ভগবদ্গীতা ১৮.৭৪ — কৃষ্ণ-অর্জুনের অদ্ভুত সংলাপ, জ্ঞানশ্রবণ ও আত্মজাগরণের রোমহর্ষণকর অনুভব
সঞ্জয় উবাচ
ইত্যহং বাসুদেবস্য পার্থস্য চ মহাত্মনঃ।
সংবাদমিমমশ্রৌমদ্ভুতং রোমহর্ষণম্।।৭৪।।
অনুবাদঃ সঞ্জয় বললেন-এভাবেই আমি কৃষ্ণ ও অর্জুন দুই মহাত্মার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর সংবাদ শ্রবণ করেছিলাম।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অষ্টাদশ অধ্যায়ের চতুর্থাত্তরতম শ্লোকে সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রের কাছে যে অনুভূতির কথা প্রকাশ করেছেন, তা গীতার সমগ্র শিক্ষার এক গভীর আবেগময় পরিণতি। শ্লোকটি হলো “ইত্যহং বাসুদেবস্য পার্থস্য চ মহাত্মনঃ সংবাদমিমমশ্রৌমদ্ভুতং রোমহর্ষণম্”। এর সরল অর্থ হলো, বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ এবং মহাত্মা পার্থ অর্জুনের এই অদ্ভুত ও রোমহর্ষণকর সংবাদ বা সংলাপ আমি শ্রবণ করেছি। কিন্তু এই বক্তব্যের মধ্যে কেবল একটি ঐতিহাসিক কথোপকথনের স্মৃতি নেই। এর মধ্যে রয়েছে জ্ঞান, বিস্ময়, শ্রবণ, আত্মজাগরণ এবং ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে গভীর সম্পর্কের এক অসাধারণ দার্শনিক প্রকাশ।
এই শ্লোকের শুরুতেই রয়েছে “ইতি” এবং “অহম্”। “ইতি” সংস্কৃতের একটি প্রাচীন অব্যয়, যার অর্থ এইভাবে, এই কথা বা এইরূপ। এটি কোনো বক্তব্যের পরিসমাপ্তি বা পূর্বোক্ত বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে। “অহম্” অর্থ আমি। সঞ্জয়ের ক্ষেত্রে এই আমি অহংকারের আমি নয়, বরং একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রোতার আমি। তিনি নিজেকে ঘটনার কর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন না। তিনি নিজেকে একজন সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এই সাক্ষীসত্তা ভারতীয় দর্শনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যখন নিজের অভিজ্ঞতার মধ্যে কেবল ভোগী হিসেবে না থেকে সচেতন সাক্ষী হিসেবে নিজেকে দেখতে শেখে, তখন তার চেতনার একটি গভীর পরিবর্তন ঘটে। সঞ্জয়ের আমি সেই সাক্ষীসত্তারই এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রতীক।
“বাসুদেবস্য” শব্দটি এসেছে বাসুদেব শব্দ থেকে। এর অর্থ বাসুদেবের পুত্র এবং শ্রীকৃষ্ণের একটি সুপরিচিত নাম। অন্যদিকে “পার্থস্য” শব্দটি পার্থ থেকে এসেছে। পার্থ শব্দের অর্থ পৃথার পুত্র এবং পৃথা হলেন কুন্তীর অপর নাম। তাই পার্থ বলতে অর্জুনকে বোঝানো হয়েছে। এই দুই নামের মধ্যেও একটি গভীর সৌন্দর্য রয়েছে। কৃষ্ণকে এখানে তাঁর পিতৃপরিচয়ের মাধ্যমে বাসুদেব বলা হয়েছে এবং অর্জুনকে তাঁর মাতৃপরিচয়ের মাধ্যমে পার্থ বলা হয়েছে। এর ফলে শ্লোকে কৃষ্ণ ও অর্জুনের ব্যক্তিগত পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁদের মানবিক সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
“মহাত্মনঃ” শব্দটি মহা এবং আত্মা এই দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত। মহা অর্থ মহান এবং আত্মা অর্থ অন্তঃসত্তা, আত্মস্বরূপ বা নিজস্ব চেতনা। মহাত্মা অর্থ এমন ব্যক্তি যার অন্তর মহান, যার চেতনা সংকীর্ণ স্বার্থের সীমা অতিক্রম করেছে এবং যার সত্তা বৃহত্তর সত্যের দিকে প্রসারিত হয়েছে। এই শব্দটি কৃষ্ণ ও অর্জুনের সংলাপকে সাধারণ মানুষের কথোপকথনের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখে না। এটি ইঙ্গিত করে যে তাঁদের এই সংলাপের মধ্যে মানবজীবনের সাধারণ প্রশ্নের চেয়েও বৃহত্তর কোনো সত্য অনুসন্ধান নিহিত রয়েছে।
