সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৯.২৫ — উপাসনার অভিমুখ, চেতনার গতি ও জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্যের তত্ত্ব

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
যান্তি দেবব্রতা দেবান্ পিতৃন্ যান্তি পিতৃব্রতাঃ।ভূতানি যান্তি ভুতেজ্যা যান্তি মদযাজিনোহপি মাম্।।…
যান্তি দেবব্রতা দেবান্ পিতৃন্ যান্তি পিতৃব্রতাঃ।
ভূতানি যান্তি ভুতেজ্যা যান্তি মদযাজিনোহপি মাম্।।২৫।।

অনুবাদঃ দেবতাদের উপাসকেরা দেবলোক প্রাপ্ত হবেন; পিতৃপুরুষদের উপাসকেরা পিতৃলোক লাভ করেন; ভুত- প্রেত আদির উপাসকেরা ভূতলোক লাভ করেন; এবং আমার উপাসকেরা আমাকেই লাভ করেন।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার নবম অধ্যায়ের পঁচিশতম শ্লোকটি মানুষের উপাসনা, আকাঙ্ক্ষা, চেতনা এবং জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করেছে। শ্রীকৃষ্ণ বলেন, যাঁরা দেবতাদের উদ্দেশে ব্রত পালন করেন তাঁরা দেবতাদের লাভ করেন, যাঁরা পিতৃগণের উদ্দেশে ব্রতপরায়ণ তাঁরা পিতৃলোকের দিকে গমন করেন, যাঁরা ভূতসত্তার উপাসনা করেন তাঁরা সেই ভূতসত্তার কাছেই পৌঁছান এবং যাঁরা আমাকে উপাসনা করেন তাঁরা আমাকেই লাভ করেন। এই বক্তব্যের মধ্যে শুধু ধর্মীয় উপাসনার বিভিন্ন পদ্ধতির কথা নেই। এর মধ্যে মানুষের সমগ্র জীবনদর্শনের একটি মৌলিক সত্য নিহিত আছে। মানুষ যে লক্ষ্যকে সর্বোচ্চ বলে গ্রহণ করে, তার চিন্তা, কর্ম, সাধনা এবং জীবনযাত্রা ধীরে ধীরে সেই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে।

শ্লোকটির প্রথম শব্দ যান্তি। সংস্কৃত যান্তি শব্দটি √যা ধাতু থেকে এসেছে। এই ধাতুর অর্থ যাওয়া, গমন করা বা অগ্রসর হওয়া। কিন্তু গীতার এই প্রসঙ্গে যান্তি শব্দকে কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া হিসেবে বোঝা যথেষ্ট নয়। এখানে এটি মানুষের চেতনার গতি, সাধনার অভিমুখ এবং জীবনের চূড়ান্ত পরিণতির অর্থ বহন করে। মানুষ প্রতিদিন কোনো না কোনো দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার চিন্তা তাকে একদিকে নিয়ে যাচ্ছে, তার আকাঙ্ক্ষা তাকে একদিকে নিয়ে যাচ্ছে, তার অভ্যাস তার চরিত্রকে একদিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং তার কর্ম তার ভবিষ্যৎকে একটি নির্দিষ্ট দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাই যান্তি শব্দটি মানুষের অস্তিত্বকে একটি চলমান যাত্রা হিসেবে দেখতে শেখায়।

এরপর এসেছে দেবব্রতাঃ শব্দটি। দেব এবং ব্রত এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে দেবব্রত শব্দটি গঠিত হয়েছে। দেব বলতে সাধারণভাবে দেবতা বা ঐশ্বরিক শক্তিকে বোঝায় এবং ব্রত বলতে বোঝায় সংকল্প, নিয়ম, সাধনা বা কোনো নির্দিষ্ট আদর্শকে কেন্দ্র করে জীবন পরিচালনা। তাই দেবব্রত বলতে বোঝায় এমন মানুষকে যিনি দেবতাকে কেন্দ্র করে নিজের ব্রত ও সাধনা পরিচালনা করেন। এখানে শুধু বিশ্বাসের কথা বলা হচ্ছে না। ব্রত মানে কোনো কিছুকে জীবনের নিয়মিত সাধনার অংশ করে নেওয়া। অর্থাৎ মানুষ যে বিষয়কে বারবার স্মরণ করে, যার জন্য নিয়মিত চেষ্টা করে এবং যার কাছে নিজের কর্ম নিবেদন করে, সেটিই ধীরে ধীরে তার জীবনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

