সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৯.২৯ — ঈশ্বরের সমদৃষ্টি, পক্ষপাতহীনতা ও ভক্তির অন্তরঙ্গ সম্পর্ক

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
সমোহহং সর্বভূতেষু ন মে দ্বেষ্যোহস্তি ন প্রিয়ঃ।যে ভজন্তি তু মাং ভক্ত্যা ময়ি…
সমোহহং সর্বভূতেষু ন মে দ্বেষ্যোহস্তি ন প্রিয়ঃ।
যে ভজন্তি তু মাং ভক্ত্যা ময়ি তে তেষু চাপ্যহম্।।২৯।।

অনুবাদঃ আমি সকলের প্রতি সমভাবাপন্ন। কেউই আমার বিদ্বেষ ভাবাপন্ন নয় এবং প্রিয়ও নয়। কিন্তু যাঁরা ভক্তি- পূর্বক আমাকে ভজনা করেন, তাঁরা আমাতে অবস্থান করেন এবং আমিও তাঁদের মধ্যে বাস করি।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার নবম অধ্যায়ের ঊনত্রিশতম শ্লোকটি ঈশ্বরের সমদৃষ্টি, পক্ষপাতহীনতা এবং ভক্তির সঙ্গে ঈশ্বরের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের এক অপূর্ব সমন্বয় তুলে ধরে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন, “সমোহং সর্বভূতেষু ন মে দ্বেষ্যোহস্তি ন প্রিয়ঃ। যে ভজন্তি তু মাং ভক্ত্যা ময়ি তে তেষু চাপ্যহম্।” অর্থাৎ আমি সকল জীবের প্রতি সমদর্শী। আমার কাছে কেউ ঘৃণিত নয় এবং কেউ বিশেষ প্রিয়ও নয়। কিন্তু যারা ভক্তির সঙ্গে আমাকে ভজনা করে তারা আমার মধ্যে অবস্থান করে এবং আমিও তাদের মধ্যে অবস্থান করি। এই শ্লোকের প্রতিটি শব্দের মধ্যে এমন একটি গভীর দর্শন নিহিত রয়েছে যা ঈশ্বর, মানুষ, ভক্তি, ন্যায়, সমতা এবং মানবিক সম্পর্ককে নতুনভাবে বোঝার সুযোগ দেয়।

শ্লোকটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো সমোহং। এটি মূলত সমঃ এবং অহম্ এই দুটি শব্দের সন্ধির ফলে গঠিত। সমঃ অর্থ সমান, সমদর্শী, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পক্ষপাতহীন। অহম্ অর্থ আমি। ফলে সমোহং এর আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় আমি সমদর্শী বা আমি সকলের প্রতি সমান। কিন্তু এখানে সম শব্দটি কেবল বাহ্যিক সমতার অর্থ বহন করে না। গীতার ভাষায় সমতা একটি গভীর আধ্যাত্মিক অবস্থান। যে দৃষ্টিতে মানুষ কেবল বাহ্যিক পরিচয় দেখে না, বরং সমস্ত জীবের মধ্যে এক গভীর অস্তিত্বগত সত্য উপলব্ধি করে, সেটিই সমদৃষ্টি।

এরপর এসেছে সর্বভূতেষু শব্দটি। সর্ব অর্থ সমস্ত এবং ভূত শব্দটি সংস্কৃত ভূ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হওয়া বা অস্তিত্ব লাভ করা। সেই অর্থে ভূত হলো যে অস্তিত্ব লাভ করেছে বা যে সত্তা পৃথিবীতে বিদ্যমান। সর্বভূতেষু অর্থ সমস্ত জীবের মধ্যে বা সকল অস্তিত্বশীল সত্তার প্রতি। কৃষ্ণ এখানে শুধু মানুষের কথা বলেননি। তিনি সকল জীবের কথা বলেছেন। অর্থাৎ ঈশ্বরের সমদৃষ্টি কোনো নির্দিষ্ট জাতি, সম্প্রদায়, শ্রেণি বা পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অস্তিত্বের যে কোনো স্তরে যে জীব রয়েছে, তার প্রতিই ঈশ্বরের দৃষ্টি সমান।

এই বক্তব্যের পর কৃষ্ণ বলেন ন মে দ্বেষ্যোহস্তি ন প্রিয়ঃ। এখানে ন অর্থ নয়, মে অর্থ আমার এবং দ্বেষ্য অর্থ যার প্রতি দ্বেষ বা ঘৃণা করা হয়। প্রিয় অর্থ প্রিয় বা ভালোবাসার পাত্র। ফলে কৃষ্ণের বক্তব্য দাঁড়ায় আমার কাছে কেউ ঘৃণিত নয় এবং কেউ বিশেষ পক্ষপাতমূলক প্রিয়ও নয়। এই বক্তব্যের মধ্যে ঈশ্বরের ন্যায়বোধের একটি মৌলিক ধারণা প্রকাশিত হয়েছে। মানুষ প্রায়ই নিজের পছন্দ ও অপছন্দের ভিত্তিতে পৃথিবীকে ভাগ করে। যে আমার পক্ষে সে ভালো এবং যে আমার বিরুদ্ধে সে খারাপ। কিন্তু গীতার সমদৃষ্টি এই মানসিক বিভাজনকে অতিক্রম করতে শেখায়। ব্যক্তিগত পছন্দ কোনো মানুষের অস্তিত্বের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না এবং ব্যক্তিগত অপছন্দ কোনো মানুষকে অস্তিত্বগতভাবে ঘৃণিত করে তোলে না।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক প্রশ্ন আসে। যদি কৃষ্ণ বলেন তাঁর কোনো প্রিয় নেই, তাহলে ভক্তরা কেন তাঁর বিশেষ আশ্রয় লাভ করে। এই প্রশ্নের উত্তর শ্লোকের দ্বিতীয় অংশে নিহিত রয়েছে। কৃষ্ণ বলেন যে যারা ভক্তির সঙ্গে তাঁকে ভজনা করে তারা তাঁর মধ্যে থাকে এবং তিনিও তাদের মধ্যে থাকেন। অর্থাৎ ঈশ্বরের পক্ষপাত নেই, কিন্তু ভক্তের পক্ষ থেকে সম্পর্কের গভীরতা সৃষ্টি হয়। ঈশ্বর সকলের জন্য সমানভাবে উপস্থিত, কিন্তু সকল মানুষ সেই উপস্থিতিকে একইভাবে গ্রহণ করতে পারে না। এই পার্থক্য ঈশ্বরের পক্ষপাতের কারণে নয়, মানুষের অন্তরের প্রস্তুতির কারণে।

এটি বোঝার জন্য সূর্যের একটি সহজ উপমা দেওয়া যায়। সূর্য সবার উপর আলো দেয়। সে কাউকে বেশি আলো দিতে এবং কাউকে কম আলো দিতে ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় না। কিন্তু কোনো ঘরের জানালা বন্ধ থাকলে সেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না। জানালা খুলে দিলে আলো সেই ঘরে প্রবেশ করে। সূর্যের পক্ষপাত পরিবর্তিত হয়নি। পরিবর্তিত হয়েছে গ্রহণ করার অবস্থাটি। গীতার ভক্তিতত্ত্বকেও এই উপমার মাধ্যমে বোঝা যায়। ঈশ্বর সকলের মধ্যে এবং সকলের জন্য উপস্থিত। কিন্তু ভক্তি মানুষের অন্তরকে সেই উপস্থিতি উপলব্ধির জন্য উন্মুক্ত করে।

ভজন্তি শব্দটির উৎস সংস্কৃত ভজ ধাতু। এর মধ্যে ভাগ করা, অংশ গ্রহণ করা, সেবা করা, উপাসনা করা এবং আশ্রয় গ্রহণ করার মতো অর্থ রয়েছে। ফলে ভক্তি কেবল মুখে ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করার বিষয় নয়। ভক্তি হলো নিজের অস্তিত্বকে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত করা। ভক্তি মানে ঈশ্বরকে জীবনের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা। আর ভক্ত্যা শব্দটি বোঝায় ভক্তির দ্বারা বা ভক্তিসহকারে। তাই কৃষ্ণের বক্তব্যে ভক্তি কোনো বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি একটি অন্তরের সম্পর্ক।

শ্লোকের সবচেয়ে গভীর অংশ হলো ময়ি তে তেষু চাপ্যহম্। ময়ি অর্থ আমার মধ্যে এবং তে অর্থ তারা। অর্থাৎ ভক্তরা ঈশ্বরের মধ্যে অবস্থান করে। এরপর তেষু অর্থ তাদের মধ্যে এবং অহম্ অর্থ আমি। অর্থাৎ আমিও তাদের মধ্যে অবস্থান করি। এখানে সম্পর্কটি একমুখী নয়। ভক্ত ঈশ্বরের দিকে এগিয়ে যায় এবং ঈশ্বরও ভক্তের জীবনে নিজেকে প্রকাশ করেন। ভক্ত ঈশ্বরকে নিজের জীবনের আশ্রয় করে এবং ঈশ্বর ভক্তের হৃদয়ে আশ্রয়ের অনুভূতি হয়ে ওঠেন।

এই বক্তব্য ভক্তি দর্শনের একটি গভীর সত্য প্রকাশ করে। ঈশ্বরকে কেবল দূরের কোনো মহাশক্তি হিসেবে দেখলে এই সম্পর্কের পূর্ণতা বোঝা যায় না। গীতায় ঈশ্বর একই সঙ্গে সর্বব্যাপী এবং অন্তরঙ্গ। তিনি সকলের মধ্যে আছেন, কিন্তু ভক্ত তাঁর সঙ্গে এমন একটি সম্পর্ক স্থাপন করে যেখানে ঈশ্বরের উপস্থিতি ব্যক্তিগতভাবে অনুভূত হয়। ভক্তির ফলে ঈশ্বর বদলে যান না। বদলে যায় ভক্তের চেতনা। যে চোখ আগে পৃথিবীকে কেবল লাভ, ক্ষতি, পছন্দ এবং অপছন্দের ভিত্তিতে দেখত, ভক্তির মাধ্যমে সেই চোখ ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করতে শুরু করে।

অদ্বৈত দর্শনের আলোকে এই শ্লোকের মধ্যে সমস্ত জীবের অন্তর্নিহিত ঐক্যের ধারণা দেখা যায়। বাহ্যিকভাবে মানুষ ও জীবজগতের মধ্যে অসংখ্য পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু পরম সত্যের স্তরে অস্তিত্বের একটি ঐক্য রয়েছে। তাই সর্বভূতেষু সমদৃষ্টি মানে কেবল সামাজিকভাবে সবাইকে সমানভাবে দেখা নয়। এর মধ্যে রয়েছে সমস্ত জীবের অস্তিত্বের গভীরে এক পরম সত্যকে উপলব্ধি করার চেষ্টা।

ভক্তি দর্শনের দৃষ্টিতে আবার এই শ্লোকের গুরুত্ব অন্যভাবে প্রকাশিত হয়। এখানে ঈশ্বর ও ভক্তের মধ্যে সম্পর্ক হলো প্রেম, সেবা, আত্মনিবেদন এবং আশ্রয়ের সম্পর্ক। ভক্ত ঈশ্বরের মধ্যে নিজেকে সমর্পণ করে এবং ঈশ্বর ভক্তের হৃদয়ে তাঁর উপস্থিতি প্রকাশ করেন। বিশিষ্টাদ্বৈত ভাবনায় এই সম্পর্ককে ঈশ্বর এবং জীবের অন্তর্নিহিত সম্পর্কের মাধ্যমে বোঝা যায়। জীব ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল এবং ঈশ্বর জীবের অন্তরে অন্তর্যামী হিসেবে অবস্থান করেন। দ্বৈত ভাবনায় ঈশ্বর ও জীবের পার্থক্য বজায় থাকলেও ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে বিভিন্ন দর্শন ভিন্ন ভাষায় ব্যাখ্যা করলেও শ্লোকটির কেন্দ্রে রয়েছে ঈশ্বরের সর্বব্যাপিতা এবং ভক্তির অন্তরঙ্গতা।

এই শ্লোকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক অর্থও রয়েছে। মানুষের মন সাধারণত পৃথিবীকে প্রিয় ও অপ্রিয়, আপন ও পর, বন্ধু ও শত্রু এইভাবে ভাগ করে। এই বিভাজন থেকেই জন্ম নিতে পারে ঈর্ষা, বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা এবং পক্ষপাত। সমদৃষ্টি সেই মানসিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠতে শেখায়। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ ভালো ও মন্দের পার্থক্য করবে না। বরং এর অর্থ হলো ব্যক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দ যেন সত্যকে দেখার ক্ষমতাকে অন্ধ না করে। একজন মানুষ কোনো ভুল কাজ করলে তার কাজের বিচার করা যেতে পারে, কিন্তু তার অস্তিত্বকে ঘৃণার বস্তুতে পরিণত করা সমদৃষ্টির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রেও এই শ্লোকের শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একজন শাসক যদি ব্যক্তিগত পছন্দ ও অপছন্দের ভিত্তিতে মানুষের অধিকার নির্ধারণ করেন, তাহলে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। প্রকৃত ন্যায়ের জন্য প্রয়োজন পক্ষপাতহীনতা। গীতার সমদৃষ্টি আধুনিক আইনের ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণ অভিন্ন না হলেও এর মধ্যে এমন একটি নৈতিক ভিত্তি রয়েছে যা মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে ব্যক্তিগত পছন্দ এবং ন্যায়বিচার এক জিনিস নয়। যে ব্যক্তি আমার প্রিয় নয় তার অধিকারও আমার প্রিয় ব্যক্তির মতোই মূল্যবান। যে আমার মতের বিরোধিতা করে তার মানবিক মর্যাদা তবুও অক্ষুণ্ণ থাকে।

মানবজীবনের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও এই শিক্ষা গভীরভাবে প্রযোজ্য। আমরা প্রায়ই যাকে ভালোবাসি তার ভুলকে সহজে ক্ষমা করি এবং যাকে অপছন্দ করি তার সামান্য ভুলকেও বড় করে দেখি। এই প্রবণতা মানুষের বিচারবুদ্ধিকে বিকৃত করে। সমদৃষ্টি শেখায় যে ভালোবাসা যেন অন্ধ পক্ষপাত না হয় এবং অপছন্দ যেন অন্ধ বিদ্বেষে পরিণত না হয়। সত্যিকারের পরিণত চেতনা হলো এমন এক দৃষ্টি যেখানে ভালোবাসার মধ্যেও বিচার আছে এবং বিচার করার মধ্যেও মানবিকতা আছে।

শ্লোকটির সাহিত্যিক সৌন্দর্যও অসাধারণ। প্রথমে কৃষ্ণ বলেন তাঁর কোনো দ্বেষ্য নেই এবং কোনো প্রিয় নেই। তারপর তিনি ভক্তের কথা বলেন। এরপর তিনি বলেন ভক্ত তাঁর মধ্যে এবং তিনিও ভক্তের মধ্যে। অর্থাৎ বক্তব্যটি ধীরে ধীরে বাহ্যিক পক্ষপাতহীনতা থেকে অন্তরঙ্গ আধ্যাত্মিক সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যায়। প্রথমে আসে সমতা, তারপর আসে ভক্তি এবং শেষে আসে ঐক্যের অনুভূতি। এই বিন্যাস শ্লোকটিকে শুধু একটি ধর্মীয় বক্তব্য না রেখে একটি সম্পূর্ণ মানবিক ও দার্শনিক উপলব্ধিতে পরিণত করেছে।

এই শ্লোকের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই যে ঈশ্বর কারও প্রতি জন্মগত পক্ষপাত করেন না। কেউ জন্মের কারণে ঈশ্বরের কাছে চিরকাল পর নয় এবং কেউ বাহ্যিক পরিচয়ের কারণে চিরকাল বিশেষ প্রিয়ও নয়। মানুষ নিজের চেতনা, কর্ম এবং ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ককে গভীর করে তুলতে পারে। ভক্তি তাই কোনো বিশেষ সুবিধা পাওয়ার উপায় নয়। ভক্তি হলো নিজের অন্তরকে এমনভাবে পরিবর্তন করা যাতে সর্বব্যাপী ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করা সম্ভব হয়।

“সমোহং সর্বভূতেষু” তাই শেষ পর্যন্ত মানুষের নিজের দৃষ্টিকেই প্রশ্ন করে। আমরা কি মানুষকে সত্যিই মানুষ হিসেবে দেখি, নাকি আমাদের পছন্দ ও অপছন্দের চশমা দিয়ে দেখি। আমরা কি অন্যের অস্তিত্বের মর্যাদা স্বীকার করতে পারি, এমনকি যখন তার সঙ্গে আমাদের মতের মিল নেই। আমরা কি ভক্তিকে কেবল আচার হিসেবে দেখি, নাকি অন্তরের পরিবর্তন হিসেবে গ্রহণ করি। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে শ্লোকটি ধর্মীয় শিক্ষার সীমানা ছাড়িয়ে জীবনের গভীর দর্শনে পরিণত হয়।

সবশেষে বলা যায়, “সমোহং সর্বভূতেষু” হলো ঈশ্বরের সমদৃষ্টির ঘোষণা, “ন মে দ্বেষ্যোহস্তি ন প্রিয়ঃ” হলো তাঁর পক্ষপাতহীনতার প্রকাশ এবং “ময়ি তে তেষু চাপ্যহম্” হলো ভক্ত ও ঈশ্বরের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের চূড়ান্ত প্রকাশ। ঈশ্বর সকলের, কিন্তু যে হৃদয় ভক্তির মাধ্যমে নিজেকে ঈশ্বরের জন্য উন্মুক্ত করে, সেই হৃদয়ে ঈশ্বরের উপস্থিতি বিশেষভাবে অনুভূত হয়। এখানে ঈশ্বরের কোনো পক্ষপাত নেই। আছে মানুষের গ্রহণক্ষমতার পরিবর্তন। এই কারণেই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার এই শ্লোক আমাদের শেখায় যে সত্যিকারের আধ্যাত্মিকতা হলো সকলের মধ্যে ঈশ্বরকে দেখা, নিজের মধ্যে অহংকার ও বিদ্বেষকে অতিক্রম করা এবং ভক্তির মাধ্যমে এমন এক অন্তর গড়ে তোলা যেখানে মানুষ অনুভব করতে পারে যে সে ঈশ্বরের মধ্যে আছে এবং ঈশ্বরও তার মধ্যে বিরাজমান।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 18, 2026 August 18, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি