শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৯.২৮ — শুভাশুভ কর্মফল, কর্মবন্ধন, সন্ন্যাসযোগ ও ঈশ্বরলাভের তত্ত্ব
শুভাশুভফলৈরেবং মোক্ষ্যসে কর্মবন্ধনৈঃ।
সন্ন্যাসযোগযুক্তাত্মা বিমুক্তো মামুপৈষ্যসি।।২৮।।
অনুবাদঃ এভাবেই আমাতে সমস্ত কর্ম অর্পণ দ্বারা শুভ ও অশুভ ফলবিশিষ্ট কর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত হবে। এভাবেই সন্যাস যোগে যুক্ত হয়ে তুমি মুক্ত হবে এবং আমাকেই প্রাপ্ত হবে।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার নবম অধ্যায়ের অষ্টাশিতম শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্ম, কর্মফল, আসক্তি, সন্ন্যাস, মুক্তি এবং ঈশ্বরলাভের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছেন। শ্লোকটির মূল বক্তব্য হলো, মানুষ যখন নিজের সমস্ত কর্মকে ঈশ্বরের উদ্দেশে নিবেদন করে এবং কর্মের ফলের প্রতি ব্যক্তিগত আসক্তি ত্যাগ করে, তখন সে শুভ ও অশুভ উভয় ধরনের কর্মফলজনিত বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারে। শ্লোকটি হলো “শুভাশুভফলৈরেবং মোক্ষ্যসে কর্মবন্ধনৈঃ। সন্ন্যাসযোগযুক্তাত্মা বিমুক্তো মামুপৈষ্যসি।” সহজ অর্থে কৃষ্ণ বলছেন, এইভাবে তুমি শুভ ও অশুভ ফলযুক্ত কর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত হবে। সন্ন্যাসযোগে যুক্তচিত্ত হয়ে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে তুমি আমাকে লাভ করবে। এই বক্তব্যের মধ্যে গীতার কর্মযোগ ও ভক্তিযোগের একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম সমন্বয় প্রকাশ পেয়েছে।
“শুভাশুভফলৈঃ” শব্দটি শ্লোকটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ। এটি শুভ, অশুভ এবং ফল এই ধারণাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত। শুভ অর্থ মঙ্গলজনক, কল্যাণকর, সুন্দর ও পবিত্র। অশুভ অর্থ যা শুভ নয়, অর্থাৎ অমঙ্গলজনক বা অনিষ্টকর। ফল শব্দের সাধারণ অর্থ হলো গাছের ফল, কিন্তু দর্শনের ভাষায় ফল বলতে কোনো কাজের পরিণতি বা কর্মের দ্বারা উৎপন্ন ফলাফল বোঝায়। সুতরাং শুভাশুভফলৈঃ বলতে শুভ ও অশুভ উভয় ধরনের কর্মফলকে বোঝানো হয়েছে। এখানে কৃষ্ণ এমন একটি সত্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন যা সাধারণ নৈতিক চিন্তার চেয়ে অনেক গভীর। মানুষ সাধারণত মনে করে ভালো কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া উচিত এবং খারাপ কাজ করলে খারাপ ফল পাওয়া উচিত। গীতা এই নৈতিক সূত্রকে অস্বীকার করছে না। বরং কৃষ্ণ তার আরও গভীর একটি স্তর প্রকাশ করছেন। ভালো কাজের ফলের প্রতিও যদি মানুষের প্রবল আসক্তি তৈরি হয়, তাহলেও সেই আসক্তি তাকে বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারে।
“কর্মবন্ধন” শব্দটির মধ্যেই গীতার কর্মতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ রহস্য নিহিত রয়েছে। কর্ম শব্দটি সংস্কৃত কৃ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ করা, সম্পাদন করা বা কোনো কাজ সম্পন্ন করা। অন্যদিকে বন্ধন শব্দটি বন্ধ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত, যার অর্থ বাঁধা বা আবদ্ধ করা। কর্মবন্ধন তাই আক্ষরিক অর্থে কর্মের দ্বারা সৃষ্ট বন্ধন। কিন্তু এখানে কোনো দৃশ্যমান দড়ি বা শিকলের কথা বলা হচ্ছে না। কর্মবন্ধন হলো মানুষের নিজের কর্ম, কর্মফল, কর্তৃত্ববোধ, প্রত্যাশা এবং আসক্তির দ্বারা নির্মিত এক অদৃশ্য বন্ধন। মানুষ যখন কোনো কাজ করে এবং মনে করে যে সেই কাজের ফল অবশ্যই তার নিজের ইচ্ছামতো হতে হবে, তখন তার মন কর্মফলের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। ফল পেলে সে আনন্দিত হয় এবং ফল না পেলে হতাশ হয়। সাফল্য তার অহংকার বাড়ায় এবং ব্যর্থতা তার আত্মবিশ্বাসকে আঘাত করে। এভাবেই কর্মের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যাশা ধীরে ধীরে মানসিক বন্ধনে পরিণত হয়।