দেবান্ শব্দটি দেব শব্দের বহুবচন রূপ। এর অর্থ দেবতাদের। কৃষ্ণ বলছেন যাঁরা দেবতাদের উদ্দেশে ব্রতপরায়ণ তাঁরা দেবতাদের লাভ করেন। বৈদিক ঐতিহ্যে ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ, বায়ু, সূর্য প্রভৃতি বিভিন্ন দেবশক্তির উপাসনার প্রচলন ছিল। এই উপাসনার মাধ্যমে মানুষ নির্দিষ্ট শক্তি, কল্যাণ বা জাগতিক ফল লাভের প্রত্যাশা করতে পারে। গীতার বক্তব্য এখানে সেই উপাসনাকে অস্বীকার করা নয়। বরং কৃষ্ণ উপাসনার লক্ষ্য এবং তার ফলের মধ্যে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক দেখাচ্ছেন। যে লক্ষ্য সীমিত, সেই লক্ষ্য থেকে প্রাপ্ত ফলও সেই সীমার মধ্যে থাকে।

পিতৃব্রতাঃ শব্দটি পিতৃ এবং ব্রত শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। পিতৃ বলতে শুধু ব্যক্তিগত পিতাকে বোঝায় না। বৈদিক ধর্মদর্শনে পিতৃ বলতে পূর্বপুরুষগণ এবং তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রকে বোঝানো হয়। যাঁরা পিতৃগণের উদ্দেশে নির্দিষ্ট আচার, শ্রাদ্ধ, তর্পণ এবং সাধনা পালন করেন তাঁরা পিতৃব্রত। কৃষ্ণ বলেন পিতৃব্রত ব্যক্তিরা পিতৃগণকে লাভ করেন। এর মধ্যে পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও পারিবারিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও রয়েছে। একই সঙ্গে এটি একটি বৃহত্তর দার্শনিক সত্য প্রকাশ করে। মানুষ যে সম্পর্ক, মূল্যবোধ এবং ঐতিহ্যকে জীবনের কেন্দ্রে স্থাপন করে তার চেতনা সেই ক্ষেত্রের সঙ্গেই গভীরভাবে যুক্ত হয়ে ওঠে।

এরপর এসেছে ভূতানি শব্দটি। ভূত শব্দটি √ভূ ধাতু থেকে এসেছে যার অর্থ হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা বা উৎপন্ন হওয়া। তাই সংস্কৃত দর্শনে ভূত বলতে কেবল বাংলা ভাষায় প্রচলিত ভূতপ্রেত বোঝায় না। ভূত বলতে সৃষ্ট সত্তা, জীব, অস্তিত্বশীল বস্তু অথবা সৃষ্টির বিভিন্ন উপাদানকে বোঝানো হতে পারে। ভূতানি তার বহুবচন। এর অর্থ সৃষ্ট সত্তাসমূহ। ভূতেজ্যাঃ শব্দটি ভূত এবং ইজ্যা শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। ইজ্যা শব্দের মধ্যে পূজা, যজ্ঞ এবং উপাসনার ভাব রয়েছে। তাই ভূতেজ্য বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যিনি সৃষ্ট সত্তা বা পার্থিব শক্তিকে উপাসনার কেন্দ্র করেছেন। কৃষ্ণের বক্তব্য হলো সেই উপাসনার ফলও সেই সীমিত ক্ষেত্রের মধ্যেই অবস্থান করে।

শ্লোকটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হলো মদ্যাজিনোऽপি মাম্। মদ্যাজিন শব্দের মধ্যে মদ্ এবং যাজিন এই দুটি অংশ রয়েছে। মদ্ অর্থ আমার বা আমাকে এবং যাজিন শব্দটি √যজ্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। √যজ্ ধাতুর অর্থ যজ্ঞ করা, পূজা করা, নিবেদন করা বা উপাসনা করা। তাই মদ্যাজিন বলতে বোঝায় যাঁরা আমাকে উদ্দেশ করে যজ্ঞ বা উপাসনা করেন। এরপর এসেছে অপি শব্দটি, যার অর্থ এমনকি, এছাড়াও বা তাঁরাও। সবশেষে এসেছে মাম্ শব্দটি, যার অর্থ আমাকে। এই একটি শব্দের মধ্যেই শ্লোকটির চূড়ান্ত দর্শন এসে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। কৃষ্ণ বলছেন যাঁরা তাঁকে পরম লক্ষ্য করে উপাসনা করেন তাঁরা তাঁকেই লাভ করেন।

