীর। অর্জুন যাঁকে বন্ধু হিসেবে জানতেন, সেই কৃষ্ণের মধ্যেই তিনি অসীম ঈশ্বরকে দেখতে পান। পরিচিত মানুষের মধ্যে অপরিচিত মহিমার প্রকাশ ঘটে। স্নেহের সঙ্গে মিশে যায় বিস্ময়, শ্রদ্ধা এবং ভক্তি।
বিশ্বরূপের প্রতীকী অর্থ মানবজীবনের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। মানুষ সাধারণত নিজের জীবন, নিজের দুঃখ, নিজের সাফল্য এবং নিজের আকাঙ্ক্ষাকেই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা মনে করে। কিন্তু অনন্ত বিশ্বরূপের সামনে দাঁড়ালে সে উপলব্ধি করতে পারে যে তার জীবন একটি বিশাল অস্তিত্বের ক্ষুদ্র অংশ। এই উপলব্ধি ব্যক্তিগত সমস্যাকে অস্বীকার করে না। বরং তাকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখতে শেখায়। একজন মানুষ যখন বুঝতে পারে যে তার জ্ঞান সীমিত এবং তার জীবনও সীমিত, তখন তার মধ্যে অহংকারের পরিবর্তে বিনয় জন্মাতে পারে। সে নিজের অবস্থানকে বাস্তবভাবে উপলব্ধি করতে শেখে।
আধুনিক যুগেও এই শ্লোকের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে মানুষ প্রকৃতি এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে অভূতপূর্ব জ্ঞান অর্জন করেছে। আমরা মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করছি, নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর রহস্য অনুসন্ধান করছি এবং অতি ক্ষুদ্র জগতের গঠন বোঝার চেষ্টা করছি। কিন্তু জ্ঞান যত বাড়ছে, অজানার ব্যাপ্তিও তত স্পষ্ট হচ্ছে। অনন্তের ধারণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানুষের জ্ঞান যতই বিস্তৃত হোক, বাস্তবতার সম্পূর্ণতা তার হাতে ধরা পড়ে না। তাই জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে বিনয়ও প্রয়োজন।
সাহিত্যিক দিক থেকেও এই শ্লোক অসাধারণ। সূর্য ও চন্দ্র দুটি চোখ, অসংখ্য বাহু সর্বদিকে বিস্তৃত, অগ্নির মতো দীপ্ত মুখ এবং সেই তেজে উত্তপ্ত সমগ্র বিশ্ব। এই চিত্রকল্প মহাবিশ্বকে একটি জীবন্ত মহাশরীর হিসেবে কল্পনা করে। এখানে পৃথিবী, আকাশ, সূর্য, চন্দ্র এবং অসংখ্য জীব আলাদা আলাদা বস্তু নয়। তারা যেন একটি বৃহত্তর জীবন্ত সত্তার অঙ্গ। এই কাব্যিক রূপক মানুষের কল্পনাকে সীমিত জগত থেকে অসীমের দিকে নিয়ে যায়।
সবশেষে বলা যায়, এই শ্লোক মূলত মানুষের সীমিত দৃষ্টির সামনে অসীম বাস্তবতার প্রকাশ। অনাদি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পরম সত্য কোনো সূচনা থেকে উৎপন্ন নয়। অনন্ত জানায় যে তার কোনো চূড়ান্ত সীমা নেই। অনন্তবীর্য প্রকাশ করে তার অপরিমেয় শক্তি। অনন্তবাহু বিশ্বব্যাপী অসংখ্য কর্মশক্তির প্রতীক। শশিসূর্যনেত্র সূর্য ও চন্দ্রের মাধ্যমে আলো, সময় এবং বিশ্বদৃষ্টির ঐক্য প্রকাশ করে। দীপ্তহুতাশবক্ত্র অগ্নির মাধ্যমে সৃষ্টি, পবিত্রতা, রূপান্তর এবং সংহারের শক্তিকে তুলে ধরে। আর স্বতেজসা বিশ্বমিদং তপন্তম্ জানায় যে সমগ্র বিশ্ব সেই পরম তেজের দ্বারা আলোকিত ও পরিবর্তিত হচ্ছে।
এই শ্লোকের সবচেয়ে গভীর সত্য হয়তো পশ্যামি ত্বাম্ এই উপলব্ধির মধ্যেই নিহিত। অর্জুন বলেন, আমি তোমাকে দেখছি। কিন্তু তিনি যে কৃষ্ণকে দেখছেন, তিনি আর কেবল তাঁর পরিচিত বন্ধু নন। তাঁর মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে সমগ্র বিশ্ব। ব্যক্তির মধ্যে বিশ্ব, সীমার মধ্যে অসীম এবং দৃশ্যমানের মধ্যে অদৃশ্য পরম সত্যের প্রকাশ ঘটেছে। এই উপলব্ধিই বিশ্বরূপ দর্শনের মূল সৌন্দর্য। মানুষ যখন নিজের ক্ষুদ্র দৃষ্টির সীমা অতিক্রম করে বৃহত্তর অস্তিত্বকে দেখতে শেখে, তখন সে বুঝতে পারে যে তার জীবন বিচ্ছিন্ন নয়। সে এক বিশাল মহাজাগতিক সত্যের অংশ। অনন্তের সেই দর্শন মানুষকে বিনয়ী করে, চিন্তাকে গভীর করে এবং নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে নতুন এক উপলব্ধির দিকে নিয়ে যায়।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!