এখানে “মোক্ষ্যসে” শব্দটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এর সঙ্গে সংস্কৃত মুচ্ ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে, যার অর্থ মুক্ত করা বা ছেড়ে দেওয়া। মোক্ষ শব্দটির সঙ্গেও এই ধাতুর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মোক্ষ মানে বন্ধন থেকে মুক্তি। কৃষ্ণ বলছেন, তুমি কর্মবন্ধন থেকে মুক্ত হবে। অর্থাৎ মুক্তির জন্য কর্মকে ধ্বংস করতে হবে না। কর্মের সঙ্গে যে আসক্তি ও অহংকার যুক্ত হয়ে বন্ধন সৃষ্টি করে, সেই বন্ধন থেকে মুক্ত হতে হবে। এই পার্থক্যটি গীতার দর্শনের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। কর্ম না করাই মুক্তির পথ নয়। বরং কর্মের মধ্যে থেকেও কর্মফলের প্রতি আসক্তিহীন থাকা মুক্তির পথ হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে “সন্ন্যাসযোগযুক্তাত্মা” শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্ন্যাস শব্দটি সম ও ন্যাস এই ধারণার সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে অর্পণ করা বা ত্যাগ করার ভাব রয়েছে। কিন্তু গীতায় সন্ন্যাসকে শুধু সংসার ত্যাগ বা সমস্ত কাজ ছেড়ে দেওয়া হিসেবে দেখলে এই শ্লোকের প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যায় না। কৃষ্ণের সন্ন্যাস হলো কর্মের ফলের প্রতি অহংকারপূর্ণ মালিকানা ত্যাগ করা এবং নিজের কর্মকে পরমেশ্বরের কাছে নিবেদন করা। যোগ শব্দটি যুজ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ যুক্ত হওয়া বা সংযুক্ত হওয়া। তাই সন্ন্যাসযোগ বলতে এমন এক আধ্যাত্মিক অবস্থাকে বোঝানো যায় যেখানে মানুষ নিজের কর্মকে ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং কর্মের ফলকে নিজের অহংকারের সম্পত্তি হিসেবে ধরে রাখে না।
“যুক্তাত্মা” অর্থ এমন এক অন্তঃসত্তা বা চিত্ত যা সেই যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষ্ণ বাহ্যিক আচরণের চেয়ে অন্তরের অবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। একজন মানুষ বাহ্যিকভাবে অনেক কাজ ত্যাগ করেও অন্তরে ফলের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতে পারে। আবার অন্য একজন মানুষ সংসার, সমাজ ও কর্তব্যের মধ্যে থেকেও নিজের কর্মকে ঈশ্বরের উদ্দেশে নিবেদন করতে পারে। গীতার দৃষ্টিতে দ্বিতীয় অবস্থাটিই অধিক গভীর। কারণ প্রকৃত সন্ন্যাস বাহ্যিক পোশাক বা জীবনযাপনের পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সন্ন্যাস হলো অন্তরের আসক্তির পরিবর্তন।
শ্লোকটির শেষ অংশ “বিমুক্তো মামুপৈষ্যসি” আরও গভীর আধ্যাত্মিক সত্য প্রকাশ করে। বিমুক্ত অর্থ সম্পূর্ণ মুক্ত। আর মামুপৈষ্যসি অর্থ তুমি আমাকে লাভ করবে বা আমার কাছে পৌঁছাবে। এখানে কৃষ্ণ কোনো সাধারণ ব্যক্তিগত সাক্ষাতের কথা বলছেন না। ভক্তিমূলক ও বেদান্তীয় অর্থে এটি ঈশ্বরলাভের প্রতীক। অর্থাৎ কর্মবন্ধন থেকে মুক্তি কোনো শূন্য অবস্থায় পৌঁছানো নয়। মুক্তির পরে মানুষের চেতনা পরম সত্তার দিকে অগ্রসর হয়। তাই এই শ্লোকে মুক্তি এবং ঈশ্বরলাভ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
দার্শনিকভাবে দেখলে এই শ্লোক কর্ম ও মুক্তির মধ্যকার আপাত বিরোধকে দূর করে। সাধারণভাবে মনে হতে পারে কর্ম মানুষকে সংসারে আবদ্ধ করে এবং তাই মুক্তির জন্য কর্ম ত্যাগ করতে হবে। কৃষ্ণ দেখাচ্ছেন যে কর্ম নিজে সবসময় বন্ধনের কারণ নয়। কর্মের সঙ্গে যুক্ত আসক্তি, অহংকার এবং ফলের প্রতি অধিকারবোধই মূল সমস্যা। একই কাজ একজন মানুষ নিজের স্বার্থ, অহংকার ও আকাঙ্ক্ষার জন্য করতে পারে, আবার অন্য একজন সেই একই কাজ কর্তব্য ও ঈশ্বরার্পণের মনোভাব নিয়ে করতে পারে। বাহ্যিক কর্ম একই হলেও অন্তরের অবস্থার কারণে তার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।
অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই শ্লোকের গভীরতা উপলব্ধি করা যায়। মানুষ যখন নিজেকে দেহ, মন, কর্ম ও অহংকারের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে এক করে দেখে, তখন তার মধ্যে আমি কর্তা এবং আমি ভোক্তা এই ধারণা তৈরি হয়। সে মনে করে আমি কাজ করছি, আমি ফল পাচ্ছি এবং ফলের মালিকও আমি। এই কর্তৃত্ববোধ ও ভোক্তৃত্ববোধ কর্মবন্ধনের অন্যতম ভিত্তি। আত্মার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি হলে এই সংকীর্ণ পরিচয় ধীরে ধীরে অতিক্রান্ত হয়। তখন কর্ম জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে থাকে, কিন্তু কর্ম মানুষের চূড়ান্ত পরিচয় হয়ে থাকে না।
ভক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে এই শ্লোকের সৌন্দর্য আরও স্পষ্ট। ভক্তের কাছে কর্ম হলো ঈশ্বরসেবা। সে মনে করে, আমি যা করছি তা আমার ব্যক্তিগত অহংকার প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, বরং ঈশ্বরের উদ্দেশে নিবেদন করার জন্য। তখন কর্মের ফলও ঈশ্বরের হাতে সমর্পিত হয়। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ নিজের চেষ্টা বন্ধ করে দেবে। বরং সে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, কিন্তু ফলকে নিজের মানসিক শান্তির একমাত্র ভিত্তি বানাবে না। এই মনোভাব কর্মকে ধীরে ধীরে পূজার রূপ দেয়।
আধুনিক জীবনের ক্ষেত্রেও এই শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। একজন ছাত্র যদি মনে করে পরীক্ষায় প্রথম না হলে তার জীবনের কোনো মূল্য নেই, তাহলে তার পড়াশোনা শুধু জ্ঞান অর্জনের পথ থাকে না, বরং আত্মমূল্য প্রমাণের সংগ্রামে পরিণত হয়। একজন কর্মজীবী মানুষ যদি মনে করে পদোন্নতি না হলে সে ব্যর্থ, তাহলে তার কাজের সঙ্গে তার আত্মপরিচয় এমনভাবে জড়িয়ে যায় যে সামান্য ব্যর্থতাও তাকে গভীরভাবে বিচলিত করতে পারে। আবার কেউ যদি নিজের কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে এবং ফলের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেও বুঝতে পারে যে ফলাফল সবসময় তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই, তাহলে তার মধ্যে এক ধরনের অন্তর্গত স্বাধীনতা জন্মায়। গীতার কর্মযোগ সেই স্বাধীনতার কথাই বলে।
এই শিক্ষাকে একজন কৃষকের জীবন দিয়েও বোঝানো যায়। কৃষক জমি প্রস্তুত করতে পারে, ভালো বীজ বেছে নিতে পারে, যথাসময়ে চাষ করতে পারে এবং যত্ন নিতে পারে। কিন্তু বৃষ্টি, আবহাওয়া, মাটির বহু পরিবর্তনশীল উপাদান তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই তার কর্তব্য হলো নিজের সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ যত্ন নেওয়া। ফলাফলকে সে পুরোপুরি নিজের হাতে ধরে রাখতে পারে না। মানবজীবনের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। আমাদের হাতে রয়েছে চেষ্টা, সততা, সিদ্ধান্ত এবং কর্ম। কিন্তু ফলাফল বহু অদৃশ্য কারণের সঙ্গে যুক্ত। এই সত্য উপলব্ধি করলে মানুষ কর্মে আরও মনোযোগী হতে পারে এবং ফলের উদ্বেগ থেকে ধীরে ধীরে মুক্ত হতে পারে।
“শুভাশুভ” শব্দদ্বয়ও একটি গভীর প্রতীক বহন করে। এগুলো শুধু ভালো ও মন্দের পার্থক্য নয়। এগুলোর মধ্যে জীবনের নানা দ্বৈততা প্রতিফলিত হয়। লাভ ও ক্ষতি, সুখ ও দুঃখ, সাফল্য ও ব্যর্থতা, প্রশংসা ও নিন্দা, গ্রহণ ও প্রত্যাখ্যান সবই মানবজীবনের দ্বৈত অভিজ্ঞতার অংশ। মানুষ যখন প্রত্যেকটি অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের অস্তিত্বকে জড়িয়ে ফেলে, তখন তার মন এক অবিরাম ওঠানামার মধ্যে থাকে। কিন্তু যে ব্যক্তি কর্মের প্রতি নিষ্ঠাবান এবং ফলের প্রতি আসক্তিহীন, সে ধীরে ধীরে এই দ্বৈততার ঊর্ধ্বে উঠতে শেখে।
এই কারণে কর্মবন্ধনকে একটি অদৃশ্য শিকলের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই শিকল লোহা দিয়ে তৈরি নয়। এটি তৈরি হয় প্রত্যাশা, অহংকার, ভয়, লোভ, অধিকারবোধ এবং ফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি দিয়ে। মানুষ বাইরে থেকে স্বাধীন হলেও ভিতরে ভিতরে এই অদৃশ্য বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে পারে। কৃষ্ণের সন্ন্যাসযোগ সেই অদৃশ্য বন্ধনকে শিথিল করার পথ দেখায়। কাজ ছেড়ে নয়, বরং কাজের প্রতি নিজের অন্তরের সম্পর্ক পরিবর্তন করে মানুষ মুক্তির পথে এগিয়ে যেতে পারে।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৯.২৮ তাই শুধু একটি ধর্মীয় শ্লোক নয়। এটি মানুষের কর্মজীবন, মানসিক স্বাধীনতা এবং আধ্যাত্মিক বিকাশের একটি গভীর দর্শন। “কর্ম” আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। “ফল” কর্মের স্বাভাবিক পরিণতি। “বন্ধন” সৃষ্টি হয় যখন আমরা ফলকে নিজের অহংকারের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলি। “সন্ন্যাস” সেই আসক্তিকে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করার শিক্ষা দেয়। “যোগ” আমাদের কর্মকে পরম সত্যের সঙ্গে যুক্ত করে। আর “মুক্তি” হলো সেই অবস্থায় পৌঁছানো যেখানে কর্ম আমাদের আর দাস করে না এবং ফল আমাদের অন্তরের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে না।
সবশেষে বলা যায়, “শুভাশুভফলৈরেবং মোক্ষ্যসে কর্মবন্ধনৈঃ” আমাদের শেখায় যে জীবনের প্রকৃত স্বাধীনতা কর্মহীনতায় নয়, বরং কর্মের মধ্যে থেকেও অন্তরের স্বাধীনতা অর্জনে। ভালো কাজ করতে হবে, কর্তব্য পালন করতে হবে, সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, কিন্তু ফলের উপর অহংকারপূর্ণ মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। নিজের কর্মকে ঈশ্বরের উদ্দেশে নিবেদন করে এবং ফলকে তাঁর হাতে সমর্পণ করে মানুষ ধীরে ধীরে কর্মবন্ধনের ঊর্ধ্বে উঠতে পারে। তখন কর্ম আর তাকে বেঁধে রাখে না। বরং সেই কর্মই হয়ে ওঠে আত্মশুদ্ধির পথ। এই মুক্ত চিত্ত যখন পরম সত্যের দিকে অগ্রসর হয়, তখন কর্মজীবন ও আধ্যাত্মিক জীবন একে অপরের বিরোধী থাকে না। বরং কর্মই হয়ে ওঠে ঈশ্বরলাভের সোপান। এটাই এই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা এবং গীতার কর্মযোগের এক অনন্য সৌন্দর্য।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!