শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৫.২৩ | কামনা ও ক্রোধ সংযমে প্রকৃত সুখ ও আত্মজয়ের শিক্ষা
শক্নোতীহৈব যঃ সোঢ়ুং প্রাক্ শরীরবিমোক্ষণাৎ।
কামক্রোধোদ্ভবং বেগং স যুক্তঃ স সুখী নরঃ।।২৩।।
অনুবাদঃ এই দেহ ত্যাগ করার পূর্বে যিনি কাম, ক্রোধ থেকে উদ্ভুত বেগ সহ্য করতে সক্ষম হন, তিনিই যোগী এবং এই জগতে তিনিই সুখী হন।
এর সহজ অর্থ হলো যে মানুষ শরীর ত্যাগের পূর্বেই এই জীবনেই কামনা ও ক্রোধ থেকে উৎপন্ন প্রবল বেগকে সহ্য ও সংযত করতে সক্ষম হয়, সেই মানুষই প্রকৃত অর্থে যুক্ত এবং সেই মানুষই সুখী। এখানে শ্রীকৃষ্ণ বাহ্যিক সম্পদ, ভোগ, ক্ষমতা বা সামাজিক সাফল্যকে সুখের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি মানুষের অন্তর্জগতের দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। মানুষের নিজের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা এবং ক্রোধের উপর তার কতখানি কর্তৃত্ব আছে, তার মধ্যেই তিনি প্রকৃত সুখের ভিত্তি খুঁজে দেখেছেন।
শ্লোকটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ শক্নোতি। সংস্কৃত শক্ ধাতুর অর্থ হলো সক্ষম হওয়া, পারা বা সামর্থ্য থাকা। শক্নোতি অর্থ সে পারে বা সে সক্ষম হয়। কিন্তু এখানে এই পারা কেবল কোনো বাহ্যিক কাজ করার সামর্থ্য নয়। এখানে নিজের অন্তরের প্রবল প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার মানসিক সামর্থ্যের কথা বলা হয়েছে। মানুষের পক্ষে অন্যকে পরাজিত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে, কিন্তু নিজের ভিতরের আকাঙ্ক্ষা ও ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন। তাই শ্রীকৃষ্ণের বক্তব্যে প্রকৃত শক্তির পরিচয় বাহ্যিক বিজয়ে নয়, আত্মসংযমে।
ইহৈব শব্দের মধ্যেও গভীর তাৎপর্য রয়েছে। ইহ অর্থ এখানে এবং এব অর্থই বা এই জীবনেই। অর্থাৎ আত্মসংযমের ফল পাওয়ার জন্য মৃত্যুর পরে কোনো অনিশ্চিত অবস্থার অপেক্ষা করতে হবে না। মানুষ জীবিত অবস্থাতেই নিজের চেতনা পরিবর্তন করতে পারে। নিজের কামনা ও ক্রোধকে বুঝে, তাদের বেগকে সামলে এবং নিজের বিবেককে সক্রিয় রেখে মানুষ এই জীবনেই অন্তরের শান্তি অর্জন করতে পারে। গীতার এই বক্তব্য অত্যন্ত বাস্তব। কারণ মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতি কোনো দূরবর্তী বিষয় নয়। প্রতিদিনের আচরণ, সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক এবং প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই তার পরীক্ষা হয়।
এরপর এসেছে যঃ এবং সোঢ়ুম্। যঃ অর্থ যে ব্যক্তি এবং সোঢ়ুম্ অর্থ সহ্য করা বা বহন করা। কিন্তু সোঢ়ুম্ শব্দটিকে কেবল নিষ্ক্রিয়ভাবে সবকিছু সহ্য করা হিসেবে বোঝা উচিত নয়। এখানে প্রবল আবেগের উপস্থিতি সত্ত্বেও তার দ্বারা পরিচালিত না হওয়ার ক্ষমতা বোঝানো হয়েছে। ক্রোধ উঠতে পারে, কিন্তু ক্রোধের নির্দেশে মানুষকে কাজ করতে হবে না। কোনো আকাঙ্ক্ষা জন্ম নিতে পারে, কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে উঠতে হবে না। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি গীতার আত্মসংযমের ধারণাকে অত্যন্ত গভীর করে তোলে।
প্রাক্ শরীরবিমোক্ষণাত্ অংশটি শ্লোকটির সময়গত গুরুত্ব প্রকাশ করে। প্রাক্ অর্থ পূর্বে এবং শরীরবিমোক্ষণ অর্থ শরীর থেকে মুক্তি বা দেহত্যাগ। অর্থাৎ মৃত্যুর আগে, এই দেহে অবস্থান করতেই মানুষকে নিজের অন্তর্গত বেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। আত্মসংযমকে জীবনের শেষ পর্যায়ের কোনো বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। মানুষ যখন তরুণ, কর্মক্ষম এবং সক্রিয়, তখনই তার চেতনার শিক্ষা শুরু হওয়া দরকার। কারণ অভ্যাস, আকাঙ্ক্ষা এবং মানসিক প্রতিক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে সেগুলো মানুষের চরিত্রের অংশ হয়ে যায়।
শ্লোকটির কেন্দ্রীয় ধারণা হলো কামক্রোধোদ্ভবং বেগম্। কাম অর্থ আকাঙ্ক্ষা, ইচ্ছা বা ভোগের প্রবল বাসনা। ক্রোধ অর্থ বাধাপ্রাপ্ত আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া রাগ বা উত্তেজনা। উদ্ভব অর্থ উৎপন্ন হওয়া এবং বেগ অর্থ প্রবল গতি, চাপ বা তীব্র আবেগের প্রবাহ। অর্থাৎ কাম ও ক্রোধ থেকে যে মানসিক বেগ উৎপন্ন হয়, সেটিই এখানে নিয়ন্ত্রণের বিষয়।
মানবমনকে যদি একটি নদীর সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে কামনা হলো সেই স্রোত যা মানুষকে কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর দিকে নিয়ে যায়। যখন সেই আকাঙ্ক্ষার পথে বাধা আসে, তখন একই স্রোত ক্রোধের রূপ নিতে পারে। মানুষ যা চায় তা না পেলে তার মধ্যে হতাশা জন্মায়। হতাশা থেকে অসন্তোষ আসে। অসন্তোষ থেকে ক্রোধ জন্ম নিতে পারে। ক্রোধ আবার বিচারবুদ্ধিকে দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে একটি ছোট আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে মানুষের আচরণ ও সম্পর্কের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই কারণেই গীতায় কাম ও ক্রোধকে শুধু দুটি আলাদা আবেগ হিসেবে দেখা হয় না। এগুলো মানুষের অন্তর্জগতের শক্তিশালী চালিকা প্রবাহ। কামনা মানুষকে ভবিষ্যতের কোনো প্রত্যাশিত বস্তুর দিকে ঠেলে দেয়। ক্রোধ মানুষকে অতীতের কোনো বাধা বা অপূর্ণতার দিকে প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলে। একদিকে আকর্ষণ, অন্যদিকে বিকর্ষণ। এই দুইয়ের মধ্যে আটকে থাকা মন সহজে শান্ত হতে পারে না।
এখানে বেগ শব্দটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ইচ্ছা এবং বেগ এক জিনিস নয়। কোনো কিছু চাওয়া স্বাভাবিক মানবিক প্রবণতা। কিন্তু সেই চাওয়া যখন এত প্রবল হয়ে ওঠে যে মানুষ নিজের বিবেক, মূল্যবোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি ভুলে যায়, তখন সেটি বেগে পরিণত হয়। একইভাবে সামান্য বিরক্তি এবং প্রবল ক্রোধ এক বিষয় নয়। ক্রোধ যখন মানুষের চিন্তা ও আচরণকে দখল করে ফেলে, তখন সেটি এমন এক বেগে পরিণত হয় যার প্রভাবে মানুষ পরে অনুতপ্ত হতে পারে।
এই অবস্থায় শ্রীকৃষ্ণ বলেন স যুক্তঃ। যুক্ত শব্দটি যুজ্ ধাতু থেকে এসেছে। এর সঙ্গে যোগ, সংযুক্তি এবং সমন্বয়ের ধারণা যুক্ত। গীতার ভাষায় যুক্ত মানুষ কেবল বাহ্যিকভাবে ধর্মীয় আচরণকারী ব্যক্তি নয়। যুক্ত হলো সেই ব্যক্তি যার মন, বুদ্ধি এবং কর্মের মধ্যে একটি গভীর সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। যার ইন্দ্রিয় একটি দিকে, মন অন্য দিকে এবং বুদ্ধি আরেক দিকে ছুটে বেড়ায়, সে এখনো অন্তর্গতভাবে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তি ও বিবেকের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সে যুক্ত।
শেষে এসেছে স সুখী নরঃ। স অর্থ সেই এবং সুখী অর্থ সুখসম্পন্ন বা প্রকৃত শান্তি লাভকারী মানুষ। এখানে সুখের ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত মানুষ মনে করে কাঙ্ক্ষিত বস্তু অর্জন করলেই সুখ আসে। কিন্তু গীতার দৃষ্টিতে বাহ্যিক বস্তু থেকে পাওয়া আনন্দ পরিবর্তনশীল। একটি ইচ্ছা পূরণ হলে কিছু সময় আনন্দ আসে, তারপর নতুন ইচ্ছা জন্ম নেয়। ফলে মানুষ আবার নতুন কিছুর পিছনে ছুটতে থাকে। এই চক্রের কোনো শেষ নেই।
শ্রীকৃষ্ণ যে সুখের কথা বলছেন তা আকাঙ্ক্ষার দাসত্ব থেকে মুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। যে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছাকে বুঝতে পারে, কিন্তু প্রতিটি ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করে না, সে ধীরে ধীরে স্বাধীন হয়। যে ব্যক্তি ক্রোধ অনুভব করেও ক্রোধের নির্দেশে কাজ করে না, সে নিজের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এই আত্মকর্তৃত্ব থেকেই গভীর শান্তি জন্ম নেয়।
দার্শনিকভাবে এই শ্লোক মানুষের স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে। মানুষ কি নিজের আবেগের দ্বারা পরিচালিত, নাকি সে নিজের আবেগকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। গীতার উত্তর হলো মানুষ কেবল তার প্রবৃত্তির সমষ্টি নয়। তার মধ্যে এমন একটি সচেতনতা রয়েছে যা নিজের মনকেও পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাই আত্মসংযমের প্রথম ধাপ।
মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও এই শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কোনো আবেগ অনুভব করা এবং সেই আবেগ অনুসারে কাজ করা এক বিষয় নয়। মানুষের মনে রাগ, আকাঙ্ক্ষা, হতাশা বা উত্তেজনা আসতেই পারে। কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগে থামতে পারা, পরিস্থিতি বোঝা এবং পরিণতি বিবেচনা করা মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিচয়। গীতার প্রাচীন ভাষায় যাকে কামক্রোধের বেগ সহ্য করা বলা হয়েছে, আধুনিক ভাষায় তাকে আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিক্রিয়ার উপর সচেতন কর্তৃত্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।
বাস্তব জীবনে এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। একজন মানুষ কর্মক্ষেত্রে অপমানিত হলো। তার মধ্যে সঙ্গে সঙ্গে ক্রোধ জন্ম নিল। সে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর কথা বলতে পারে। কিন্তু যদি সে কিছুক্ষণ থামে, নিজের আবেগকে লক্ষ্য করে এবং পরে যুক্তিসংগতভাবে কথা বলে, তাহলে সে ক্রোধকে অস্বীকার করেনি। বরং ক্রোধের উপর নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। আবার কোনো ব্যক্তি কোনো বস্তু পাওয়ার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী হলো। কিন্তু নিজের সামর্থ্য ও প্রয়োজন বিবেচনা করে সে সিদ্ধান্ত নিল যে বস্তুটি না পেলেও তার জীবন অসম্পূর্ণ নয়। এই অবস্থাতেও সে কামনার বেগকে অতিক্রম করেছে।
সাহিত্যের ভাষায় মানুষকে প্রায়ই নিজের অন্তরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে দেখা যায়। বাহ্যিক যুদ্ধের বিজয় দৃশ্যমান, কিন্তু অন্তরের যুদ্ধের বিজয় নীরব। একজন মানুষ যখন নিজের অহংকার, লোভ, অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা ও ক্রোধকে বুঝে তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, তখন বাইরে কোনো বিজয়ের পতাকা না উঠলেও তার ভিতরে একটি বড় বিজয় ঘটে।
এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থও গভীর। কামনা এখানে শুধু বস্তুগত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক নয়। এটি মানুষের অসম্পূর্ণতার অনুভূতির প্রতীক। ক্রোধ হলো সেই অসম্পূর্ণতা যখন বাস্তবতার সঙ্গে নিজের প্রত্যাশার সংঘর্ষ ঘটে। আর বেগ হলো সেই সংঘর্ষের মানসিক গতি। যুক্ত ব্যক্তি সেই মানুষ যিনি এই প্রবাহের মধ্যে থেকেও নিজের কেন্দ্র হারান না। তাই এই শ্লোককে মানুষের অন্তর্গত স্বাধীনতার একটি প্রতীকী শিক্ষা হিসেবেও দেখা যায়।
শ্লোকটি আকাঙ্ক্ষাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার শিক্ষা দেয় না। মানুষের জীবনে ইচ্ছা না থাকলে কোনো কর্মপ্রেরণাও থাকবে না। বরং শিক্ষা হলো ইচ্ছার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক পরিবর্তন করা। ইচ্ছা থাকবে, কিন্তু মানুষ ইচ্ছার দাস হবে না। ক্রোধ আসতে পারে, কিন্তু মানুষ ক্রোধের যন্ত্র হবে না। বাহ্যিক জগত পরিবর্তনশীল থাকবে, কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের অন্তরের শান্তি যেন সম্পূর্ণভাবে ওঠানামা না করে।
এখানে সুখের একটি গভীর সংজ্ঞা পাওয়া যায়। সুখ মানে সব ইচ্ছা পূরণ হওয়া নয়। কারণ সব ইচ্ছা কখনো পূরণ হয় না। সুখ হলো ইচ্ছা এবং বাস্তবতার সংঘর্ষের মধ্যেও নিজের অন্তরের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারা। সুখ হলো এমন এক স্বাধীনতা যেখানে মানুষ নিজের আবেগকে অনুভব করে, কিন্তু আবেগ তাকে পরিচালনা করে না। এই কারণেই শ্রীকৃষ্ণ শেষ পর্যন্ত বলেন যে এমন মানুষই সুখী নর।
সমগ্র শ্লোকটি তাই মানুষের জীবনের একটি মৌলিক সত্য প্রকাশ করে। বাহ্যিক জগতকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মানুষ অন্যের আচরণ, পরিস্থিতি, সম্পদ, সাফল্য বা ব্যর্থতা সবসময় নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করতে পারে না। কিন্তু নিজের প্রতিক্রিয়া, নিজের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজের সম্পর্ক এবং নিজের ক্রোধের উপর কিছুটা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এই অন্তর্গত কর্তৃত্বই গীতার আত্মসংযমের শিক্ষা।
সবশেষে বলা যায়, শক্নোতি আমাদের সামর্থ্যের কথা বলে, ইহৈব আমাদের এই জীবনের গুরুত্ব স্মরণ করায়, সোঢ়ুম্ আমাদের সহনশীলতার শিক্ষা দেয়, কাম ও ক্রোধ মানুষের অন্তর্গত আকর্ষণ ও প্রতিক্রিয়ার শক্তিকে নির্দেশ করে, বেগ সেই শক্তির তীব্রতা বোঝায়, যুক্তঃ আত্মসমন্বয়ের পরিচয় দেয় এবং সুখী নরঃ প্রকৃত মানবিক সাফল্যের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে। শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা তাই কেবল ক্রোধ দমন বা ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণের একটি নৈতিক নির্দেশ নয়। এটি মানুষের অন্তর্গত স্বাধীনতার শিক্ষা। যে ব্যক্তি নিজের কামনা ও ক্রোধের বেগের মধ্যেও নিজের বিবেককে জাগ্রত রাখতে পারে, সে বাহ্যিক পৃথিবীকে জয় না করেও নিজের ভিতরের একটি বড় জয় অর্জন করে। আর সেই অন্তর্জয় থেকেই জন্ম নেয় এমন এক সুখ, যা কোনো বাহ্যিক সম্পদের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল নয়।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!