এই শ্লোকের মূল শিক্ষা তাই অত্যন্ত সরল অথচ গভীর। মানুষ যে বিষয়কে তার জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য করে তোলে, তার জীবন ধীরে ধীরে সেই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। উপাসনা শুধু মন্দিরে পূজা করা নয়। একজন মানুষ অর্থকে উপাসনা করতে পারে, কেউ ক্ষমতাকে, কেউ খ্যাতিকে, কেউ ভোগকে, কেউ জ্ঞানকে এবং কেউ সত্যকে। সে যে বিষয়কে সর্বোচ্চ মূল্য দেয়, তার সময়, চিন্তা, শ্রম এবং আকাঙ্ক্ষা সেই বিষয়ের চারপাশে সংগঠিত হতে থাকে। এই অর্থে মানুষের জীবনের প্রকৃত উপাস্য তার মুখের কথায় নয়, বরং তার সময় এবং কর্মের মধ্যে প্রকাশ পায়।

শ্রীকৃষ্ণের এই বক্তব্যকে আধুনিক জীবনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গভীরভাবে প্রয়োগ করা যায়। একজন মানুষ যদি মনে করে অর্থই জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য, তবে তার চিন্তা অর্থের দিকে কেন্দ্রীভূত হবে। সে তার শিক্ষা, কর্ম এবং সম্পর্ককেও অর্থের দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করতে শুরু করতে পারে। কেউ যদি খ্যাতিকে সর্বোচ্চ মনে করে, তবে তার জীবন মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় পরিচালিত হতে পারে। কেউ যদি ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ মনে করে, তবে তার সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে ক্ষমতা চলে আসতে পারে। আবার কেউ যদি সত্য, জ্ঞান, ন্যায় এবং ঈশ্বরকে জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য করে, তাহলে তার চরিত্র ও জীবনযাত্রা সেই আদর্শের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে থাকে। এই কারণেই যান্তি শব্দটি শুধু মৃত্যুর পরের গন্তব্যের কথা বলে না। এটি জীবিত অবস্থায় মানুষের প্রতিদিনের মানসিক যাত্রার কথাও বলে।

এই শ্লোকের দার্শনিক তাৎপর্য আরও গভীর। অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে পরম সত্য হলো ব্রহ্ম। বিভিন্ন দেবতা এবং বিভিন্ন জাগতিক উপাসনার ফল আপেক্ষিক স্তরে অবস্থান করে। মানুষ যখন সীমিত কোনো লক্ষ্যকে গ্রহণ করে তখন তার সাধনাও সেই সীমিত ফলের দিকে পরিচালিত হয়। কিন্তু পরম সত্যকে লক্ষ্য করলে সাধনার অভিমুখ মুক্তি এবং আত্মস্বরূপ উপলব্ধির দিকে যায়। বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনের দৃষ্টিতে পরম ঈশ্বর হলেন সর্বোচ্চ আশ্রয় এবং জীব তাঁর সঙ্গে গভীর সম্পর্কযুক্ত। তাই পরম পুরুষকে উপাসনা করা মানে নিজের অস্তিত্বের সর্বোচ্চ আশ্রয়ের দিকে ফিরে যাওয়া। ভক্তি দর্শনে এই সত্য আরও হৃদয়গ্রাহী হয়ে ওঠে। সেখানে ঈশ্বর কেবল কোনো ফল লাভের উপায় নন। ঈশ্বরই হয়ে ওঠেন চূড়ান্ত কাম্য। অর্থাৎ ঈশ্বরকে পাওয়ার জন্য ঈশ্বরকেই চাওয়া। ভক্তির এই অবস্থায় উপাসনার উদ্দেশ্য আর কোনো সীমিত বস্তু নয়। উপাসনার উদ্দেশ্য হয়ে ওঠেন স্বয়ং পরমেশ্বর।

শ্লোকটির মনোবৈজ্ঞানিক তাৎপর্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের মন যেখানে বারবার যায়, তার অভ্যাসও ধীরে ধীরে সেদিকেই গড়ে ওঠে। অভ্যাস থেকে চরিত্র তৈরি হয় এবং চরিত্র জীবনকে একটি নির্দিষ্ট দিকে নিয়ে যায়। তাই মানুষ যদি প্রতিদিন লোভ, হিংসা, প্রতিযোগিতা এবং অহংকার নিয়ে চিন্তা করে, তবে তার মানসিক জগৎও ধীরে ধীরে সেই বৈশিষ্ট্যে পূর্ণ হতে পারে। আবার যদি সে সত্য, সংযম, করুণা, জ্ঞান এবং ঈশ্বরচেতনার দিকে মনকে পরিচালিত করে, তাহলে তার অন্তর্জগত অন্যভাবে বিকশিত হতে পারে। এই অর্থে যান্তি হলো মানুষের অন্তর্গত গতির প্রতীক। আমরা শুধু পথে হাঁটি না। আমরা প্রতিদিন নিজের চরিত্রের মধ্যেও একটি পথ তৈরি করি।

শ্লোকটির মধ্যে একটি অসাধারণ কাব্যিক সৌন্দর্যও রয়েছে। যান্তি শব্দটি চারবার ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছে দেবব্রতেরা দেবতাদের দিকে যায়। এরপর বলা হয়েছে পিতৃব্রতেরা পিতৃগণের দিকে যায়। তারপর বলা হয়েছে ভূতেজ্যারা ভূতসত্তার দিকে যায়। সবশেষে বলা হয়েছে মদ্যাজিনরাও আমাকে লাভ করে। একই ক্রিয়াপদের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে কৃষ্ণ যেন একটি সর্বজনীন নিয়ম সামনে আনছেন। মানুষের সাধনা যে দিকে পরিচালিত হয় তার গন্তব্যও সেই দিকেই নির্ধারিত হয়। তবে শেষ পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য দেখা যায়। সীমিত উপাসনার ফল সীমিত ক্ষেত্রে অবস্থান করে, কিন্তু পরমেশ্বরকে লক্ষ্য করলে লক্ষ্য হয়ে ওঠে পরমেশ্বর নিজেই।

এখানে একটি সুন্দর উপমা ব্যবহার করা যায়। সমুদ্রে চলা একটি নৌকার কথা ভাবা যাক। নৌকার কাছে যদি একটি নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশক যন্ত্র থাকে তবে নৌকা ধীরে ধীরে সেই দিকেই এগোতে থাকবে। মানুষের জীবনের ক্ষেত্রেও তার সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা অনেকটা সেই দিকনির্দেশকের মতো। মানুষ যাকে সর্বোচ্চ মূল্য দেয়, তার জীবনও ধীরে ধীরে সেই দিকে বাঁক নেয়। তাই গীতার এই শ্লোকের প্রকৃত প্রশ্ন শুধু কে কোন দেবতার পূজা করে তা নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ মূল্য কী। সে আসলে কাকে খুঁজছে। সে কোন জিনিসের জন্য নিজের সময়, শক্তি এবং জীবন উৎসর্গ করছে।

এই কারণে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৯.২৫ একটি আধ্যাত্মিক শ্লোক হওয়ার পাশাপাশি মানুষের আত্মপরিচয় নির্ণয়ের একটি গভীর আয়নাও। একজন মানুষ নিজের জীবনকে বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারে তার প্রকৃত উপাস্য কে। সে কী নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা করে, কী অর্জনের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করে, কোন বিষয় হারানোর ভয় তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় এবং কোন বিষয় পাওয়ার জন্য সে নিজের নীতি পর্যন্ত পরিবর্তন করতে প্রস্তুত হয়, সেখানেই তার প্রকৃত উপাস্যের পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ উপাস্য কেবল মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিমা নয়। উপাস্য হলো সেই মূল্য, যার চারপাশে মানুষের জীবন ঘুরতে থাকে।

সুতরাং যান্তি দেবব্রতা দেবান্ পিতৃন্ যান্তি পিতৃব্রতাঃ ভূতানি যান্তি ভূতেজ্যা যান্তি মদ্যাজিনোऽপি মাম্ শ্লোকটির গভীরতম শিক্ষা হলো মানুষের গন্তব্য তার অন্তরের অভিমুখের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। মানুষ যে শক্তিকে সর্বোচ্চ বলে মানে তার দিকেই তার জীবন অগ্রসর হয়। যে বস্তুতে তার মন নিবদ্ধ থাকে তার সঙ্গে তার চরিত্রের সম্পর্ক তৈরি হয়। যে আদর্শকে সে প্রতিদিন অনুসরণ করে তার মধ্যেই তার ব্যক্তিত্বের রূপ ফুটে ওঠে। আর যখন মানুষের সমস্ত আকাঙ্ক্ষা সীমিত বস্তু থেকে সরে পরম সত্যের দিকে নিবদ্ধ হয়, তখন তার সাধনার গন্তব্যও হয়ে ওঠে পরম সত্য। এই কারণেই শ্লোকটির শেষ শব্দ মাম্ অর্থাৎ আমাকে এত তাৎপর্যপূর্ণ। কৃষ্ণ যেন মানুষের সামনে একটি চিরন্তন প্রশ্ন রেখে দেন। তুমি জীবনে কোথায় যেতে চাও তা জানার আগে তোমাকে জানতে হবে তুমি আসলে কাকে চাও। কারণ মানুষের জীবন শেষ পর্যন্ত তার আকাঙ্ক্ষারই দীর্ঘ যাত্রা এবং তার হৃদয় যে দিকে সত্যিকার অর্থে নিবেদিত, তার গন্তব্যও ধীরে ধীরে সেই দিকেই নির্ধারিত হয়।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 18, 2026 August 18, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি