শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১১.৩ — ঈশ্বরের বিশ্বরূপ দর্শনের আকাঙ্ক্ষা
এবমেতদ্ যথাত্থ ত্বমাত্মনং পরমেশ্বর।
দ্রষ্টুমিচ্ছামি তে রূপমৈশ্বরং পুরুষোত্তম।।৩।।
অনুবাদঃ হে পরমেশ্বর! তোমার সম্বন্ধে যেরুপ বলেছ, যদিও আমার সম্মুখে তোমাকে সেই রূপেই দেখতে পাচ্ছি, তবুও হে পুরুষোত্তম! তুমি যেভাবে এই বিশ্বে প্রবেশ করেছ, আমি তোমার সেই ঐশ্বর্যময় রূপ দেখতে ইচ্ছা করি।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একাদশ অধ্যায়ের তৃতীয় শ্লোকটি আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে ধারণ করে। শ্লোকে অর্জুন বলছেন, হে পরমেশ্বর, আপনি নিজের সম্বন্ধে যেভাবে বলেছেন, আমি তা সেইভাবেই সত্য বলে গ্রহণ করছি। হে পুরুষোত্তম, এখন আমি আপনার সেই ঐশ্বরিক রূপ দর্শন করতে চাই। এই ছোট্ট বক্তব্যের মধ্যে বিশ্বাস, জ্ঞান, অনুসন্ধান, প্রত্যক্ষ উপলব্ধি এবং ঈশ্বরতত্ত্বের এক গভীর সমন্বয় ঘটেছে। অর্জুন এখানে আর কেবল কৃষ্ণের কথা শুনতে চান না। তিনি কৃষ্ণের কথার অন্তর্নিহিত সত্যকে নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করতে চান। তাই এই শ্লোককে বলা যায় শ্রবণ থেকে দর্শনের দিকে অগ্রসর হওয়ার শ্লোক।
শ্লোকের শুরুতে আছে এবমেতদ্ যথাত্থ। এবম্ অর্থ এইভাবে বা এইরূপে। এতৎ অর্থ এই বিষয়টি। যথা অর্থ যেভাবে এবং আত্ত্থ অর্থ আপনি বলেছেন। সব মিলিয়ে অর্জুনের বক্তব্য দাঁড়ায়, আপনি নিজের সম্পর্কে যেভাবে বলেছেন, আমি তা সেইভাবেই গ্রহণ করছি। এখানে অর্জুনের বিশ্বাসের গভীরতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি কৃষ্ণের বক্তব্যকে সন্দেহ করে প্রত্যাখ্যান করছেন না। আবার অন্ধভাবে বিশ্বাস করে থেমেও যাচ্ছেন না। তাঁর বিশ্বাস তাঁকে আরও গভীর অনুসন্ধানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সত্যিকারের জ্ঞানসন্ধানীর বৈশিষ্ট্য এখানেই। সে সত্যকে গ্রহণ করে, কিন্তু সেই সত্যকে নিজের অভিজ্ঞতার মধ্যেও উপলব্ধি করতে চায়।
এরপর এসেছে ত্বমাত্মানম্। ত্বম্ অর্থ আপনি এবং আত্মানম্ অর্থ নিজেকে বা নিজের স্বরূপকে। এখানে আত্মানম্ শব্দটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। অর্জুন কৃষ্ণের বাহ্যিক চেহারা দেখতে চাইছেন না। তিনি কৃষ্ণের প্রকৃত স্বরূপ দেখতে চাইছেন। কৃষ্ণ কে, তাঁর প্রকৃত অস্তিত্ব কী, তিনি কি কেবল একজন মানুষ, একজন বন্ধু, একজন রাজনীতিজ্ঞ, একজন কূটনীতিক, নাকি তাঁর মধ্যে এমন কোনো অসীম সত্তা রয়েছে যা সমগ্র বিশ্বজগতের সঙ্গে যুক্ত, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই অর্জুনের আকাঙ্ক্ষা। এই কারণে আত্মানম্ শব্দটি শ্লোকটির আধ্যাত্মিক গভীরতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
পরমেশ্বর শব্দটি গঠিত হয়েছে পরম এবং ঈশ্বর শব্দের সমন্বয়ে। পরম অর্থ সর্বোচ্চ এবং ঈশ্বর অর্থ প্রভু, অধীশ্বর বা নিয়ন্তা। তাই পরমেশ্বর অর্থ সর্বোচ্চ প্রভু বা সর্বাধিপতি। অর্জুন যখন কৃষ্ণকে পরমেশ্বর বলে সম্বোধন করছেন, তখন তাঁর উপলব্ধি সাধারণ মানবীয় সম্পর্ককে অতিক্রম করেছে। কৃষ্ণ তাঁর কাছে শুধু বন্ধু নন। তিনি এমন এক পরম সত্তা, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ঐশ্বরিকতার প্রকাশ রয়েছে। অর্জুনের এই সম্বোধনই পরবর্তী বিশ্বরূপ দর্শনের দার্শনিক ভিত্তি তৈরি করে।
শ্লোকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো দ্রষ্টুমিচ্ছামি। দ্রষ্টুম্ শব্দটি দৃশ্ ধাতু থেকে এসেছে। এর অর্থ দেখা বা দর্শন করা। ইচ্ছামি অর্থ আমি চাই বা আমি আকাঙ্ক্ষা করি। তাই দ্রষ্টুমিচ্ছামি অর্থ আমি দেখতে চাই বা আমি দর্শন করতে চাই। এই কয়েকটি শব্দের মধ্যে অর্জুনের সমগ্র মানসিক পরিবর্তন ধরা পড়েছে। তিনি এতক্ষণ কৃষ্ণের কাছ থেকে শুনেছেন। এখন তাঁর মনে হয়েছে, কেবল শ্রবণ যথেষ্ট নয়। তিনি প্রত্যক্ষ করতে চান। এই আকাঙ্ক্ষা কেবল কৌতূহল নয়। এটি জ্ঞানকে উপলব্ধিতে পরিণত করার আকাঙ্ক্ষা।
মানুষের জীবনে জ্ঞান সাধারণত কয়েকটি স্তরের মধ্য দিয়ে গভীর হয়। প্রথমে মানুষ কোনো বিষয় সম্পর্কে শোনে। এরপর সে তা নিয়ে চিন্তা করে। তারপর তার মধ্যে বিশ্বাস বা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন সেই সত্য তার নিজের অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠে, তখন জ্ঞান উপলব্ধিতে পরিণত হয়। অর্জুন ঠিক সেই সীমারেখায় দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি কৃষ্ণের বক্তব্য শুনেছেন, তা গ্রহণ করেছেন এবং এখন সেই সত্যের প্রত্যক্ষ প্রকাশ দেখতে চাইছেন। তাই এই শ্লোক মানুষের আধ্যাত্মিক যাত্রার একটি সার্বজনীন প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।
এরপর এসেছে তে রূপম্। তে অর্থ আপনার এবং রূপম্ অর্থ রূপ বা প্রকাশিত অবয়ব। কিন্তু এখানে রূপ বলতে শুধু বাহ্যিক আকৃতি বোঝালে শ্লোকটির গভীরতা হারিয়ে যায়। ভারতীয় দর্শনে রূপ অনেক সময় কোনো অন্তর্নিহিত সত্যের প্রকাশকে বোঝায়। যে সত্য সাধারণত অদৃশ্য, কোনো বিশেষ প্রকাশের মাধ্যমে তা দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে। কৃষ্ণের ঐশ্বরিক রূপও সেই অর্থে তাঁর অসীম সত্তার দৃশ্যমান প্রকাশ। অর্জুন এমন একটি রূপ দেখতে চাইছেন যেখানে কৃষ্ণের ব্যক্তিগত পরিচয়ের সীমা অতিক্রম করে সমগ্র সৃষ্টির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রকাশিত হবে।
ঐশ্বরম্ শব্দটি ঈশ্বর শব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর অর্থ ঐশ্বরিক, দিব্য, ঈশ্বরীয় বা অসাধারণ মহিমাসম্পন্ন। তাই রূপমৈশ্বরম্ অর্থ ঐশ্বরিক রূপ। এই ঐশ্বরিক রূপ সাধারণ মানুষের চোখে দেখা পরিচিত রূপের মতো নয়। এটি এমন এক প্রকাশ যেখানে সীমিতের মধ্যে অসীম, ব্যক্তির মধ্যে বিশ্বজনীনতা এবং দৃশ্যমানের মধ্যে অদৃশ্য সত্যের প্রকাশ ঘটে। একাদশ অধ্যায়ের পরবর্তী অংশে এই ধারণাই বিশ্বরূপ দর্শনের মাধ্যমে বিশাল আকার ধারণ করে।
শ্লোকের শেষে অর্জুন কৃষ্ণকে পুরুষোত্তম বলে সম্বোধন করেছেন। পুরুষোত্তম শব্দটি পুরুষ এবং উত্তম শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। পুরুষ বলতে ব্যক্তি, জীবসত্তা, চৈতন্যসত্তা কিংবা পরম সত্তাকে বোঝানো যেতে পারে। উত্তম অর্থ সর্বোচ্চ বা শ্রেষ্ঠ। তাই পুরুষোত্তম অর্থ সর্বোচ্চ পুরুষ বা সর্বোচ্চ সত্তা। এই সম্বোধনের মধ্যে কৃষ্ণের প্রতি অর্জুনের গভীর আধ্যাত্মিক উপলব্ধি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কৃষ্ণের মধ্যে এমন এক সত্তাকে উপলব্ধি করছেন যিনি সাধারণ ব্যক্তিসত্তার সীমার মধ্যে আবদ্ধ নন।
এই শ্লোকের দার্শনিক সৌন্দর্য হলো এখানে বিশ্বাস এবং অনুসন্ধানের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। অর্জুন বিশ্বাস করছেন বলেই দেখতে চাইছেন। তিনি দেখতে চাইছেন বলেই তাঁর বিশ্বাস দুর্বল হয়ে যাচ্ছে না। বরং বিশ্বাস তাঁকে আরও গভীরে নিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান এমনই। অন্ধ বিশ্বাস প্রশ্নকে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সত্যের প্রতি গভীর বিশ্বাস প্রশ্নকে আরও অর্থপূর্ণ করে তোলে। অর্জুনের অবস্থান হলো, আপনি যা বলেছেন আমি তা গ্রহণ করেছি, এখন আমাকে সেই সত্যের গভীরতর প্রকাশ দেখান। এই মানসিকতা একজন সত্যসন্ধানী মানুষের আদর্শ মানসিকতার প্রতীক।
এই শ্লোকের মধ্যে শ্রবণ এবং দর্শনের একটি গভীর পার্থক্যও রয়েছে। কোনো বিষয় সম্পর্কে শোনা এবং সেই বিষয়কে প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করা এক জিনিস নয়। একজন মানুষ আগুন সম্পর্কে অসংখ্য বই পড়তে পারে। সে জানতে পারে আগুন উত্তপ্ত। কিন্তু আগুনের তাপ অনুভব করার অভিজ্ঞতা সেই জ্ঞানকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা দেয়। একইভাবে কেউ সমুদ্র সম্পর্কে অসংখ্য তথ্য জানতে পারে, কিন্তু সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তার বিশালতা অনুভব করা সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। অর্জুনের দ্রষ্টুমিচ্ছামি সেই প্রত্যক্ষ উপলব্ধির আকাঙ্ক্ষারই প্রকাশ।
মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও এই শ্লোক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ সাধারণত পরিচিত বিষয়ের মধ্যেই নিরাপত্তা খোঁজে। অর্জুন কৃষ্ণকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধু হিসেবে জানেন। কিন্তু এখন তিনি সেই পরিচিত বন্ধুর অন্তরালে থাকা অসীম সত্তাকে দেখতে চাইছেন। অর্থাৎ তাঁর মানসিক কাঠামো পরিবর্তিত হতে চলেছে। পরিচিত কৃষ্ণের সীমিত পরিচয়ের পরিবর্তে তিনি কৃষ্ণের সর্বজনীন পরিচয় উপলব্ধি করতে প্রস্তুত হচ্ছেন। এটি মানুষের আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের সঙ্গেও তুলনীয়। আমরা নিজেদের যে পরিচয়ে জানি, তার বাইরেও আমাদের অস্তিত্বের আরও গভীর স্তর থাকতে পারে। সেই গভীর স্তরে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষাই আত্মঅনুসন্ধানের সূচনা।
সাহিত্যিক দিক থেকেও শ্লোকটি অসাধারণ। এর ভাষা সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর মধ্যে এক বিশাল নাটকীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অর্জুন প্রথমে কৃষ্ণের বক্তব্য গ্রহণ করেন। তারপর বলেন, আমি দেখতে চাই। এই দেখতে চাওয়ার মধ্য দিয়েই একাদশ অধ্যায়ের সবচেয়ে মহিমান্বিত দৃশ্যের দ্বার খুলে যায়। পরবর্তী পর্যায়ে কৃষ্ণ অর্জুনকে সেই বিশ্বরূপ দর্শনের জন্য দিব্যদৃষ্টি প্রদান করবেন। ফলে এই শ্লোকটি আসলে বিশ্বরূপ দর্শনের প্রস্তুতিপর্ব।
আধুনিক মানুষের জীবনেও এই শ্লোকের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমরা আজ তথ্যের যুগে বাস করি। প্রতিদিন আমরা অসংখ্য তথ্য শুনি, পড়ি এবং দেখি। কিন্তু তথ্য আর উপলব্ধি এক নয়। কেউ নৈতিকতার অসংখ্য বই পড়তে পারে, কিন্তু বাস্তব জীবনে নৈতিক সিদ্ধান্ত না নিলে সেই জ্ঞান চরিত্রে রূপ নেয় না। কেউ আধ্যাত্মিকতার অসংখ্য বক্তব্য শুনতে পারে, কিন্তু নিজের জীবন ও আচরণে তার প্রতিফলন না ঘটলে সেই জ্ঞান গভীরে পৌঁছায় না। অর্জুনের দ্রষ্টুমিচ্ছামি তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সত্যকে শুধু জানা নয়, সত্যকে উপলব্ধি করাও জরুরি।
এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থ আরও বিস্তৃত। এবম্ যেন শোনা সত্যের প্রতীক। যথাত্থ সেই সত্যকে গ্রহণ করার প্রতীক। আত্মানম্ প্রকৃত স্বরূপ অনুসন্ধানের প্রতীক। দ্রষ্টুম্ প্রত্যক্ষ উপলব্ধির প্রতীক। রূপম্ অদৃশ্য সত্যের দৃশ্যমান প্রকাশের প্রতীক। ঐশ্বরম্ সীমিতের মধ্যে অসীমের প্রকাশের প্রতীক। আর পুরুষোত্তম সেই সর্বোচ্চ চৈতন্যের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও আত্মসমর্পণের প্রতীক। এই দৃষ্টিতে শ্লোকটি শুধু অর্জুনের একটি ব্যক্তিগত অনুরোধ নয়। এটি মানুষের চিরন্তন আত্মঅনুসন্ধানের ভাষা।
অর্জুনের চরিত্রের তিনটি মহৎ গুণও এখানে প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমত তাঁর বিনয়। তিনি নিজের জ্ঞানকে চূড়ান্ত মনে করেননি। দ্বিতীয়ত তাঁর অনুসন্ধিৎসা। তিনি শুনে থেমে থাকেননি। তৃতীয়ত তাঁর প্রত্যক্ষ উপলব্ধির আকাঙ্ক্ষা। তিনি সত্যকে নিজের জীবন্ত অভিজ্ঞতার অংশ করতে চেয়েছেন। এই তিনটি গুণ আজও জ্ঞানসন্ধানী মানুষের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। বিনয় মানুষকে শেখার যোগ্য রাখে। অনুসন্ধিৎসা তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। আর প্রত্যক্ষ উপলব্ধির আকাঙ্ক্ষা জ্ঞানকে জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে।
সবশেষে বলা যায়, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১১.৩ এমন একটি শ্লোক যেখানে মানুষের আধ্যাত্মিক যাত্রার এক গভীর সত্য প্রকাশিত হয়েছে। অর্জুন প্রথমে শুনেছেন, তারপর বুঝেছেন, এরপর বিশ্বাস করেছেন এবং এখন দেখতে চাইছেন। তাঁর এই দেখতে চাওয়া কেবল চোখের দৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা নয়। এটি সত্যকে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করার আকাঙ্ক্ষা। কৃষ্ণের ঐশ্বরিক রূপ দেখতে চাওয়ার মধ্যে তাই মানুষের নিজের অস্তিত্বের গভীরতম সত্যকে জানার আকাঙ্ক্ষাও নিহিত রয়েছে। এই শ্লোক আমাদের শেখায় যে সত্যের পথে কেবল তথ্য সংগ্রহ যথেষ্ট নয়। কেবল বিশ্বাসও যথেষ্ট নয়। সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত জীবনের গভীর অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি করতে হয়। অর্জুনের কণ্ঠে উচ্চারিত দ্রষ্টুমিচ্ছামি তাই আজও মানুষের অন্তরের সেই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি হয়ে আছে, যে আকাঙ্ক্ষা বলে, আমি শুধু শুনতে চাই না, আমি সত্যকে দেখতে চাই, জানতে চাই এবং নিজের অস্তিত্বের গভীরে উপলব্ধি করতে চাই।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!