এই শ্লোকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর একটি হলো “সংবাদ”। সংস্কৃত সংবাদ শব্দের মূল অর্থ আধুনিক বাংলায় প্রচলিত খবর বা সংবাদপত্রের সংবাদ নয়। এর মূল অর্থ হলো পরস্পরের মধ্যে কথা বলা, মতবিনিময় বা সংলাপ। সম্ উপসর্গের অর্থ একত্রে বা সম্মিলিতভাবে এবং বদ্ ধাতুর অর্থ বলা বা কথা বলা। সেই অর্থে সংবাদ হলো এমন কথোপকথন যেখানে দুই পক্ষের মধ্যে ভাবের আদানপ্রদান ঘটে। কৃষ্ণ ও অর্জুনের গীতার কথোপকথন এই অর্থে একটি সত্যিকারের সংবাদ। অর্জুন প্রশ্ন করেছেন, তাঁর সংশয় প্রকাশ করেছেন, তাঁর মানসিক সংকটের কথা বলেছেন এবং কৃষ্ণ সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে কর্ম, জ্ঞান, ভক্তি, আত্মা, প্রকৃতি, পুরুষ, ঈশ্বর এবং মুক্তির গভীর তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। তাই গীতা কেবল একতরফা উপদেশ নয়। এটি প্রশ্ন এবং উত্তরের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এক জীবন্ত দার্শনিক সংলাপ।
“ইমম্” অর্থ এই। সঞ্জয় যে কোনো সংবাদ বা সাধারণ কথোপকথনের কথা বলছেন না। তিনি নির্দিষ্টভাবে সেই কৃষ্ণ ও অর্জুনের সংবাদকে নির্দেশ করছেন, যার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের সংকট এক মহাজাগতিক জ্ঞানসংলাপে পরিণত হয়েছিল। অর্জুনের ব্যক্তিগত দুঃখ এবং সংশয় ধীরে ধীরে সমগ্র মানবজাতির প্রশ্নে পরিণত হয়েছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে অর্জুন যে প্রশ্ন করেছিলেন, সেই প্রশ্ন আজও মানুষের অন্তরে প্রতিধ্বনিত হয়। কর্তব্য কী, সত্য কী, ন্যায় কী, জীবনের উদ্দেশ্য কী, মৃত্যু কী, আত্মা কী এবং মানুষ কীভাবে নিজের কর্মের মধ্যে থেকেও মুক্ত হতে পারে, এই সব প্রশ্নই সেই সংলাপের অন্তর্গত।
“অশ্রৌষম্” শব্দটি শ্রবণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মূল ধাতু হলো শ্রু, যার অর্থ শোনা। এই ধাতু থেকেই শ্রবণ, শ্রুতি, শ্রোতা প্রভৃতি শব্দের উৎপত্তি। সঞ্জয় বলেছেন তিনি শুনেছেন। এই শুনে নেওয়া এখানে কেবল কানের মাধ্যমে শব্দ গ্রহণ করা নয়। ভারতীয় আধ্যাত্মিক পরম্পরায় শ্রবণ জ্ঞানলাভের একটি মৌলিক পদ্ধতি। সত্যকে প্রথমে শুনতে হয়, তারপর তা নিয়ে চিন্তা করতে হয় এবং শেষে গভীরভাবে আত্মস্থ করতে হয়। এই কারণে সঞ্জয়ের শ্রবণ একটি আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে। তিনি শুধু কথাগুলো শোনেননি, তিনি সেই কথার গভীরতা উপলব্ধি করেছিলেন।
এরপর আসে “অদ্ভুতম্” শব্দটি। অদ্ভুত অর্থ আশ্চর্য, বিস্ময়কর, অভূতপূর্ব বা সাধারণ অভিজ্ঞতার সীমা অতিক্রমকারী। ভারতীয় নন্দনতত্ত্বে অদ্ভুত একটি বিশেষ রস হিসেবেও পরিচিত। অদ্ভুত রসের মূল অনুভূতি হলো বিস্ময়। সঞ্জয় কৃষ্ণ ও অর্জুনের কথোপকথনকে অদ্ভুত বলেছেন কারণ এই সংলাপ সাধারণ মানুষের সাধারণ কথাবার্তা নয়। এর মধ্যে এমন এক জ্ঞান রয়েছে যা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তন করতে পারে। যে মানুষ সংশয়, ভয় ও মোহের মধ্যে দাঁড়িয়ে এই জ্ঞান গ্রহণ করে, তার কাছে সত্য নতুন এক আলোয় প্রকাশিত হয়। সেই প্রকাশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময় যুক্ত হয়।
“রোমহর্ষণম্” শব্দটি আরও চিত্রময়। এটি রোম এবং হর্ষণ এই দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। রোম অর্থ শরীরের লোম এবং হর্ষণ অর্থ আনন্দিত বা উত্তেজিত করা। যে অনুভূতিতে শরীরের লোম খাড়া হয়ে ওঠে, তাকে রোমহর্ষণ বলা হয়। বাংলায় আমরা একে রোমাঞ্চ, শিহরণ বা গায়ে কাঁটা দেওয়ার অনুভূতি বলতে পারি। তবে এখানে এই অনুভূতি কেবল ভয়ের কারণে সৃষ্ট নয়। গভীর বিস্ময়, ভক্তি, আনন্দ, মহত্ত্বের অনুভূতি এবং আধ্যাত্মিক অভিভূতিও মানুষের শরীরে শিহরণ সৃষ্টি করতে পারে। সঞ্জয়ের রোমহর্ষণ সেই গভীর অভিজ্ঞতারই প্রকাশ।
ভগবদ্গীতা ১৮.৭৬ — কৃষ্ণ-অর্জুনের পবিত্র সংলাপের স্মরণ, বিস্ময় ও অন্তরের আনন্দ
এইভাবে “সংবাদ”, “অদ্ভুত” এবং “রোমহর্ষণ” এই তিনটি শব্দ একত্রে শ্লোকটির আবেগ ও দর্শনকে প্রকাশ করেছে। প্রথমে আছে সংবাদ, অর্থাৎ জ্ঞানপূর্ণ সংলাপ। তারপর আছে অদ্ভুত, অর্থাৎ সেই সংলাপের বিস্ময়কর স্বরূপ। শেষে আছে রোমহর্ষণ, অর্থাৎ সেই সত্যের গভীর প্রভাব। এই ধারাটি মানুষের জ্ঞানলাভের একটি সুন্দর চিত্রও তুলে ধরে। মানুষ প্রথমে শোনে, তারপর বোঝে, তারপর বিস্মিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই সত্য তার অন্তরের গভীরে স্পন্দন সৃষ্টি করে।
দার্শনিক দৃষ্টিতে কৃষ্ণ ও অর্জুনের এই সংবাদকে মানবসত্তা ও পরমসত্তার মধ্যকার এক প্রতীকী সংলাপ হিসেবেও দেখা যায়। অর্জুন এখানে সংশয়গ্রস্ত মানুষের প্রতীক। তার হাতে অস্ত্র আছে, কিন্তু তার অন্তরে দ্বন্দ্ব। সে কর্মের সামনে দাঁড়িয়েও কর্মের প্রকৃতি বুঝতে পারছে না। কৃষ্ণ সেই অন্ধকারের মধ্যে জ্ঞানের আলো নিয়ে উপস্থিত হন। তিনি অর্জুনকে কেবল যুদ্ধ করার নির্দেশ দেন না। তিনি তাকে কর্মের প্রকৃতি, জ্ঞানের গুরুত্ব, আত্মার অবিনশ্বরতা, ইন্দ্রিয়সংযম, ভক্তি, যোগ এবং পরম সত্যের উপলব্ধির পথ ব্যাখ্যা করেন। তাই এই সংবাদ বাহ্যিক যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি একটি অন্তর্দ্বন্দ্বের সমাধানের পথ।
অদ্বৈত দর্শনের দৃষ্টিতে এই সংলাপকে আত্মা ও ব্রহ্মের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধির পথে একটি জ্ঞানযাত্রা হিসেবে দেখা যায়। বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে এটি জীব ও ঈশ্বরের সম্পর্ক এবং ভক্তি ও আত্মসমর্পণের গভীরতা প্রকাশ করে। দ্বৈত দর্শনে কৃষ্ণ পরম ঈশ্বর এবং অর্জুন তাঁর আশ্রিত জীবসত্তার প্রতীক। বিভিন্ন দর্শন তাঁদের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা রাখলেও একটি বিষয় সাধারণভাবে স্পষ্ট। এই সংবাদ মানুষের সীমাবদ্ধ দৃষ্টিকে অতিক্রম করে একটি বৃহত্তর সত্যের দিকে নিয়ে যায়।
মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিতেও এই শ্লোক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্জুনের সংকটকে একজন মানুষের অস্তিত্বগত সংকট হিসেবে দেখা যায়। সে জানে না কোন পথ বেছে নেবে। তার কর্তব্য ও আবেগের মধ্যে সংঘর্ষ তৈরি হয়েছে। কৃষ্ণের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে তার বিভ্রান্তি ধীরে ধীরে প্রশ্নে পরিণত হয়, প্রশ্ন জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায়, জ্ঞান তাকে নিজের অবস্থাকে নতুনভাবে দেখতে শেখায় এবং শেষ পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তি ফিরে পায়। এই অর্থে সংবাদ হলো অন্তর্দ্বন্দ্বের সঙ্গে জ্ঞানের সংলাপ। এটি মানুষের মানসিক পরিপক্বতার প্রতীক।
এই শ্লোকে প্রতীকী অর্থও অত্যন্ত গভীর। বাসুদেব কৃষ্ণ এখানে ঈশ্বরীয় জ্ঞান ও পরম চেতনার প্রতীক। পার্থ অর্জুন প্রতীক সংশয়গ্রস্ত মানবসত্তার। সংবাদ প্রতীক জ্ঞান ও অজ্ঞতার সংলাপের। শ্রবণ প্রতীক সত্য গ্রহণের প্রথম দ্বারের। অদ্ভুত প্রতীক সত্য উপলব্ধির বিস্ময়ের। আর রোমহর্ষণ প্রতীক সেই সত্য যখন মানুষের অন্তরকে গভীরভাবে স্পর্শ করে তখন সৃষ্ট আধ্যাত্মিক শিহরণের। ফলে একটি ছোট শ্লোকের মধ্যেই মানুষের সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক যাত্রার একটি প্রতীকী রূপরেখা পাওয়া যায়।
বাস্তব জীবনের দৃষ্টিতেও এই শ্লোকের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। মানুষ জীবনের নানা সময়ে সিদ্ধান্তহীনতা, দুঃখ, ভয় এবং সংশয়ের মধ্যে পড়ে। অনেক সময় সমস্যার সমাধান কেবল বাহ্যিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের মধ্যে থাকে না। বরং প্রয়োজন হয় এমন একটি জ্ঞানপূর্ণ সংলাপের, যা মানুষকে নিজের সমস্যাকে নতুনভাবে দেখতে সাহায্য করে। একজন জ্ঞানী শিক্ষক, একজন সত্যনিষ্ঠ বন্ধু অথবা নিজের অন্তরের গভীর বিবেকের সঙ্গে সংলাপ কখনও কখনও মানুষের জীবনের দিক পরিবর্তন করে দিতে পারে। কৃষ্ণ ও অর্জুনের সংবাদ সেই চিরন্তন মানবিক অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক রূপ।
এই শ্লোকের সবচেয়ে গভীর শিক্ষা হলো সত্যিকারের জ্ঞান কখনও কেবল তথ্যের সমষ্টি নয়। সত্যিকারের জ্ঞান মানুষের চেতনাকে পরিবর্তন করে। গীতার শিক্ষা অর্জুনকে কেবল নতুন কিছু তথ্য দেয়নি। তা তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছে। যে অর্জুন প্রথমে ভেঙে পড়েছিল, সেই অর্জুন শেষ পর্যন্ত নিজের কর্তব্য উপলব্ধি করে কর্মের জন্য প্রস্তুত হয়েছিল। এই রূপান্তরের মূল শক্তি ছিল সংবাদ। প্রশ্ন এবং উত্তরের মধ্য দিয়ে তার অন্তরের অন্ধকার ধীরে ধীরে দূর হয়েছিল।
অতএব “ইত্যহং বাসুদেবস্য পার্থস্য চ মহাত্মনঃ সংবাদমিমমশ্রৌমদ্ভুতং রোমহর্ষণম্” শ্লোকটি শুধু সঞ্জয়ের একটি স্মৃতিচারণ নয়। এটি শ্রবণের মাহাত্ম্য, জ্ঞানসংলাপের শক্তি, সত্যের বিস্ময় এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির গভীর আবেগকে একত্রে ধারণ করে। “সংবাদ” আমাদের শেখায় যে সত্যের সন্ধান অনেক সময় প্রশ্ন ও উত্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। “অদ্ভুত” আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সত্য উপলব্ধ হলে বিস্ময় জাগে। “রোমহর্ষণ” জানিয়ে দেয় যে গভীর সত্য কেবল মস্তিষ্ককে স্পর্শ করে না, তা সমগ্র সত্তাকে আন্দোলিত করতে পারে। আর “অশ্রৌষম্” আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সত্যের পথে প্রথম পদক্ষেপ হলো মনোযোগ দিয়ে শোনা। এই দৃষ্টিতে কৃষ্ণ ও অর্জুনের সংবাদ একটি প্রাচীন যুদ্ধক্ষেত্রের কথোপকথন হয়েও আজও মানুষের অন্তরের যুদ্ধের জন্য এক চিরন্তন জ্ঞানসংলাপ হয়ে আছে।
75
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!