সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৫.২৮ | ইন্দ্রিয়সংযম, মনোবুদ্ধির নিয়ন্ত্রণ ও অন্তরের মুক্তির পথ

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
যতেন্দ্রিয়মনোবুদ্ধির্মুনির্মোক্ষপরায়ণঃ।বিগতেচ্ছাভয়ক্রোধো যঃ সদা মুক্ত এব সঃ।।২৮।।
যতেন্দ্রিয়মনোবুদ্ধির্মুনির্মোক্ষপরায়ণঃ।
বিগতেচ্ছাভয়ক্রোধো যঃ সদা মুক্ত এব সঃ।।২৮।।

অনুবাদঃ মন থেকে বাহ্য ইন্দ্রিয়ের বিষয় প্রত্যাহার করে, ভ্রুযুগলের মধ্যে দৃষ্টি স্থির করে, নাসিকার মধ্যে বিচরণশীল প্রাণ ‍ও অপান বায়ুর উর্ধ্ব ও অধোগতি রোধ করে, ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধি সংযম করে এবং ইচ্ছা, ভয় ও ক্রোধ শূন্য হয়ে যে মুনি সর্বদা বিরাজ করেন, তিনি নিশ্চিতভাবে মুক্ত।

ভগবদ্গীতার পঞ্চম অধ্যায়ের অষ্টাবিংশতম শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতা ও মুক্তির এক গভীর ছবি তুলে ধরেছেন। শ্লোকটি হলো

এই ছোট্ট শ্লোকের মধ্যে মানুষের সম্পূর্ণ অন্তর্জীবনের একটি গভীর দর্শন নিহিত রয়েছে। মানুষ কীভাবে নিজের ইন্দ্রিয়কে সংযত করবে, কীভাবে মনকে স্থির করবে, কীভাবে বুদ্ধিকে জাগ্রত রাখবে এবং কীভাবে ইচ্ছা, ভয় ও ক্রোধের বন্ধন অতিক্রম করে অন্তরের স্বাধীনতা অর্জন করবে, শ্রীকৃষ্ণ সেই পথেরই ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখানে মুক্তি বলতে কেবল বাহ্যিক কোনো বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়াকে বোঝানো হয়নি। বরং মানুষের নিজের মনোজগতের সেইসব শক্তি থেকে মুক্ত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে, যেগুলো অজান্তেই তার চিন্তা, সিদ্ধান্ত ও কর্মকে পরিচালনা করে।

শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো যতেন্দ্রিয়। সংস্কৃত যত শব্দের মধ্যে সংযম, নিয়ন্ত্রণ ও শাসনের ভাব রয়েছে। ইন্দ্রিয় বলতে মানুষের সেইসব অনুভূতিশক্তিকে বোঝানো হয়, যার মাধ্যমে সে বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। চোখ দৃশ্য গ্রহণ করে, কান শব্দ শোনে, নাক গন্ধ অনুভব করে, জিহ্বা স্বাদ গ্রহণ করে এবং ত্বক স্পর্শ অনুভব করে। কিন্তু ইন্দ্রিয় সংযমের অর্থ এই নয় যে মানুষ তার ইন্দ্রিয়কে অস্বীকার করবে বা জীবনের স্বাভাবিক অনুভূতিগুলোকে ধ্বংস করবে। এর প্রকৃত অর্থ হলো ইন্দ্রিয় যেন মানুষের বিবেক ও বুদ্ধির নিয়ন্ত্রণে থাকে। চোখ কোনো আকর্ষণীয় জিনিস দেখলেই তার পেছনে ছুটতে হবে না। কান কোনো কথা শুনলেই উত্তেজিত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে না। জিহ্বা কোনো কিছু চাইলে সেই চাহিদার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে না। মানুষ অনুভব করবে, কিন্তু অনুভূতির দাস হবে না। এই পার্থক্যটিই গীতার ইন্দ্রিয় সংযমের মূল শিক্ষা।

মানুষের সমস্যা অনেক সময় ইন্দ্রিয়ের মধ্যে নয়, ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের মধ্যে। বাইরের পৃথিবীতে অসংখ্য আকর্ষণ রয়েছে। মানুষ যদি প্রতিটি আকর্ষণকে নিজের প্রয়োজন মনে করে এবং প্রতিটি অনুভূতির নির্দেশ অনুসরণ করে তবে তার স্বাধীনতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বাহ্যিকভাবে সে স্বাধীন হলেও অন্তরে সে নিজের প্রবৃত্তির দ্বারা পরিচালিত হতে থাকে। তাই যতেন্দ্রিয় মানুষ সেই ব্যক্তি, যিনি বাইরের জগতকে প্রত্যাখ্যান করেন না, কিন্তু বাইরের জগতকে নিজের অন্তরের অধিপতি হতে দেন না।

এরপর শ্লোকে মন ও বুদ্ধির কথা এসেছে। ইন্দ্রিয় বাইরের জগত থেকে অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করে, মন সেই অভিজ্ঞতাকে গ্রহণ করে এবং বুদ্ধি তার বিচার করে। মন স্বভাবতই চঞ্চল। কখনো এটি অতীতের স্মৃতিতে চলে যায়, কখনো ভবিষ্যতের চিন্তায় অস্থির হয়, কখনো কোনো আকাঙ্ক্ষার পেছনে ছুটে যায় এবং কখনো কোনো ভয়কে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে ওঠে। তাই শুধু বাহ্যিক ইন্দ্রিয় সংযম যথেষ্ট নয়। মানুষের ভেতরের মনকেও ধীরে ধীরে স্থির করতে হয়।

বুদ্ধি এখানে আরও গভীর ভূমিকা পালন করে। বুদ্ধি মানুষের বিচারশক্তি। কোনটি সত্য, কোনটি মিথ্যা, কোনটি স্থায়ী কল্যাণ এবং কোনটি সাময়িক আকর্ষণ, কোন কাজ করা উচিত এবং কোন কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত, এসব বিচার করার ক্ষমতা বুদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। যখন মন ইন্দ্রিয়ের আকর্ষণে ছুটে যায় এবং বুদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়ে তখন মানুষ অনেক সময় এমন কাজ করে যার পরিণতি সম্পর্কে সে আগে থেকেই জানত। কিন্তু যখন বুদ্ধি জাগ্রত থাকে তখন মানুষ নিজের আবেগকে দেখতে পারে এবং আবেগের মুহূর্তেও বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই কারণেই শ্রীকৃষ্ণ ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধিকে একসঙ্গে সংযত করার কথা বলেছেন।

এই শ্লোকে মুনি শব্দটির উপস্থিতিও অত্যন্ত অর্থবহ। সাধারণভাবে মুনি বলতে জ্ঞানী বা সাধককে বোঝানো হয়। কিন্তু মুনিত্ব কেবল নির্জনে বসে থাকা বা খুব কম কথা বলার নাম নয়। মুনিত্ব মূলত অন্তর্দর্শনের একটি অবস্থা। যে মানুষ নিজের মনকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে, নিজের চিন্তার প্রকৃতি বুঝতে পারে, নিজের আবেগকে চিনতে পারে এবং নিজের আকাঙ্ক্ষার উৎস অনুসন্ধান করতে পারে, তার মধ্যে মুনির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। একজন মানুষ বাইরে থেকে অত্যন্ত নীরব হতে পারেন, অথচ তার মন ভেতরে প্রবল অস্থিরতায় ভরা থাকতে পারে। আবার অন্য একজন মানুষ সমাজের মধ্যে থেকে কাজ করেও গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও আত্মসংযমের অধিকারী হতে পারেন। তাই গীতার মুনি মূলত এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের অন্তর্জগতের প্রতি জাগ্রত।

এরপর আসে মোক্ষপরায়ণ ধারণা। মোক্ষ অর্থ মুক্তি এবং পরায়ণ অর্থ কোনো একটি পরম লক্ষ্য বা অভিমুখের দিকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত থাকা। মোক্ষপরায়ণ ব্যক্তি তাই এমন একজন মানুষ, যার জীবনের সর্বোচ্চ অভিমুখ অন্তরের মুক্তির দিকে। ভারতীয় দর্শনে মোক্ষকে মানুষের অন্যতম পরম লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু এই মোক্ষকে কেবল মৃত্যুর পর লাভ করার কোনো দূরবর্তী অবস্থা হিসেবে দেখলে গীতার শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হারিয়ে যায়। জীবিত অবস্থাতেও মানুষ তার আসক্তি, অহংকার, অজ্ঞতা, ভয় ও ক্রোধের প্রভাব থেকে ধীরে ধীরে মুক্ত হতে পারে। নিজের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি অর্জনের মধ্য দিয়েই সেই মুক্তির সূচনা হয়।

শ্লোকে এরপর বলা হয়েছে বিগতেচ্ছা। ইচ্ছা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির অংশ। মানুষ ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করে, ভালো কিছু পেতে চায়, উন্নতি করতে চায় এবং নিজের জীবনে নানা লক্ষ্য স্থির করে। তাহলে গীতায় ইচ্ছা থেকে মুক্তির কথা কেন বলা হচ্ছে। এখানে ইচ্ছার সম্পূর্ণ বিলোপ বোঝানো হয়নি। বরং ইচ্ছার সঙ্গে যে আসক্তি তৈরি হয় তার থেকে মুক্তির কথা বলা হয়েছে। একটি মানুষ কোনো কিছু অর্জন করতে চাইতে পারে, কিন্তু সেই অর্জন না হলে তার জীবন অর্থহীন হয়ে যাবে এমন ধারণা যদি তৈরি হয় তখন ইচ্ছা বন্ধনে পরিণত হয়। সে কাজের মালিক থাকে না, কাজের ফলের দাস হয়ে যায়।

বিগতেচ্ছা তাই এমন একটি অবস্থাকে নির্দেশ করে যেখানে মানুষ কাজ করে কিন্তু আকাঙ্ক্ষার দ্বারা নিজের অস্তিত্বকে সংজ্ঞায়িত করে না। সে চেষ্টা করে কিন্তু ব্যর্থতাকে নিজের মূল্যবোধের চূড়ান্ত বিচার মনে করে না। সে সাফল্য পায় কিন্তু সাফল্যের সঙ্গে নিজের সম্পূর্ণ পরিচয় জুড়ে দেয় না। এই অবস্থায় মানুষ কর্মের মধ্যে থেকেও অন্তরে স্বাধীন থাকতে পারে।

এরপর আসে ভয়। ভয় মানুষের অত্যন্ত শক্তিশালী মানসিক প্রবৃত্তি। অজানা ভবিষ্যৎ, ব্যর্থতা, ক্ষতি, অপমান, বিচ্ছেদ এবং অনিশ্চয়তা থেকে ভয়ের জন্ম হতে পারে। কিন্তু ভয়ের গভীরে অনেক সময় আসক্তি কাজ করে। মানুষ যে বিষয়কে নিজের বলে যত বেশি আঁকড়ে ধরে, সেটি হারানোর ভয়ও তত বেশি হয়। যে ব্যক্তি নিজের পরিচয়কে সম্পদ, সম্মান, সাফল্য বা অন্যের স্বীকৃতির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করে ফেলেছে তার মধ্যে হারানোর আশঙ্কাও তীব্র হতে পারে।

বিগতভয় তাই বিপদকে অস্বীকার করা নয়। বিপদকে বুঝেও তার কাছে নিজের বিচারবুদ্ধি সমর্পণ না করাই এর গভীর অর্থ। সাহসী মানুষ এমন নয় যে সে কখনো ভয় অনুভব করে না। বরং সে ভয়ের উপস্থিতি বুঝতে পারে এবং তবুও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে। গীতার দৃষ্টিতে এই অন্তরের স্থিরতাই ভয় অতিক্রম করার প্রকৃত পথ।

ক্রোধের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। মানুষের কোনো প্রত্যাশা পূরণ না হলে হতাশা সৃষ্টি হয়। হতাশা থেকে অসন্তোষ এবং অসন্তোষ থেকে ক্রোধ জন্ম নিতে পারে। মানুষ যখন মনে করে পৃথিবী অবশ্যই তার ইচ্ছা অনুযায়ী চলবে, তখন বাস্তবতা তার প্রত্যাশার বিরুদ্ধে গেলেই ক্রোধের জন্ম হয়। তাই ক্রোধকে বুঝতে হলে তার পেছনের আকাঙ্ক্ষাকে বুঝতে হয়।

বিগতক্রোধ মানে মানুষের মধ্যে কখনো কোনো আবেগ সৃষ্টি হবে না এমন নয়। বরং ক্রোধ যেন মানুষের বুদ্ধির উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে সেটিই এর মূল শিক্ষা। একজন মানুষ ক্রুদ্ধ হতে পারেন, কিন্তু ক্রোধের মুহূর্তে এমন কাজ না করাই আত্মসংযমের পরিচয় যা পরে অনুশোচনার কারণ হবে। ক্রোধকে দমন করার চেয়ে তাকে বোঝা এবং তার মূল কারণ অতিক্রম করা অনেক গভীর সাধনা।

এইভাবে পুরো শ্লোকটি মানুষের অন্তর্জীবনের একটি ক্রমবিকাশের কথা বলে। প্রথমে ইন্দ্রিয়কে সংযত করতে হবে। তারপর মনকে স্থির করতে হবে। এরপর বুদ্ধিকে জাগ্রত ও পরিষ্কার রাখতে হবে। নিজের মধ্যে মননের শক্তি বিকশিত করতে হবে। জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্যকে অন্তরের মুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে ইচ্ছা, ভয় ও ক্রোধের উপর নিজের চেতনার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই অবস্থায় মানুষ বাহ্যিকভাবে পৃথিবীর মধ্যে থেকেও অন্তরে স্বাধীন হয়ে উঠতে পারে।

এই শিক্ষার আধুনিক প্রাসঙ্গিকতাও গভীর। বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের সামনে অসংখ্য আকর্ষণ ও তথ্যের প্রবাহ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, বিনোদন এবং ক্রমাগত নতুন নতুন উদ্দীপনা মানুষের মনকে এক মুহূর্তের জন্যও স্থির থাকতে দেয় না। মানুষ একদিকে তথ্যের সঙ্গে বেশি সংযুক্ত হয়েছে, অন্যদিকে নিজের অন্তরের সঙ্গে অনেক সময় দূরে সরে গেছে। এই পরিস্থিতিতে যতেন্দ্রিয় ধারণাটি নতুন অর্থে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সবকিছু দেখা দরকার নেই। সব কথার উত্তর দেওয়া দরকার নেই। প্রত্যেক আকর্ষণ অনুসরণ করা দরকার নেই। প্রত্যেক উত্তেজনার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখানোও প্রয়োজন নেই। কখন থামতে হবে, কখন নীরব থাকতে হবে এবং কখন নিজের ভেতরের অবস্থাকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, সেটিও জ্ঞানের অংশ।

এই শ্লোকের দর্শনকে একটি সহজ উপমার মাধ্যমে বোঝা যায়। মানুষের মন যেন একটি রথ এবং ইন্দ্রিয়গুলো সেই রথকে বিভিন্ন দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া শক্তির মতো। বুদ্ধি হলো সেই শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার বিচারশক্তি। যদি ইন্দ্রিয়ের প্রতিটি আকর্ষণ মানুষকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে যায় তবে জীবনের রথ কখনো একদিকে আবার কখনো অন্যদিকে ছুটবে। কিন্তু বুদ্ধি যদি জাগ্রত থাকে এবং মন যদি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে জীবনের যাত্রা একটি সুস্পষ্ট দিক পায়। তখন মানুষ পৃথিবী থেকে পালিয়ে যায় না। বরং পৃথিবীর মধ্যেই সচেতনভাবে চলতে শেখে।

এই কারণে শ্লোকটির সবচেয়ে গভীর শিক্ষা হলো মুক্তি কোনো বাহ্যিক অবস্থার নাম নয়। মানুষ অনেক সম্পদের অধিকারী হয়েও অন্তরে বন্দী হতে পারে। আবার বাহ্যিকভাবে সাধারণ জীবনযাপন করেও একজন মানুষ গভীর অন্তর্গত স্বাধীনতা লাভ করতে পারে। প্রকৃত মুক্তি তখনই আসে যখন মানুষ নিজের ইন্দ্রিয়ের দাস থাকে না, নিজের মনের প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে ভেসে যায় না, নিজের বুদ্ধিকে অচেতন করে রাখে না এবং নিজের ইচ্ছা, ভয় ও ক্রোধকে নিজের জীবনের একমাত্র চালিকাশক্তি হতে দেয় না।

শ্রীকৃষ্ণের এই শিক্ষা মানুষের জীবন থেকে অনুভূতি মুছে ফেলার শিক্ষা নয়। এটি অনুভূতিকে জ্ঞানের আলোয় পরিচালিত করার শিক্ষা। এটি ইচ্ছাকে ধ্বংস করার শিক্ষা নয়। ইচ্ছার দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার শিক্ষা। এটি ভয়কে অস্বীকার করার শিক্ষা নয়। ভয়ের মধ্যেও স্থির থাকার শিক্ষা। এটি ক্রোধকে কেবল চাপা দেওয়ার শিক্ষা নয়। ক্রোধের উৎসকে বুঝে তাকে অতিক্রম করার শিক্ষা।

শেষ পর্যন্ত যতেন্দ্রিয়মনোবুদ্ধির্মুনির্মোক্ষপরায়ণঃ এবং বিগতেচ্ছাভয়ক্রোধো যঃ সদা মুক্ত এব সঃ এই দুটি অংশ একত্রে মানুষের আত্মমুক্তির একটি পূর্ণ চিত্র নির্মাণ করে। বাহ্যিক সংযম থেকে শুরু হয় অন্তরের সাধনা। ইন্দ্রিয় সংযত হলে মনকে দেখা যায়। মনকে দেখা গেলে বুদ্ধির প্রকৃত শক্তি জাগ্রত হয়। বুদ্ধি জাগ্রত হলে মানুষ নিজের আকাঙ্ক্ষা, ভয় ও ক্রোধকে চিনতে শেখে। আর যখন মানুষ এইসব মানসিক শক্তির দ্বারা পরিচালিত না হয়ে তাদের সচেতনভাবে অতিক্রম করতে পারে তখন তার মধ্যে এক গভীর স্বাধীনতার জন্ম হয়। সেই স্বাধীনতা বাহ্যিক পরিস্থিতির দান নয়। এটি অন্তরের জাগরণের ফল। গীতার ভাষায় এমন মানুষই সত্যিকার অর্থে সদাই মুক্ত।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 11, 2026 August 11, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি