সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১১.৫ — বিশ্বরূপ দর্শনের সূচনা

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
শ্রীভগবানুবাচপশ্য মে পার্থ রূপাণি শতশোহথ সহস্রশঃ।নানাবিধানি দিব্যানি নানাবর্ণাকৃতীনি চ।।৫।।
শ্রীভগবানুবাচ
পশ্য মে পার্থ রূপাণি শতশোহথ সহস্রশঃ।
নানাবিধানি দিব্যানি নানাবর্ণাকৃতীনি চ।।৫।।

অনুবাদঃ শ্রীভগবান বললেন- হে পার্থ! নানা বর্ণ ও নানা আকৃতি-বিশিষ্ট শত শত ও সহস্র সহস্র আমার বিভিন্ন দিব্য রূপসমূহ দর্শন কর।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একাদশ অধ্যায়ের পঞ্চম শ্লোকটি বিশ্বরূপদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা মুহূর্ত। অর্জুন যখন শ্রীকৃষ্ণের ঐশ্বরিক সত্তাকে প্রত্যক্ষভাবে দেখতে চান, তখন কৃষ্ণ তাঁকে বলেন, হে পার্থ, আমার শত শত এবং সহস্র সহস্র নানা প্রকারের দিব্য রূপ দেখো। সেই রূপগুলি নানা বর্ণ ও আকৃতিতে প্রকাশিত। শ্লোকটি আপাতদৃষ্টিতে একটি দৃশ্য দেখার আহ্বান হলেও এর অন্তর্নিহিত অর্থ অনেক গভীর। এখানে কৃষ্ণ শুধু একটি অসাধারণ রূপ দেখানোর কথা বলছেন না। তিনি এমন এক অসীম বাস্তবতার কথা প্রকাশ করছেন যার প্রকাশ সংখ্যা, বৈচিত্র্য, রং ও আকৃতির কোনো সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়।

শ্লোকটির শুরুতেই রয়েছে পশ্য শব্দটি। সংস্কৃত পশ্য শব্দের মূল ধাতু হলো দৃশ্, যার অর্থ দেখা, দর্শন করা বা প্রত্যক্ষ করা। পশ্য হলো আদেশাত্মক রূপ, যার অর্থ দেখো বা প্রত্যক্ষ করো। এই একটি শব্দের মধ্যেই শ্লোকটির গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। কৃষ্ণ অর্জুনকে শুধু শুনতে বা বিশ্বাস করতে বলছেন না। তিনি তাঁকে প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। আধ্যাত্মিক জীবনে শ্রবণ, চিন্তা এবং প্রত্যক্ষ উপলব্ধির মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, এই শব্দটি সেই পার্থক্যকে সামনে নিয়ে আসে। কোনো সত্যের কথা শোনা এক বিষয়, তাকে যুক্তি দিয়ে বোঝা আরেক বিষয় এবং নিজের চেতনার মধ্যে তাকে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কৃষ্ণ অর্জুনকে সেই প্রত্যক্ষ উপলব্ধির পথে নিয়ে যাচ্ছেন।

এরপর এসেছে মে পার্থ। মে অর্থ আমার এবং পার্থ অর্থ পৃথার পুত্র। পৃথা ছিলেন কুন্তীর আরেক নাম। সেই কারণে কুন্তীপুত্র অর্জুনকে পার্থ বলা হয়। কৃষ্ণ যখন অর্জুনকে পার্থ বলে সম্বোধন করেন, তখন সেখানে কেবল পরিচয় প্রকাশ পায় না, একটি অন্তরঙ্গতার অনুভূতিও তৈরি হয়। বিশ্বরূপের মতো মহাজাগতিক ও অতীন্দ্রিয় বিষয়ের মধ্যেও কৃষ্ণ এবং অর্জুনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের উষ্ণতা অক্ষুণ্ণ থাকে। পরম সত্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের যে সুন্দর সমন্বয় ভক্তি দর্শনে দেখা যায়, এই সম্বোধনের মধ্যেও তার একটি সূক্ষ্ম প্রকাশ রয়েছে।

রূপাণি শব্দটি এসেছে রূপ শব্দ থেকে। রূপ অর্থ আকার, আকৃতি, অবয়ব, দৃশ্যমান প্রকাশ বা কোনো সত্তার প্রকাশিত স্বরূপ। রূপাণি হলো রূপের বহুবচন রূপ, যার অর্থ রূপসমূহ। কৃষ্ণ এখানে নিজের একটি রূপ দেখানোর কথা বলেননি। তিনি বলেছেন আমার রূপসমূহ দেখো। এই বহুবচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরম সত্তা এক হলেও তাঁর প্রকাশ অসংখ্য হতে পারে। এক সত্য বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হতে পারে। এই ধারণাই পরবর্তী শব্দগুলির মাধ্যমে আরও বিস্তৃত হয়েছে।

শতশঃ শব্দটি শত থেকে গঠিত এবং এর অর্থ শত শত। এখানে এটি কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাকে সীমাবদ্ধভাবে বোঝায় না। যেমন আমরা বাংলায় শত শত মানুষ বললে ঠিক একশত মানুষ বোঝাই না, বরং বিপুল সংখ্যক মানুষ বোঝাই, তেমনি এখানে শতশঃ শব্দটি অসংখ্যতার একটি ধারণা সৃষ্টি করে। এর পরেই এসেছে সহস্রশঃ শব্দটি। সহস্র অর্থ এক হাজার এবং সহস্রশঃ অর্থ সহস্র সহস্র বা হাজার হাজার। শতশঃ এবং সহস্রশঃ শব্দের পাশাপাশি ব্যবহার কৃষ্ণের রূপের অসীম ব্যাপ্তিকে আরও তীব্র করে তোলে। তিনি যেন বোঝাচ্ছেন যে তাঁর প্রকাশকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে গণনা করা সম্ভব নয়।

শ্লোকের নানাবিধানি শব্দটি নানা এবং বিধ শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। এর অর্থ বহুপ্রকার, বিভিন্ন ধরনের বা বহুবিধ। এর মাধ্যমে শুধু রূপের সংখ্যা নয়, সেই রূপগুলির বৈচিত্র্যের কথাও প্রকাশিত হয়েছে। ঈশ্বরীয় প্রকাশ কেবল সংখ্যায় অসীম নয়, প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যেও অসীম। একটি পরম সত্তা অসংখ্য রূপে প্রকাশিত হতে পারেন এবং প্রতিটি প্রকাশের মধ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। এই ধারণা ভারতীয় দর্শনের বহুত্বের মধ্যে ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।

দিব্যানি শব্দটি দিব্য শব্দ থেকে এসেছে। দিব্য শব্দের মধ্যে স্বর্গীয়, ঐশ্বরিক, উজ্জ্বল, অতীন্দ্রিয় এবং সাধারণ জগতের সীমা অতিক্রমকারী অর্থ নিহিত রয়েছে। তাই দিব্য রূপ বলতে শুধু সুন্দর বা আকর্ষণীয় রূপ বোঝানো হয় না। এখানে এমন এক রূপের কথা বলা হচ্ছে যা সাধারণ ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতার সীমার বাইরে। কৃষ্ণের বিশ্বরূপ সাধারণ চোখে দেখা সম্ভব নয়। পরবর্তী শ্লোকে তিনি অর্জুনকে দিব্যচক্ষু প্রদান করার কথা বলেন। ফলে এই শ্লোকের দিব্য শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে বাস্তবতার এমন কিছু স্তর থাকতে পারে যা সাধারণ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করা যায় না।

এরপর এসেছে নানাবর্ণাকৃতীনি শব্দটি। এটি নানা, বর্ণ এবং আকৃতি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। নানার অর্থ বিভিন্ন, বর্ণের অর্থ রং বা বৈশিষ্ট্যময় প্রকাশ এবং আকৃতির অর্থ আকার বা অবয়ব। ফলে নানাবর্ণাকৃতীনি অর্থ হলো নানা বর্ণ ও আকৃতিসম্পন্ন। কৃষ্ণ এখানে বিশ্বরূপের দৃশ্যগত বৈচিত্র্যকে সামনে আনছেন। অসংখ্য রূপের শুধু সংখ্যা আলাদা নয়, তাদের বর্ণ আলাদা, আকৃতি আলাদা এবং প্রকাশের ধরনও আলাদা। একই পরম সত্তার মধ্যে এমন অসংখ্য বৈচিত্র্য ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে।

এইভাবে পুরো শ্লোকটি একত্রে একটি অসাধারণ দার্শনিক ছবি তৈরি করে। কৃষ্ণ বলছেন তাঁর রূপ অসংখ্য, সেই রূপগুলি বহুবিধ, সেগুলি দিব্য এবং তাদের বর্ণ ও আকৃতিও অসংখ্য। এখানে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। প্রথমত রয়েছে সংখ্যার ব্যাপকতা। দ্বিতীয়ত রয়েছে প্রকৃতির বৈচিত্র্য। তৃতীয়ত রয়েছে প্রকাশের দৃশ্যমান বহুরূপতা। এই তিনটি স্তর মিলেই বিশ্বরূপের ধারণা পূর্ণতা পায়।

দার্শনিকভাবে এই শ্লোকের অন্যতম গভীর শিক্ষা হলো একের মধ্যে বহুর প্রকাশ। মানুষ সাধারণত বৈচিত্র্যকে বিভেদের সঙ্গে যুক্ত করে। একজন মানুষ অন্যজনের থেকে আলাদা। একটি জাতি অন্য জাতি থেকে আলাদা। একটি সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতি থেকে আলাদা। প্রকৃতির প্রতিটি জীবও অন্য জীবের থেকে পৃথক। কিন্তু কৃষ্ণের বিশ্বরূপের দৃষ্টিতে এই বৈচিত্র্য বিচ্ছিন্নতার প্রমাণ নয়। বরং অসংখ্য বৈচিত্র্য একটি বৃহত্তর ঐক্যের মধ্যে অবস্থান করতে পারে। অর্থাৎ রূপ বহু হতে পারে, কিন্তু তার অন্তর্নিহিত সত্য এক হতে পারে।

অদ্বৈত বেদান্তের আলোকে এই শ্লোককে দেখলে নাম ও রূপের বহুত্বের অন্তরে এক পরম সত্যের ধারণা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমরা জগতে অসংখ্য নাম ও রূপ দেখি, কিন্তু সেই বহুত্বের গভীরে রয়েছে এক ব্রহ্মতত্ত্ব। বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনের দৃষ্টিতে আবার এই বহুরূপতা ঈশ্বরের অসীম ঐশ্বর্যের প্রকাশ। জীব ও জগত তাঁর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং ঈশ্বরের মহত্ত্ব তাঁর অসংখ্য প্রকাশের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়। ভক্তি দর্শনের দৃষ্টিতে কৃষ্ণের এই বক্তব্য ঈশ্বরের অনন্ত মহিমার প্রকাশ। ভক্ত ঈশ্বরকে একটি নির্দিষ্ট রূপে ভালোবাসতে পারেন, কিন্তু ঈশ্বর সেই একটি রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। তাঁর প্রকাশ অসীম।

এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থও গভীর। রূপ এখানে অদৃশ্য সত্যের দৃশ্যমান প্রকাশের প্রতীক। যে সত্য সরাসরি দেখা যায় না, তা কোনো না কোনো প্রকাশের মাধ্যমে মানুষের কাছে ধরা দেয়। শতশঃ এবং সহস্রশঃ অসীমতার প্রতীক। এগুলি বোঝায় যে পরম সত্যকে কোনো সীমিত ধারণার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আবদ্ধ করা যায় না। নানাবিধানি বৈচিত্র্যের প্রতীক। নানাবর্ণাকৃতীনি প্রকাশের বহুমাত্রিকতার প্রতীক। আর দিব্যানি মনে করিয়ে দেয় যে বাস্তবতার সব স্তর সাধারণ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

এই ধারণাকে একটি সমুদ্রের উপমা দিয়ে সহজভাবে বোঝা যায়। সমুদ্র একটিই, কিন্তু তার ঢেউ অসংখ্য। কোনো ঢেউ ছোট, কোনো ঢেউ বড়, কোনো ঢেউ শান্ত, কোনো ঢেউ প্রবল। কিন্তু প্রতিটি ঢেউয়ের অন্তরে একই সমুদ্রের জল। একইভাবে জগতে অসংখ্য জীব, অসংখ্য প্রকৃতি, অসংখ্য ঘটনা এবং অসংখ্য রূপ থাকলেও তাদের অস্তিত্বের গভীরে একটি বৃহত্তর ঐক্যের ধারণা রয়েছে। বিশ্বরূপ সেই ঐক্যের অসীম বহুরূপী প্রকাশ।

আধুনিক মানবজীবনের ক্ষেত্রেও এই শ্লোকের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পৃথিবীতে মানুষ জাতি, ভাষা, সংস্কৃতি, দেশ, মতাদর্শ এবং নানা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভক্ত। পার্থক্য কখনো কখনো সংঘাতের কারণ হয়ে ওঠে। কিন্তু কৃষ্ণের এই শিক্ষা আমাদের ভিন্নভাবে দেখতে শেখায়। বৈচিত্র্য মানেই বিচ্ছিন্নতা নয়। একটি বাগানে যদি কেবল একটি ফুল থাকে, সেটি সুন্দর হতে পারে। কিন্তু নানা রঙ ও আকৃতির ফুল একত্রে একটি বৃহত্তর সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। তেমনি মানবসমাজের বৈচিত্র্যও বৃহত্তর ঐক্যের মধ্যে সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারে।

মহাভারতের প্রেক্ষাপটে এই শ্লোকের গুরুত্ব আরও গভীর। অর্জুন কুরুক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে মূলত একটি সীমিত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সংকটে পড়েছিলেন। তিনি সামনে দেখছিলেন আত্মীয়, শিক্ষক, বন্ধু এবং পরিচিত মানুষদের। কৃষ্ণ তাঁকে ধীরে ধীরে সেই সীমিত ব্যক্তিগত দৃষ্টির বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বরূপদর্শনের মাধ্যমে অর্জুন যে বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করতে চলেছেন, সেখানে কেবল কয়েকজন মানুষ নেই। সেখানে সমগ্র অস্তিত্ব একটি বৃহৎ মহাজাগতিক পরিসরের মধ্যে ধরা পড়ে। ফলে এই শ্লোক ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মহাজাগতিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।

শ্লোকটির সাহিত্যিক সৌন্দর্যও অসাধারণ। শতশঃ এবং সহস্রশঃ শব্দের পুনরাবৃত্তি অসীম সংখ্যার অনুভূতি সৃষ্টি করে। নানাবিধানি শব্দ বৈচিত্র্যের ধারণাকে প্রসারিত করে। দিব্যানি শব্দ সেই বৈচিত্র্যকে সাধারণ জগতের সীমা অতিক্রম করিয়ে ঐশ্বরিক স্তরে নিয়ে যায়। তারপর নানাবর্ণাকৃতীনি শব্দটি পাঠকের কল্পনায় অসংখ্য রং ও আকৃতির এক বিশাল দৃশ্য নির্মাণ করে। মনে হয় যেন কৃষ্ণ ধীরে ধীরে অর্জুনের সামনে একটি সীমাহীন মহাজাগতিক চিত্র উন্মোচন করছেন।

এই শ্লোকের সবচেয়ে গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা হলো সত্যকে একটি মাত্র সীমিত রূপের মধ্যে আবদ্ধ করা যায় না। মানুষ তার সীমিত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বাস্তবতাকে বোঝে। তাই তার ধারণাও সীমিত হয়। কিন্তু পরম সত্য সেই সীমার চেয়ে অসীমভাবে বৃহৎ। কৃষ্ণের বিশ্বরূপ সেই সীমাবদ্ধ ধারণাকে ভেঙে দেয়। তিনি দেখান যে এক পরম সত্তা অসংখ্য রূপে প্রকাশিত হতে পারেন এবং বহুত্বের মধ্যেও একটি গভীর ঐক্য বিদ্যমান থাকতে পারে।

শেষ পর্যন্ত পশ্য মে পার্থ রূপাণি শতশোহথ সহস্রশঃ শ্লোকটি শুধু অর্জুনকে অসংখ্য রূপ দেখার আহ্বান নয়। এটি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের আহ্বান। পশ্য শব্দটি তাই সমগ্র শ্লোকের প্রাণ। এটি শুধু চোখ দিয়ে দেখার কথা বলে না, বরং গভীরতর সত্যকে উপলব্ধি করার আহ্বান জানায়। রূপাণি আমাদের শেখায় যে সত্যের প্রকাশ বহুরূপী। শতশঃ সহস্রশঃ আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই প্রকাশের অসীমতা। নানাবিধানি আমাদের বৈচিত্র্যের কথা বলে। দিব্যানি আমাদের ইন্দ্রিয়াতীত সত্যের দিকে নিয়ে যায়। আর নানাবর্ণাকৃতীনি আমাদের দেখায় যে একই পরম সত্য অসংখ্য বর্ণ, আকৃতি এবং প্রকাশের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে।

এই কারণে গীতার এই শ্লোককে এক বাক্যে ধারণ করতে হলে বলা যায়, বহুরূপের অন্তরে এক সত্য এবং এক সত্যের মধ্যে অসীম বহুরূপতার দর্শনই এই শ্লোকের মূল শিক্ষা। মানুষ যখন কেবল বিচ্ছিন্ন রূপ দেখে তখন বিভেদ সৃষ্টি হয়, আর যখন সেই রূপগুলির অন্তর্নিহিত ঐক্য উপলব্ধি করতে শেখে তখন তার দৃষ্টি বিস্তৃত হয়। কৃষ্ণ অর্জুনকে সেই বিস্তৃত দৃষ্টির দিকেই নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বরূপ তাই শুধু ঈশ্বরের একটি মহিমান্বিত দর্শন নয়, এটি সীমিত মানবদৃষ্টি থেকে অসীম চেতনার দিকে একটি আধ্যাত্মিক যাত্রার সূচনা।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 21, 2026 August 21, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি